অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
উনার সাথে ছবিটি তুললাম - রাজিউল হোদা দীপ্ত

(পুরো লিখাটা একটি ব্যক্তিগত ডায়েরী থেকে নেয়া। সাধু ভাষায় রচিত কাহিনীটি, পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে চলিত ভাষায় রুপান্তরিত করা হয়েছে)

সাল ১৮৯৭। ব্রিটিশ সরকার দাপটের সাথে ভারতবর্ষ শাসন করে যাচ্ছে আর আমরা শাসিত হয়ে যাচ্ছি। ১০ই মে আমি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি মেজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছি। তার ঠিক এক মাস পর, ১০ই জুন আমি আমন্ত্রণ পাই নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ীতে যাবার। সেখানে রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদানাথ রায় তিনদিনব্যাপী বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক অধিবেশন আয়োজন করেছেন।

আমি বাঙ্গালী হলেও, আমাকে এইটা মাথায় রাখতে হতো যে আমি ব্রিটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তা। আমার একটা আলাদা ভাব এবং দাপট থাকাটা বাঞ্চনীয়। প্রতিটি অধিবেশনের শেষের দিন থাকতো, সরকারী মানুষজন এবং সমাজের বিভিন্ন বরেণ্য মানুষদের রাতের খাবারের দাওয়াত। আমাকে সেখানেই ডাকা হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় ডেপুটি মেজিস্ট্রেট হয়ে উঠা এই আমি, রাজবাড়ীর থালা বাসনে খাবার খাওয়ার এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি। তাই, ক্যাপ্টেন স্টিভেন এর সাথে চেপে বসলাম ঘোড়ার গাড়িতে। উদ্দেশ্য, সরদা ক্যাম্প থেকে নাটোর রাজবাড়ী যাবার। ৪ ঘন্টার সফর। সাথে আধা রসিক স্টিভেন সাহেব সিনিয়র। জার্নিটা কেমন হতে যাচ্ছে, প্রেডিক্ট করতে পারছি না।

গত দুইদিন প্রচন্ড রকমের বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় কাঁদা। যে দুইটা ঘোড়া আমাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে তার একটির নাম ‘কাসিমালা’ অন্যটা 'বয়জন্তি'। সেসময় নারী বিদ্বেষী মনোভব আমাদের আকাশে-বাতাসে থাকলেও ঘোড়া কেনা এবং ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ যাচাই করবার কোনো ইচ্ছা কারো মনে ছিলো না। প্রয়োজনের স্বার্থে আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে ব্যবহার করতে পারতাম। স্বার্থপরতা আমাদের রক্তে জন্মেছে তখন থেকেই।

কাসিমালা আর বয়জন্তি আমাদেরকে দারুণজোরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। স্টিভেন আমাকে বললেন, “রাজিউল, তুমি নিশ্চয় এই প্রথমবারের মতো এমন একটা বাঙ্গালী প্রোগ্রামে যাচ্ছো?” আমি বললাম, “সত্যি বলতে শুধু বাঙ্গালী না। আমি এই প্রথম এমন একটা এতো বড় প্রোগ্রামে যাচ্ছি।” তিনি বললেন, “সেটা তোমার গাড়িতে উঠবার সময়েই আমি বুঝতে পেরেছি।” আমি বললাম, “কিভাবে?” স্টিভেন বললো, “চুলগুলো উপর দিকে না তুলে, ব্যাক ব্রাশ করা ডান দিকে। আমরা যখন বাঙ্গালী প্রোগ্রাম এটেন্ড করি, চুল বড় থাকলে সবসময় তা উপরের দিকে তুলে রাখি।” আমি বললাম, “কেনো?” উনি বললেন, “উপরে উঠিয়ে রাখাটা আমাদের উপরের অবস্থানকে বোঝায় আর ডান দিকে ব্রাশ করে রাখাটা তাদেরকে সম্মান জানানো বোঝায়। চুলটা উপরে তোলো।”

আমার কান অবধি কেবল কথাটা পৌঁছিয়েছে আর প্রচন্ড শব্দে বয়জন্তি ডাক দিয়ে উঠলো। আমাদের ঘোরসাওয়ার আবদুলকে ডাক দিলাম কি হয়েছে জানবার জন্য। আবদুল জানালো, একটি ঘোড়ার পা কাদায় ঢুকে গেছে। একটু সময় নাকি লাগবে। গরমের রাত, কিন্তু আজ কেনো যেনো কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে আছে চারপাশ। প্রায় গরমের রাতে দেখেছি ইদানিংকালে কুয়াশা পড়ে খানিকটা। অনেকে বলে, ব্রিটিশ জাত নাকি ইংল্যান্ড থেকে বারুদ, বুদ্ধি আর বরফহীন কুয়াশা সাথে করে নিয়ে এসেছে।

