অটোয়া, সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯
অধিকার আদায়ের কান্ডারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু

 - শেখ নুরুজ্জামান রনি 

ধিকার আদায়ের সংগ্রামে কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। বাঙালিকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের পর বিপর্যস্ত বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। শোষণমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ উন্নত একটি দেশ হিসেবে প্রিয় বাংলাদেশকে গড়ার জন্য দেশের সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরেকটি সংগ্রাম শুরুর আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি, শিল্প, ব্যবসা বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুচিন্তিত ও সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তখন থেকেই বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায় সামিল হয়েছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে যখন প্রাণের সঞ্চার হচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য নেতৃত্ব যখন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পথ চলতে শুরু করেছিল তখনই তাকে হত্যা করে বাঙালির অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার নীলনকশা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে অন্ধকার অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়া সম্ভব হবে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখতে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেছে বিভিন্ন সময়ে।

পাশাপাশি অধিক জনসংখ্যার চাপ, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বল অনুন্নত অবকাঠামো বার বার বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ৭১’এর অবাক করা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে প্রমাণ করেছিল কঠিন বাধা অতিক্রম করে সব অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে অদম্য। বাংলাদেশের মানুষকে জোর করে দমিয়ে রাখতে চেয়েও পারেনি পাকিস্তানি শোষক শাসক গোষ্ঠী। তেমনিভাবে স্বাধীনতা লাভের পর ৪৬ বছরে ধীরে ধীরে হলেও অনেক দূর এগিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জনকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মহামন্দায় যখন অনেক উন্নত এবং শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ দিশেহারা, বিপর্যস্ত তখনও বাংলাদেশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঠিক এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধির দিকে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন আর আগের মতো হতাশা নয় বরং প্রত্যাশার উজ্জ্বল ধারণার বিকাশ ঘটেছে আন্তর্জাতিক বলয়ে। সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশ।  

কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কারণে এক সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছিল না, অথচ এখন বাংলাদেশ শুধুমাত্র কৃষির ওপর নির্ভর করে নেই। শিল্পক্ষেত্রে চমৎকার বিকাশ ঘটেছে এখানে। তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক সামগ্রী, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি শিল্পের অভাবনীয় অগ্রগতি বাংলাদেশকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আমাদের এখানে কর্মসংস্থানের বেশ ভালো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় তৈরি পোশাক শিল্পে নারী জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার গোটা অর্থনীতিতে দারুণ গতি এনে দিয়েছে। যারা আগে ছিল ঘরের চার দেয়ালে বন্দি, সেই নারী এখন জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশের কৃষি গত ৪৬ বছরে ধীরে ধীরে এগিয়েও বেশ ভালো একটি জায়গায় পৌঁছেছে। আগে বিদেশ থেকে যেখানে খাদ্য আমদানি করতো বাংলাদেশ, অথচ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে জনসংখ্যা অনুপাতে। ফলে খাদ্য ঘাটতির বদনাম আর নেই। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, রফতানির পরিমাণ বেড়েছে, রফতানি পণ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পণ্য, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে রিজার্ভের পরিমাণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখানকার জনশক্তির বিপুল চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙ্গাভাব বজায় থাকবে আশা করা যায়। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশের ক্রমান্বয়ে অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার বিষয়। এখানকার শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে, শিক্ষার হারও বেড়েছে, বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব ও সাফল্যের প্রমাণ দিয়ে অবাক করছে। প্রতিবেশি কয়েকটি দেশের চেয়ে সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার বিষয়গুলো খুব সহজেই চোখে পড়ছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, পাকিস্তানের তুলনায় বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকায় তাদের ভ্রূ কুঁচকে উঠেছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্রিকেট অঙ্গনে গত দেড় দুই দশকে বাংলাদেশের উত্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খ্যাতি ও পরিচিতি বিশ্বময় এখন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উজ্জ্বল চিত্রটি ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়াজুড়ে।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

শেখ নুরুজ্জামান রনি 
ঢাকা, বাংলাদেশ