অটোয়া, শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯
টরন্টো বাংলা বই মেলার সফল সমাপ্তি



 প্রেস বিজ্ঞপ্তি  

 উৎসাহ আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট ২০১৭, সকাল ১০.০০ টা থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত দ্যা রয়েল ক্যানাডিয়ান লিজিয়ন হল, ৯ ডজ রোড, টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয় ‘১১তম টরন্টো বাংলা বই মেলা’। 

সকাল ১১টায় ফিতা কেটে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী, তাঁর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার লুৎফুর রহমান রিটন। 
উদ্বোধনী বক্তৃতায় মেলার প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী বাংলা, বাঙালির সংস্কৃতি, ইতিহাস, সমাজ, কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক দীর্ঘ অথচ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে নতুন চিন্তা চেতনা ও ইতিহাসের অনেক অজানা বিষয় তুলে আনেন। মেলার বিশেষ অতিথি লুৎফুর রহমান রিটন তাঁর স্বভাব সুলভ বক্তব্যের মাধ্যমে বই ও বইমেলাসহ তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কবি মেহরাব রহমান এবং তাকে সহযোগিতা করেন জামান হাসিনা ও দিলারা নাহার বাবু। 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অরুনা হায়দার এর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে টরন্টো’র জনপ্রিয় নৃত্যস্কুল ‘সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন’। 

কানাডার ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক উন্মুক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাটি বয়সভিত্তিক তিনটি শাখায় বিভক্ত ছিল। এই পর্বটি পরিচালনা করেন শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন শিক্ষা কেন্দ্র ‘সম্পান’ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নূরুন্‌ নাহার সুপ্তি। তাঁকে বিচারক হিসেবে সহযোগিতা করেন ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি’র চিত্রকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী নীলাদ্রী নির্ঝরীনি কলতান। প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের পুরস্কিত এবং অংশগ্রহণকারী সবাইকে বইমেলার পক্ষ থেকে সনদ পত্র প্রদান করা হয়।   

সারা দিন ব্যাপী বইমেলার মূল আকর্ষণ ছিল উত্তর আমেরিকা কবিতা উৎসব, এবং সাহিত্য আলোচনা। কবি রূমানা চৌধুরীর সভাপতিত্বে কবিতা উৎসব এবং লেখক জসিম মল্লিকের সঞ্চালনায় আলোচনা -‘প্রবাসে সাহিত্য ও সংস্কৃতি ভাবনা’-য় অংশগ্রহণ করেন, কবি আসাদ চৌধুরী, লুৎফুর রহমান রিটন, সৈকত রুশদী হক ও সাদী আহমেদ প্রমুখ। সৈকত রুশদী হক বইমেলার স্যুভেনিয়ার এর জন্য নির্ধারিত লেখাটি যথাসময়ে দিতে না পারায় সাহিত্য আলোচনায় তা পাঠ করেন। 

কানাডার ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে টরন্টো বাংলা বই মেলাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যে টরন্টো বাংলা বই মেলার আয়োজক অন্যমেলার পক্ষ থেকে উত্তরীয় প্রধান করা হয়। এতে মেলার প্রধান ও বিশেষ অতিথি সহ মেলার জন্মলগ্ন থেকে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল (সৈয়দ ইকবাল উপস্থিত না থাকায় উত্তরীয়টি পরে পৌঁছে দেয়া হয়), সঙ্গীতশিল্পী রনি প্রেন্টিস রয় এবং কবি ও লেখক রূমানা চৌধুরীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মেলার প্রধান আয়োজক সাদী আহমেদ।    

সবশেষে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ পর্বের আকর্ষণ ছিল কাব্যনৃত্য ‘কাঁদো বিস্তীর্ন বনভূমি।’ এবং আমন্ত্রিত কন্ঠশিল্পী সারা বিল্লাহ এবং শহীদ খন্দকার টুকুর সঙ্গীত পরিবেশনা। এছাড়া ছিল ‘নৃত্যকলা কেন্দ্র’ ও ‘সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন’ এর নৃত্য পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির সামগ্রিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন জামান হাসিনা। 

বইমেলা উপলক্ষে চিত্রশিল্পী অভিজিৎ দাশ এর প্রচ্ছদ এবং ড. মাহতাব শাওনের সম্পাদনায় একটি সুদৃশ্য স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। 
বইমেলাকে সফল করতে বিভিন্নভাবে সাহায্য করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ এবং কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ‘১১ তম টরন্টো বাংলা বই মেলা’র সমাপ্তি টানা হয়।

প্রেরকঃ সাদী আহমেদ, অন্যমেলা, টরন্টো, কানাডা