আমি বাইরে বের হলাম। হ্যাঁ, ঠান্ডা। নাক শিরশির করছে আমার। আমরা একটা জমির মধ্যে এসে পড়েছি। আবদুলকে জিজ্ঞেস করলাম, এইটা কোন জায়গা। সে জানালো এইটা বাঘা। দেখলাম, স্টিভেন সিগারেট ধরিয়েছে। আমি কেবল চাকরী পাওয়া যুবক। প্রথম মাসের বেতন বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিছু টাকা আবার জমিয়েছি। আমার একটা সাহেবী গাড়ি কিনার শখ আছে। যদিও, তার শখ এখন মিটে যাচ্ছে সরকারী কাজ করার সুবাদে প্রায় প্রতিদিন এই সব গাড়ীতে চড়ে। তারপরেও, এক অজানা আশা নিয়ে আমি টাকা জমাচ্ছি। গাড়ি কিনবো। তাই অহেতুক খরচ যেমন, গায়ে সুগন্ধি বাতাস লাগানো কিংবা মুখ দিয়ে সুগন্ধি বাতাস উড়ানো আপাতত আমি বন্ধ রেখেছি।

আমি গাড়ি থেকে নামলাম। আধা কেজি কাদায় আমার সরকারী বুট ডুবে গেলো। আমি পরোয়া করলাম না। আমার নিজের জিনিস না। অফিসে ইস্যু করলেই, কিছুদিন পর আরেকটা আসবে। আমি ঘোড়ার গাড়ির সাথে নিজের গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। স্টিভেন গাড়ির কামড়ার পর্দা সরিয়ে ধোয়াঁ উড়ালো। আমি দাঁত চিপে তা সহ্য করলাম। সে, আমার কানের কাছে এসে বললো, “এই নাও সিগারেট খাও। আমি সহজে সিগারেট ভাগ করি না। কিন্তু, একান্তই ব্রিটিশ বলে ভদ্রতার খাতিরে শেয়ার করা।“ আমি সিগারেটটা হাতে নিয়ে বললাম, “আমিও নিতান্তই সিগারেট খাইনা। কিন্তু, বাঙ্গালী তো। শেয়ার করা জিনিস, ফেলতে পারিনা।“

সিগারেটে একটা টান দিতেই, স্টিভেন বললো, “তুমিকি গেস্ট লিস্টটা দেখেছো?” আমি বললাম, “না। এই প্রোগ্রামে যে আমিই গেস্ট সেটা ভেবেই ভালো লাগছে।“ স্টিভেন বললো, “না, আমিও লিস্টটা দেখতামনা। কিন্তু, সুভাষচন্দ্র আর বিবেকানন্দ ছাড়াও আর একজনের নাম দেখে আমার চোখটা আটকিয়ে গেলো। তাই, তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম।“ আমি বললাম, “সুভাষ দা আর স্বামী বিবেকানন্দ আসছেন?” স্টিভেন আমার হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে বললো, “যাক, তাহলে তৃতীয় ব্যক্তিটার নাম আমি না বলি।“ আমি আগাগোড়া বাঙ্গালী। রক্তে ego দৌড়ায় শুধু। একবার রিকোয়েস্ট করতে যাচ্ছিলাম বলবার জন্য। পরেই ভাবলাম, যত রিকোয়েস্ট করবো ততই পেঁচাবে এই জাত।

