অটোয়া, শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯
কানাডায় ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ এবং ২৬শে মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ পালিত – আশ্রম সংবাদ

টোয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এর উদ্যোগে গত ২৫শে মার্চ, ২০১৮ দূতাবাস মিলনায়তনে ‘গণহত্যা দিবস’ এবং ২৬শে মার্চ, ২০১৮ স্থানীয় ওয়েস্টিন হোটেলে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাব গাম্ভীর্য্যের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।  
কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কাউন্সিলর অপর্না রানী পালের উপস্থাপনায় ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে গণহত্যার শিকার সকল শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অতঃপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে হাই কমিশনের মিনিস্টার নাঈম উদ্দিন আহমেদ এবং কাউন্সিলর সাখাওায়াত হোসেন।        
অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের নৃশংসতম গণহত্যার উপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যাতে অংশগ্রহণ করেন কানাডায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সিকদার মতিউর রাহমান, মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ বখত ময়নু, ডক্টর মনজুর চৌধুরী, আশ্রমের সম্পাদক কবির চৌধুরী, হারুন উর রশিদ, নীপা ব্যানার্জী, সাংস্কৃতিককর্মী শাহ্ বাহাউদ্দিন শিশির, আওয়ামীলীগ নেতা সাইদ ইসলাম খোকন, মমতা দত্ত, প্রমুখ। বক্তাগণ সকলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এই দিবসটি সম্পর্কে তাদের আবেগ নিঃসৃত অনুভুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ২৫ শে মার্চের বর্বরতম গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্পর্কিত প্রবন্ধ পাঠ করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরী। এছাড়াও গণহত্যা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের মিনিস্টার নাঈম উদ্দিন আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত সকল অপরাধীর বিচার দাবি করেন এবং এ ব্যাপারে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান। 

গণহত্যা দিবসের আলোচনায় উপস্থিত সুধীবৃন্দ     

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান বলেন- ‘১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গভীর রাতের গণহত্যা এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্থানের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পাকিস্থানী শোষক গোষ্ঠী ভেবেছিল যে তারা বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনকে রুখে দিতে পারবে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার কারনে তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কেননা গ্রেপ্তারের পূর্বেই ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীণতার ঘোষণা দিয়ে যান। বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। তিনি ২৫শে মার্চের কালরাতের গণহত্যা এবং বাংলাদেশের স্বাধীণতার ঘোষণার এই সঠিক ইতিহাস কানাডায় বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন এবং সকলকে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে বলেন’। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ   

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান এবং তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নিশাত রহমান স্থানীয় ওয়েস্টিন হোটেলে, কানাডার সংসদের সদস্য, সিনেটর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ, অটোয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিশিষ্ট কানাডীয় নাগরিকদের জন্যে একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করেন।

  আগত অতিথিদের সাথে কোশল বিনিময় করছেন রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান    

কাউন্সিলর ফারহানা আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং সম্মানের সাথে বাংলাদেশ এবং কানাডার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। অতঃপর, প্রধান অতিথির বক্তব্যে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং লা ফ্রাঙ্কোফোন বিষয়ক মন্ত্রী মিস ম্যারি ক্লোদ বিবো নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে কানাডার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশ কানাডার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পার্টনার। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশর মধ্য আয়ের দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সকল উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ কানাডাকে পাশে পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি তাঁর কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের স্মৃতি চারণ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং সামগ্রিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা জানান এবং এ ব্যপারে কানাডা সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কেক কাটছেন মিসেস নিশাত রহমান, ম্যারি ক্লোদ বিবো এবং মিজানুর রহমান   

অতঃপর, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্বশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। তিনি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সফল অগ্রযাত্রার গৌরবগাঁথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সময় পরিক্রমায় দ্রুত অগ্রসরমান। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২.৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ কানাডা সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। কানাডায় বসবাসকারী লক্ষাধিক বাংলাদেশি, যাঁরা দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে কানাডার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাঁদের প্রশংসা করে এদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করার ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।   
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর প্রধান অতিথি, কানাডার মন্ত্রী মিস ম্যারি ক্লোদ বিবো, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, এবং তাঁর সহধর্মিণী মিসেস নিশাত রহমান বাংলাদেশ-কানাডা দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক কামনা করে টোস্ট করেন এবং একত্রে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কেক কাটেন।    
অটোয়া, কানাডা