অটোয়া, শনিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
অটোয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম মাহবুবুল হক স্মরণে আলোচনা সভা

আশ্রম সংবাদঃ গতকাল ২রা ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিটে ‘অটোয়া সিটিজেন’ অফিস অডিটোরিয়ামে টরন্টো থেকে আগত সাংবাদিক লেখক শওগাত আলী সাগর-এর উপস্থাপনা এবং ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন-এর সভাপতিত্বে সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহবায়ক আ.ফ.ম মাহবুবুল হক স্মরণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অটোয়ায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলা ক্যারাবানের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম মাহবুবুল হকের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে, মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ বখ্‌ত, মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক মাহমুদ হোসেন, রাজনৈতিককর্মী আনোয়ার হোসেন মুকুল, কাসেম আহসান, মোহাম্মদ আলীসহ আ.ফ.ম মাহবুবুল হক-এর জামাতা মোহাম্মদ কায়েছুর রহমান, একমাত্র কন্যা উৎপলা ক্রান্তি এবং জীবনসঙ্গী কামরুন নাহার বেবী।  

বিভিন্ন আলোচকের আলোচনায় ফুটে ওঠে, আ.ফ.ম মাহবুবুল হক ছিলেন, একজন আদর্শবান রাজনৈতিক নেতা, সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, ও মুক্তিযুদ্ধে বি এল এফ-এর রাজনৈতিক এবং গেরিলাযুদ্ধের অন্যতম প্রশিক্ষক। তাদের আলোচনার যথার্থতার প্রমাণ মেলে, তাঁর একমাত্র মেয়ে উৎপলা ক্রান্তি, জামাতা মোহাম্মদ কায়েছুর রহমান এবং স্ত্রী কামরুন নাহার বেবীর স্মৃতিচারণাতে। তাঁদের স্মৃতিচারণায় দেখা যায়, রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম মাহবুবুল হক জীবিত অবস্থায়, সর্বক্ষেত্রেই তাঁর দর্শন পৌছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।   
একমাত্র কন্যা ক্রান্তি যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির গল্প বলেন- ‘আমি খুব ছোট, স্কুলে গিয়েছি ভর্তি হতে কিন্তু শিক্ষিকা নাম রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে বললেন- তুমি তো আ.ফ.ম মাহবুবুল হকের মেয়ে, তোমার হিন্দু নাম কেন? এই নাম দেয়া যাবে না। আমি বাসায় বাবাকে বলার পর বাবা বলে দিলেন- শিক্ষিকাকে বল, এটি বাঙালি নাম। পরের দিন আমি শিক্ষিকাকে গিয়ে বলি – আপনাকে এই নামই লিখতে হবে, কারণ- এই নামে কোন সমস্যা নেই, এটি বাঙালি নাম’।     
জামাতা কায়েছ বলেন- ‘বাবার তো একাএকা চলাফেরা করতে অসুবিধা হতো। তাই তাঁকে দেখাশুনার জন্যে বাসায় নার্স আসতো। বাবা যখন খেতে বসতেন তখন তাদেরকেও খেতে ডাকতেন। বাবার কড়া নির্দেশ ছিল প্রতিদিন নার্সদেরকে খেতে দিতে হবে বিশেষ করে সবসময় চা দিতে হবে’।  
শুদ্ধ রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম মাহবুবুল হকের জীবনসঙ্গীনী কামরুন নাহার বেবী বলেন- ‘ ১৯৭৪ সালে একটি সমাবেশে আহত হয়ে তিনি আমার পিতার মাধ্যমে, আমাদের বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরিচয় থেকে ভাললাগা। তারপর ১৯৭৯ সালে বিয়ে। বিয়ের আগে আমার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই আমাদের এই সম্পর্কটিকে মেনে নিতে চান নি। কারণ উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তের সেই চিরাচরিত সংঘাত। আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে কেহ জিজ্ঞাসা করলে আমি বলতাম- আমার দোষ কী, তোমরা নিয়ে এসেছো! আমি একদিন তাঁকে আমার এইসব আত্মীয়ের কথা বললাম। তিনি শুনলেন- কিন্তু কিছু বললেন না। কয়েকদিন পর দেখি এইসব আত্মীয়ের সাথে উনি জমিয়ে কথা বলছেন। আমার রাগ হলো। আমি রাগান্বিতভাবেই তাঁকে বলি- ওরা আপনাকে-আমাকে মিশতে দিতে চায় না, আর আপনি ওদের সাথে কথা বলছেন। উত্তরে তিনি বললেন- ওদের দোষটা কোথায়? ওরা তো সমাজ-বাস্তবতার কথাই বলছে’।   