একটা অনুষ্ঠানে আমি, সুভাষ আর বিবেকানন্দ যে গেস্ট হয়ে যাচ্ছে এইটাই আমার কাছে অনেক। আর, কিছু শুনতে চাইনা। নাটোর রাজবাড়িতে গিয়ে পৌছালাম। গেটের বাইরে, মানুষের ভীড়। আমরা দুইজন ভেতরে ঢুকলাম। মেইন গেইট দিয়ে ঢুকলে দেখা যাবে, একটা লম্বা রাস্তা একটা ফোয়ারার নিচ দিয়ে চলে গেছে, তার উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে আমাদের ভেতরে যেতে হলে। গেইটের বিশাল আকৃতির ঘড়িটায় আলো জ্বলছে। আলো না কি রেডিয়াম, জানা নাই। যদি, আলো হয়ে থাকে এতো বিশাল ঘড়িকে কত বিশাল প্রদীপ বা আলোকিত করতে পারে? বাগিচা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, আমি আর স্টিভেন। বাগানে কিছুটা মানুষের সমাগম। সবার হাতে কাঁচের গ্লাস। এই কাঁচ অন্ধকারে জ্বলছে। জ্বলছে, নাকি তার মধ্যে থাকা বস্তুটার রঙ এমন বুঝতে পারছিনা। ছয় সিঁড়ি পা মারিয়ে উঠে, একটা খালি জায়গার সামনে আসলাম। সিঁড়ি দিয়ে, উঠবার কালে লক্ষ্য করলাম হাতের ঠিক বাম দিকে একটা যুদ্ধের সময় সৈন্যদের পড়ার লোহার তৈরী কস্টিউম দাঁড় করে বসানো আছে। অন্ধকারে, দেখে আমি একটু ভড়কে গিয়েছিলাম। এই দিকটায় একটু অন্ধকার। রাজবাড়িতে যদি আসরের দিন বাসার কোনো জায়গায় অন্ধকার দেখা যায়, তবে ভেবে নিতে হবে সেই অন্ধকার এক জাকজমকপূর্ণ স্থানে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।

দুই পা আগাতেই, কালো কাঠের বানানো দরজা পার করতেই দেখলাম উপরে বাতি জ্বলছে। ক্রিস্টাল দিয়ে বানানো ফুলঝুরি। সেটা শুধু জ্বলছেই না, বরং ঘুরছে। কানে আসছে, মানুষের গল্প করবার আওয়াজ আর হুক্কার শব্দ। অনেক মানুষ বলা যাবেনা, তবে পরিবেশের ভারিক্কি আর আয়োজন দেখা অনেক কিছু মনে হচ্ছে। স্টিভেন বললো, “আসো, রাজা সাহেবের সাথে কথা টা সেরে নিই। নাহলে আবার মাইন্ড খাবেন।“ আমি স্টিভেনের সাথে চললাম। স্টিভেন বিশাল বড় করিডরটা পার করে একটা কামরা ধরনের জায়গার মধ্যে ঢুকেছে। এইটা আড্ডাখানার মধ্যে যেনো আরেক আড্ডাখানা। বুঝলাম, ক্লাশিফিকেশনের ছোঁয়া ব্রিটিশরা দারুণভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে আমাদের মধ্যে। সবখানেই এর সমান প্রয়োগ করছি আমরা। রাজা প্রমদানাথ রায় একটা মখমলের চাদর গায়ে জরিয়ে রাখবেন আর মাথায় থাকবে একটা গোলাকৃতির টুপি এবং পায়জামা, এমনটা ধারণা ছিলো আমার। কিন্তু, উলটো। মোচ টা ঘুরানো ছাড়া আর কোনোকিছু ধারণার সাথে মিলেনি। রাজা মশাই একটা সাদা ধূতি আর ক্রিম কালারের শাল গায়ে জড়িয়ে রেখেছেন। ব্রিটিশদের আনা কুয়াশা তাকে কাঁপাতে যে পারছে না, সেইটা বলাই লাগে। স্টিভেন এগিয়ে গিয়ে কুশলাদি করলো এরপর আমি। রাজা আমার হাতে একটা শরবতের গ্লাস ধরিয়ে দিয়ে সাধু ভাষায় যা বললেন তা চলিত ভাষায় এমন শোনায়, “তুমি একজন বাঙ্গালী হয়ে এই জায়গায় আসতে পেরেছো দেখে ভালো লাগছে। আজকের অনুষ্ঠানে আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, তিনজন এমন বাঙ্গালী দৃষ্ঠান্তকে সাথে পেয়েছি। যদিও দুইজন চলে গিয়েছেন। তুমি জানো তারা কারা?” স্টিভেন আমাকে দুই জনের নাম বলেছিলো। আমি সেটার উপর বেসিস করেই বললাম, “রাজা রামমোহন, সুভাষ চন্দ্র আর……” আমি আটকিয়ে গেলাম। রাজার পাশ দিয়ে এক পেয়াদা হেঁটে গেলো। আমাদের দাঁড়ানোর জায়গা আর একটা সোফার মধ্যে খুব কম ফারাক ছিলো। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ঠিক উলটো মুখো হয়ে রাখা আছে সোফাটা। স্বভাবতই, যিনি এই সোফায় বসেছেন উনিও ঠিক উলটো হয়েই বসে আছেন। রাজা পেয়াদাকে জায়গা করে দেয়ার জন্য, একটু সরে দাঁড়াতেই আমার দুই চোখ ঠিক সোফাটার উপর পড়লো। সেখানে বসে থাকা লোকটা তার বাম দিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। খুব বড় সাদা টুপি মাথায় পড়া, একটা মোহ দিচ্ছে সবকিছু। উনাকে চিনি। প্রতিদিন দেখি। আমি ঠিক দেখছি না ভুল, সেটা বিচারের সময় এখন না। আসল কথাটা হচ্ছে যে, এখন দাঁড়িয়ে সামনাসামনি দেখছি। সোফায় বসে থাকা লোকটা সাধু ভাষায় বলে উঠলেন, “প্রমদ, তোমাকে পেয়ালাটা এগিয়ে দিতে বলেছিলাম কিন্তু তুমি পেয়াদা ডেকে বসে আছো। মানছি, দু’টোকেই পাত্র বলে ডাকা যায়। কিন্তু, পার্থক্য কি নেই?”

আমার গা শিউরে উঠলো। ইনি কি তিনি? আমাদের রবীন্দ্রনাথ? যাকে দেখে দিন শুরু, যাকে শুনে আমার এতোগুলো বছরের ্প্রতিটা দিনের মানে খুঁজে পার করেছি, লিখতে শেখার আগে আমি যাকে পড়তে শিখেছি ইনিইকি তিনি? বাবা বলেছিলেন, পড়াশুনা কর হে বাহে। রবির মত হতে পারবি। আজ আমি ঠিক তার পেছনে দাঁড়ানো, ঠিক পেছনে। স্টিভেন আমার মোহ কাটালো। রাজা প্রমদনাথ বললেন, “রবিদা, আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।“ এই বলে, উনি আমাদের দুইজনকে সামনে এগিয়ে আসবার ইশারা দিলেন। আমি কি করে আগায়? ব্রিটিশ জুতো যে, শক্ত হয়ে পাহাড় হয়ে গিয়েছে। স্টিভেন এগিয়ে গেলো। আমি এগিয়ে না গেলে যে, জাত যাবে। আমি সোফায় হাত দিয়ে এগিয়ে গেলাম। রবি ঠাকুরের ঘাড়টায় আমার ডান হাতের সবচেয়ে ডান দিকের আঙ্গুল একটু ছোঁয়া পেয়েছে। কখনো ছুঁয়ে দেখা যদি না হয় আর। তাই, বাহানায় ছুঁয়ে নেয়া। আমি সামনে গিয়ে, পা ছুঁতে গেলাম। উনি পা দু’টো সরিয়ে নিয়ে বললেন,”খুব প্রয়োজন আছে কি?” রাজা প্রমদানাথ বললেন, “ও স্টিভেন। সারদা হেড কোয়ার্টারের জেলটা দেখছেন। আর, ও রাজিউল। নর্থের বর্তমান ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।“ রাজা প্রমদানাথ আমাদের বসালেন। রবি ঠাকুরের ঠিক সামনে আমাদের বসালেন। মখমলের চাদর ঘেরানো এই ঘরটায় আর কেউ নেই। আমরা চারজন। আমি ভালো করে দেখলাম। চোখ তিনবার পাতা ফেলে চেয়ে রইলাম। মুখে ভাঁজ, কিন্তু সুন্দর। চোখে সাদা অংশটায় দাগ, কিন্তু সুন্দর। হাত বলিষ্ঠ, তবে ঝুরিঝুরিত্ব কিন্তু সুন্দর। ছবির থেকে একদম অন্যরকম লাগে কেনো? সাদা কাঁচের চশমাটা চোখের ভারিক্কি রাখেনি, এনেছে মায়া।

রবি ঠাকুর স্টিভেনকে বললেন, “আচ্ছা, তোমাদের মহারানি এই বঙ্গতে আসবেন না কি আর কখনো?” স্টিভেন বলল, “সামনে বছর আসবে শুনলাম, স্যার।“ বাম দিকের আঙ্গুলটা ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে বললেন, “ঠিক জানোতো? উনার কি মসলিন শুঁকেও এদিকে আসতে ইচ্ছা করেনা?” আমি হাসলাম। উনি বললেন, “রাজিউল, কই বসবাস?” প্রথমেই বলেছি, ব্রিটিশ রাজের আওতায় কাজ আমার এখন। একটা ভাব থাকা চায়। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সামনে আমার সেইটা মোটেই আনতে পারছিনা চেষ্টার পরেও। উনি তো ঘরের লোক। আমার ঘরে, উনার ছবি হয়ে, বই হয়ে, গান হয়ে এতোকাল বসবাস। কিভাবে, উনাকে আলাদা ভাববো। নিজেকে সামলে নিয়ে জানালাম,”আপাতত সারদা ক্যাম্পে আছি।