উল্লেখ্য যে, আজীবন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক বাহক, মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহবায়ক আ ফ ম মাহবুবুল হক গত ৯ই নভেম্বর, ২০১৭ বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১-০৭ মিনিটের সময় অটোয়া সিভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আ ফ ম মাহবুবুল হক, ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় রমনা পার্কে কতিপয় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতিকারীদের হামলার শিকার হন। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার স্টাফদের কথা অনুযায়ী- ‘এটা কোন গাড়ী চাপা ছিল না,  কোনও ছিনতাইও ছিল না। মাথায় একটি আঘাত ছাড়া শরীরের আর কোথায়ও কোন আঘাত এর চিহ্নই ছিল না’ এবং তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার বেবীর কথাতে-  ‘হাসপাতাল থেকে তিনি ফোনে বলেছেন- ওরা মেরে…গেছে…—এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আ.ফ.ম মাহবুবুল হক-কে হত্যা করার জন্যেই সেদিন সেই হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত সেই হামলার দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের সম্মুখিন করা যায় নি! সেই হামলার পর তিনি বেঁচে গেলেন ঠিকই কিন্তু হারিয়ে ফেললেন- চলনশক্তি, বাকশক্তি আর স্মৃতিশক্তির অনেককিছু…  

মেহনতী মানুষের জয় হোক।  

কবির চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা
ashram@live.ca

আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
(সংগৃহীত)

পারিবারিক
বাবা ফজলুল হক, এবং মা মরিয়মুন্নেছার সাত সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক। জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর, নোয়াখালি জেলার চাটখীল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। খুবই মেধাবী ছাত্র হিসেবে সকল আত্মীয় পরিজন এবং পরিবারের সবার গর্ব ছিলেন মাহবুব। মা বাবার অনেক আশা ভরসা ছিল মেধাবী পুত্রকে ঘিরে।
১৯৭৪ এ পরিচয় রাজনৈতিক সতির্থ কামরুন্নাহার বেবীর সাথে এবং বিয়ে করেন ১৯৭৯ এ। ১৯৮০ সালে কন্যা উৎপলা ক্রান্তি'র জন্ম। বর্তমানে ক্রান্তি কানাডাস্থ "Bank of Montreal" এ চাকুরীরত। ২০০৮ এর ডিসেম্বরে জামাতা কায়েস এর আগমন পরিবারে।

শিক্ষাগত
আ.ফ.ম. মাহবুব ১৯৬৪ সালে চিটাগাং মুসলিম হাই স্কুল থেকে চতুর্থ স্থানে মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং ১৯৬৬ সালে চিটাগং কলেজ থেকে এগারতম স্থানে উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি তে অনার্স পাস করেন। 

রাজনৈতিক:
আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক ১৯৬২ সালে স্কুল জীবনে শরীফ কমিশনের প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন এবং পুলিশী নির্যাতনের শিকার হন। 
১৯৬৭-৬৮ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নিযুক্ত হন।
১৯৬৯-৭০ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীণ স্বাধীনতাপন্থী স্বাধীন বাংলা নিউক্লীয়াস এর অন্যতম সদস্য, এবং সমাজতন্ত্রী ধারার রাজনীতিবীদ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বি. এল. এফ. এর রাজনৈতিক এবং গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম প্রশিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ম পালন করেন।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৩-৭৮ পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে কাজ করেন।
১৯৭৮-৮০ সালে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ১৯৮০ সালের শেষের দিকে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
১৯৮৩ সাল থেকে তিনি বাসদ(মাহবুব এর) আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করে যান।

কারাবরণ:
১৯৬৮ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৮ই নভেম্বর রাজনৈতিক হটকারিতার শিকার হন, এবং লেলিয়ে দেয়া পুলিশের গুলিবর্ষণে প্রায় নিশ্চিত্‌ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসেন। ১৯৭৬ থেকে ৭৮ সাল পর্যন্ত রাজবন্দি হিসেবে জেলে কাটান। ১৯৮৬ সালে আবার কারাবরণ করেন। এছাড়াও ১৯৯৫ সালে ঋণখেলাপী কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে মিথ্যা মামলার শিকার হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা, আপোষহীণ সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী রাজনীতিবিদ আ.ফ.ম. মাহ্‌বুবুল হক।