প্রমদ বললেন, “আমরা একটু বাইরে যাই। সবাই অপেক্ষা করছেন রবিদার সাথে দেখা করবার জন্য।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উঠে দাঁড়ালেন। উনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখা হচ্ছে।” আমি মাথা নাড়ালাম। দেখলাম, স্টিভেনও মাথা নাড়াচ্ছে। তাহলে, রবি ঠাকুর আমাকে বললেন নাকি তাকে? নাকি, পেছনে টাঙ্গানো কৃষ্ণের ছবি দেখে শুধু বললেন দেখা হচ্ছে?

আমরা সবাই বেরিয়ে আসলাম। রাজা বললেন, আমরা যেনো নিজেদের মতো করে উপভোগ করি। রবীন্দ্রনাথ সামনে ভীড়ের মধ্যে মিশে গেলেন। আমার একবার মনে হলো, আমি কি উনাকে হারাচ্ছি? উনার সাথে দেখা করবার সুযোগ আর আসবে না? এইটা আমি হতে দিবোনা। ওই বাক্সের মধ্যে আমি রবি ঠাকুরের সাথে বদ্ধ হতে চাই। একটা বাক্স ইদানিং খুব সাড়া জাগাচ্ছে পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে। নাম, ক্যামেরা বা আলোর খেলা। চোখ লাগিয়ে টিপ দিলে, ছবি উঠে। আঁকা নয়, জলজ্যান্ত ছবি। একটা ছবি আমার লাগবে। তাতে যাই হয়ে যাক।

ইতোমধ্যে স্টিভেন দুই-তিন গ্লাস ভোদকা মেরে দিয়েছে। কিন্তু, প্রেমিকের মতো আমি রবীন্দ্রনাথের দিকে তাকিয়ে আছি। উনি একটি কুঁজো হয়ে আছেন। হাত দুইটা পেছনে রাখা এবং একটা আরেকটার সাথে জোড়া লাগা। প্রমদানাথ বাকি অতিথিদের সাথে উনার কথা বলাচ্ছেন। অন্যদের উনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথের পরিচয় কেউ নিচ্ছেনা, দরকারও নেই। উনি এমন একজন মানুষ, খাতায় উনার লেখা নামটা একবার কেউ দেখলে মনের মধ্যে যে ছবিটা আঁকা হয়ে যায় তাই রবীন্দ্রনাথ। হুম হয়তোবা প্রতিটা বাঙ্গালী একদম আলাদা করে মনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে আঁকেন কিন্তু, সবার আঁকাটাই ঠিক। সবকয়টাই রবীন্দ্রনাথ।

অতিথিদের মধ্যে অনেকেই ব্রিটিশ, ফরমাল পড়া। রবীন্দ্রনাথ যখন সবার সামনে যাচ্ছেন কিংবা হাঁটছেন, উনার ঘাড় কুঁজো ঠিকই হয়ে আছে। কিন্তু, উনার মাথা একবারের জন্যও কুঁজো হয়নি। এটিকি ফিরিঙ্গিদের সামনে মাথা হেট না করবার ধরণ? সেই টাও হতে পারে। আমি একটা কোণায় দাঁড়ানো। স্টিভেন মদ খেতে খেতে আবার হাই হয়ে গেলে, তাকে সামলানো তো দরকার। উপরে ঝুলতে থাকা ফুলঝুড়িটা ঘুরার সাথে সাথে এইবার টুংটাং শব্দ করছে। আমি আশেপাশে তাকালাম। ডান দিকে তাকাতেই দেখি, রবীন্দ্রনাথ দাঁড়ানো। একদম আমার গা ঘেষে। আমার ডানে। উনি এক পেয়ালা গরম কিছু একটা খাচ্ছেন। এই দিকটা একটু কোণার দিকে। স্বভাবতই, লোকজন এর আনাগোনা খুব একটা নেই। রবি ঠাকুর, চুমুক দিচ্ছেন আর সামনে তাকিয়ে আমার মতোই মানুষজন দেখছেন। আমি কিভাবে কথা শুরু করবো বুঝতে পারলাম না। আমিকি আদৌ কথা বলবো? আমাকে অবাক করে দিয়ে রবি ঠাকুর সাধু ভাষায় বললেন,“রাজিউল, মানুষ দেখে কি বোঝা যায়?” আমি একটু চিন্তা করে বললাম,“গতি বিধি?” উনি বললেন, “না, রীতিনীতি।” গতিবিধি কার কেমন হবে, সেইটা রীতিনীতি ঠিক করে দিয়েছে আর সবাই সেভাবে চলছে।" আমিও উনার সাথে মানুষ দেখতে লাগলাম। আমি বললাম,“আচ্ছা, আপনার কেমন লাগে যখন মানুষ এতোবার আপনার নাম জপে? দেখেন, যখন সবাই আপনাকে চেনে আপনার তখন কেমন লাগে?” রবীন্দ্রনাথ আমার দিকে তাকালেন। উনার মুখের ভাবটা এখন কেমন বলতে পারছিনা। একেতো এদিকে একটু অন্ধকার, তার উপর উনার মুখ গোঁফে ঢাকা। শান্তি দেয়া সফেত গোঁফ।

উনি বললেন,“প্রায় সময় ভালো লাগেনা। কেউ আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করে না, ভাল লাগেনা। কতদিন কেউ আমাকে বলেনি 'এই বুড়ো নাম কি তোমার?” আমি এইটা শুনে হাসি দিলাম। রবীন্দ্রনাথ হাসলেন না। এইবার উনি গম্ভীর, আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু, রসিকতাতে উনি হাসলেন না কেনো বুঝলাম না। হয়তো বা, উনার মানের রসিকতার সাথে আমার মান মিলে না। কিংবা, উনি হয়তো উনার নিজের করা রসিকতায় হাসেন না।

আমরা আবার মানুষ দেখছি। রবীন্দ্রনাথ একটি গলা ঝাড়লেন। আমি বললাম, আপনি বর্তমানে কি লিখছেন? উনি বললেন, “কিছুই না। শুধু এক চামচ কষ্ট আর দুই চামচ রসিকতা। এই দিয়েই গুলে দিবো।“ আমি কিছু না বুঝে মাথা নাড়ালাম। উনার হাতের কাপটা দিয়ে আর গরম কোনো ধোঁয়া বের হচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথ আমার দিকে তাকালেন। আমি সামনে তাকিয়ে থেকেও বুঝলাম যে, উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। একটা এক গোছা সাদা মলিন চুল এবং দাঁড়ি সমেত লোক আপনার দিকে তাকিয়ে থাকলে, কলংকের থেকেও কালো অন্ধকারের মধ্যে আপনি বুঝতে পারবেন। আমিও উনার দিকে তাকিয়েছি। উনি আমাকে দেখে বললেন,"তোমার নাম কি?” আমি খুব ভালো মতোই জানি উনার আমার নামটা মনে আছে। কারণ, এইখানে এসেও উনি আমার নাম ধরে ডেকেছেন। আমি বললাম,“জ্বি?” উনি বললেন,“জ্বি, তোমার নামটা কি?”