আরেক জীবন:
২০০৪ সাল
ডায়বেটিক রোগী হবার কারনে আ.ফ.ম. মাহ্‌বুবুল হক প্রতিদিন হাঁটতে যেতেন সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে একই জায়গায়, রমনা পার্কে। ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ও যথারীতি বেরিয়ে গেলেন হাঁটতে। অনেক অপেক্ষার পরে উনার স্ত্রী ফোন পেলেন হসপিটাল থেকে। এক ট্যাক্সি ড্রাইভার নিজ পরিচয় দিয়ে বললেন, - মাহ্‌বুব সাহেবকে উনি রমনা পার্কে ঢুকার মুখে ফুটপাথ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে আসেন। মাহ্‌বুব সাহেবই বাসার ফোন নং এবং স্ত্রীর নাম ও নিজের নাম বল্‌লেন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের কারো জন্য, তানাহলে রোগীকে ভর্তি করা যাবেনা। আ.ফ.ম. মাহ্‌বুব সাহেব ফ্যাকাসে গলায় ফোনে স্ত্রী কে শুধু বলতে পেরেছিলেন, - ওরা মেরে... গেছে...।  ক্রমসই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। কর্তব্যরত স্টাফ ও তাই বল্‌লেন। ডাক্তারের অবজার্বেশন অনুযায়ী এটা কোন গাড়ী চাপা ছিলনা, কোনও ছিনতাইও ছিলনা। মাথায় একটি আঘাত্‌ ছাড়া শরীরের আর কোথায়ও কোনো আঘাত্‌ এর চিহ্নই ছিলনা। তাছাড়া ২০০৮ সালে দেশে যাবার পরে উনী নিজেও ফুটপাথের ঐ জায়গাটি স্ত্রী এবং কন্যাকে দেখালেন। স্পস্টতই প্রতীয়মান: এই আঘাত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
ঢাকায় ছয় মাস ব্যাপী চিকিৎসার পরে তিনি বেঁচে গেলেন কিন্তু হারিয়ে ফেলেন চলন শক্তি, কথা, স্মৃতিশক্তির অনেকটুকুই। ২০০৫ এর মে মাসে তাকে নিয়ে আসা হল কানাডায় উন্নত চিকিৎসার জন্য। অটোয়া রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে প্রায় বছর খানেক চিকিৎসার পরে সম্পূর্ণভাবে না হলেও ফিরে পান চলন্‌শক্তি, স্মৃতিশক্তি (মেডিক্যাল এসেমেন্ট ৬০-৭০%), অনেকসময় ই এলোমেলো। কিন্তু হয়ে গেলেন প্রায় বাকশূণ্য। কোনো ব্যাক্তির নাম, জিনিস বা জায়গার নাম নিজে থেকে বলতে পারেন্‌না। যেই আ.ফ.ম. মাহ্‌বুবুল হকের বক্তৃতা ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ মুগ্ধ হয়ে শুনত, তিনি হয়ে গেলেন কয়েকটি ছক বাঁধা কথার মধ্যে বন্দী। এটাই হয়তো উনার জীবনের সবচেয়ে বড় হার। 

২০০৯ সাল:
আগের অসুস্থতার জের ধরে ২০০৯ এ কানাডায় আবার শিকার হন Seizure   এটাক এবং ব্রেইন হিমোরেজ এর। আবারো আক্রান্ত হন আগের সব বিকলাঙ্গতায়। সাত মাস ধরে সিভিক এবং মন্টফোর্ট হসপিটালে চিকিৎসার পর আবারো ফিরে আসেন পারিবার এবং সতীর্থদের কাছে। তবে এবার রিকভারী আগের চাইতে অনেক কম। 

২০১৭ সাল:
সর্বশেষ ২০১৭ তে ২৫ শে সেপ্টেম্বর আবারো পড়লেন Seizure   এটাক এবং ব্রেইন হিমোরেজ এর করাল গ্রাসে। এবারের রক্তক্ষরনের মাত্রা অনেক বেশী। আর ফিরে এলেন্‌না তিনি। মাত্র দেড় মাসের মাথায় ৯ই নভেম্বর রাত ১১ টা ৭ মিনিটে অটোয়া সিভিক হসপিটালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন কমরেড আ.ফ.ম. মাহ্‌বুবুল হক। পেছনে রেখে গেলেন অসংক্ষ্য গুণগ্রাহী এবং পরিবার পরিজন। 

আ ফ ম মাহবুবুল হক

স্ত্রী, কন্যা ও জামাতাসহ আ ফ ম মাহবুবুল হকএকমাত্র মেয়ে ক্রান্তির সাথে

আ ফ ম মাহবুবুল হক

কামরুন নাহার বেবী

মা এবং মেয়ে

উৎপলা ক্রান্তি

মোহাম্মদ কায়েছুর রহমানশওগাত আলী সাগর



উপস্থিত সুধীবৃন্দের নিরবতা পালন

শাহেদ বখ্‌ত

নূরুল হক

ফারুক হোসেন

আনোয়ার হোসেন মুকুল

কাসেম আহসান 

মোহাম্মদ আলী

শোক বই-এ স্বাক্ষর করছেন, সৈয়দ ফারুক আনোয়ার মিন্টু

লুৎফর রহমান রিটন