আমি বললাম,“রাজিউল।” এরপর আমি চুপ হলাম। উনি বললেন,“সামান্য আদব হচ্ছে কেউ তোমার নাম জিজ্ঞেস করলে, তাকেও উনার নাম জিজ্ঞেস করা উচিত।” আমি বললাম, “আমি তো আপনাকে চিনি।“ উনি বললেন,“কিন্তু আমিতো আমাকে তোমার কাছে আমার মতো করে জানাতে চাই। বল, আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করো।” আমি এখন ভীষণ থতমত। দৈহিক গম্ভীর কিন্তু চিকন গলার মানুষটা একটা আদেশ করেছেন, তাই পুরোটা অস্বস্তিতে পরেও আমার জিজ্ঞেস করা লাগলো, “তো, আপনার নামটা কি?” উনি গলা তুলে বললেন,“আমার নাম রবীন্দ্রনাথ।” এইটা বলার পর একটা নিশ্বাস নিলেন, স্বস্তির নিশ্বাস। আমাকে বললেন,“অনেকদিন পর, নিজের নাম কাউকে বললাম। চলো, একটা খেলা খেলা যাক। পরিচিতি খেলা। মনে করো, আমাকে তুমি চেনো না, আর আমি তোমাকে চিনি না। আপনি এখন পরিচিত হই।” আমি বললাম, সহজ কিছু খেললে হয়না?“ উনি বললেন, উনার এইটাই খেলতে মন চায়ছে। আমি উনাকে চিনি, আমার বাবার রবীন্দ্র প্রীতির কারণে অত্যন্ত ভালোভাবেই উনাকে চিনি। বহির্বিশ্বও উনাকে অক্ষরেঅক্ষরে চিনছে। তার সাথে নতুন করে পরিচিত আমি কিভাবে হই। তার, পরেও শুরু করা যাক। উনি বললেন, "রাজিউল, তুমি পেশাগত ভাবে কোন কাজে নিয়োজিত?” আমি বললাম,“ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছি। আর, আপনি?” রবীন্দ্রনাথ একটু ভাবলেন, তারপর বললেন “কোন পরিচয় দিই তোমাকে? নিজের বানানো কোনো পরিচয় তো নেই। পৈতৃক সূত্রে, হলাম জমিদার। শখের বশে লিখলে, লোকজন বানালো কবি, জানিনা কি এমন শিক্ষা দিয়েছি তবুও মানুষ বানালো গুরু। আচ্ছা, একটা পরিচয় আছে। আমি কিছুটা ভালো পেইন্টার। এই একটা কাজ, আমি নিজের জন্য করি।” আমি শুধু অবাক হয়ে হাঁ করেই দাঁড়িয়ে রইলাম না, অস্থির হতে লাগলাম। এই মাপের একজন কবি, তাকে পেইন্টার বলে পরিচিত করাচ্ছেন। আমি বললাম,“ আচ্ছা, আপনি কোথায় থাকেন?” রবি বাবু এইবার একটি দ্বিধায় পড়লেন। চিন্তা করলেন। তারপর বললেন,“দুই বাংলায়।” আমি বললাম,“কোন বাংলা আপনার প্রিয়।” রবীন্দ্রনাথ বললেন,“তুমি নিয়ম ভাঙ্গছো, রাজিউল।” তোমার পর না আমার প্রশ্ন করবার কথা? তুমি কোথায় থাকো?“ আমি বললাম,"সারদা ক্যাম্প।” এমন সময় একটা মাঝ বয়সী ছোকড়া এসে বললো,“রবি গুরু, কবি গান শুরু হবে। আপনার জন্য অপেক্ষায় সবাই।” ছেলেটা এইবার চলে গেলো।

আমি বললাম,“আপনি কি চলে যাবেন?” উনি বললেন,“মানুষের মাঝে তো সবসময় থাকি। আর একটু থাকিনা একান্তে। বলো, পরের প্রশ্নটা বলো।” আমি বললাম,“আপনার জীবনে এমন কি কোনো অপূর্ণতা আছে যা এখনো পাওয়া বাকি?” রবি ঠাকুর উনার হাতের পেয়ালাটায় একটা চুমুক দিলেন। উনি দেখলেন, তার মধ্যে কিছু নাই। তারপর বললেন,“আছে। একদিন যখন মানুষের জীবনের পূর্ণতা শেষ হয়ে যায়, সে মারা যায়। আমি যেহুতু বেঁচে আছে, আমার জীবনে অপূর্ণতা আছে। কিংবা চাহিদা। এখন আমার জীবনের চাহিদা হচ্ছে, আমি আরেক কাপ গরম পানি চাই।” আমি হাসলাম এবং একইসাথে অবাক হলাম। কি ভারী একটা বিষয়, উনি কি সহজ উদাহরণে বলে দিচ্ছেন।

উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,“তোমারটা শুনি।” আমি বললাম,“আমি সরকারী চাকুরীজীবি। মূহুর্তে চাহিদা পাল্টাতে থাকে। এখন, মানে এই মূহুর্তে আমার চাহিদা হচ্ছে যে আমি আপনার সাথে ক্যামেরা নামের অদ্ভূত বাক্সটায় বন্দি হয়ে সেই ছবিটা আমার বাবাকে দিতে চাই যেটা উনি টাঙ্গিয়ে রাখবেন, ঠিক আপনার ছবিটার পাশে।” উনি বললেন,“তোমার বাবা আমার ভক্ত?” আমি বললাম,“অন্ধ ভক্ত।” সেই ছোকরা আবার এসেছে। সে হাঁক দিয়ে গেলো। রবীন্দ্রনাথের যেতে হবে এখন। আমি খেয়াল করিনি, উনি গায়ের জোব্বাটা খুলে রেখেছিলেন। পাঞ্জাবীর উপর এইবার সেটা পড়ে নিলেন। আমি জোব্বাটা তুলে ধরলাম, উনি জোব্বার দুইটা হাতায় তার দুই হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তারপর, আমার দিকে তাকিয়ে বললেন “গুরুকে এতোটুকু সাহায্য করবার জন্য ধন্যবাদ।” তারপর, উনি হাঁটা দিলেন ভীড়ের মধ্যে আরো একবার। আর, আরো একবার আমাকে দ্বিধার মধ্যে রেখে গেলেন। জোব্বা পড়িয়ে দেওয়াটা সাহায্য ছিলো, নাকি কথা বলে উনাকে উনি কে তা জিজ্ঞেস করে প্রতৃপ্তি এনে দেওয়াটা সাহায্য ছিলো?

আমি একটু এগিয়ে এসে দেখলাম, স্টিভেন অনেকটাই হাই হয়ে গিয়েছেন এখন। তিনি হুক্কা ট্রাই করছেন। রবীন্দ্রনাথকে একবার দেখালাম, মাথা নাড়িয়ে কথা বলছেন। উনি একটু আগে যে, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এখন আর সেইটা নেই। উনি এখন, ভক্ত-অনুরাগীদের রবীন্দ্রনাথ। একান্ত নয়। তাকে, একান্তে পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

ভোর ৫টা। রাজবাড়ীর গেটের বাইরের ঘন্টাটা, ৫ বার বেজে উঠলো। আমি দেখলাম, অনেকজন বাইরের বাগানটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। স্টিভেনের মাথা প্রচন্ড ব্যাথা। ইহা নেশা কাটার ফল। সে আমাকে জানালো, এইবার যাওয়া উচিত। আমি তার অবস্থা বেগতিক দেখে, তার হাতের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিছুদূর এগিয়ে নিলাম। বাগানের পাশ দিয়ে রাস্তা, সেখানে আসলাম। আমি এইবার দেখতে পেলাম, রাজা প্রমদানাথ এবং রবীন্দ্রনাথ আর বাকি জ্ঞানী মানুষজন বাগানে সারি হয়ে দাঁড়াবেন এমন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর দেখলাম, ঠিক বাগানের মধ্যেখানে অদ্ভূত বাক্স রাখা আছে। সেটা, ক্যামেরা। এইসকল কিংবদন্তী আর গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিবর্গের এইখানে ছবি তোলা হবে। আমি স্টিভেনের কাহিল অবস্থা দেখে হাঁটা শুরু করেছি। সামনে, রাজবাড়ির বিশাল গেইট। মনে আফসোস, পাশে স্টিভেন। অর্ধেক রাস্তাও যেতে পারিনি, পেছন থেকে ডাক পড়লো আমার নামে। একটা চিকন বয়সের ভারে ভারপূর্ণ আওয়াজ ডেকেছে আমাকে। এরপর, আমি ঘুরে তাকালাম। কুঁজো হয়ে দাঁড়ানো রবীন্দ্রনাথকে একটু সোজা মনে হচ্ছে। তিনি হাত দেখিয়ে, আমাকে ইশারা করছেন। বাক্সে বন্দি হওয়ার জন্যই হয়তোবা ডেকেছেন। এখন আর ছবি না উঠলেও, এইসব মূহুর্তকে আমি বাঁধিয়ে রাখতে পারবো মনের দেয়ালে। রবি ঠাকুরের ছবিটার ঠিক পাশে। আমি একটা দৌড় দিলাম। এক দৌড়। বাচ্চাদের মতো। তারপর, এই লিখার সাথে আঁটকানো ছবিটার জন্ম হলো। আমাদের অনেক জন্মের কারণে উপরে থাকা সৃষ্টিকর্তার কাছে আসলে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। গত রাতের জন্মের জন্য, এমন ছবির জন্মের জন্য, বাঙ্গালী হয়ে জন্মের জন্য। ছবি তুলতে দাঁড়িয়েও আমি সেই সুগন্ধটাই পাচ্ছিলাম, যেটা রবি ঠাকুরের সাথে প্রথমে দেখা হবার সময় পেয়েছি। উনি বাক্সের দিকে তাকিয়ে হাসছেন কিনা বুঝতে পারছিনা, বসে আছেন। একটু পরে আমি উনার দিকে আবারো তাকালাম।। উনি আমার দিকে চোখ বাঁকা করে তাকালেন। আর ঠিক এই অবস্থাতেই একটি ছবি উঠলো।

এই গল্পের সকল প্রেক্ষাপট পুরোপুরি কাল্পনিক।



রাজিউল হোদা দীপ্ত
ঢাকা, বাংলাদেশ।
rdipto2@gmail.com