অটোয়া, রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯
স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে টরেন্টোতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ কানাডার অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর টরেন্টো-তে লেজিসলেটিভ এ্যসেম্বলীর সম্মুখে, কুইন্স পার্কে, স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে  বাংলাদেশের  স্বাধীনতার  প্রতীক এবং লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের  মান্যবর হাই কমিশনার, জনাব মিজানুর রহমান; অন্টারিও প্রদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, জনাব টেড আরনেড; অভিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মিস লরা আলবেনী; লিবারাল পার্টির সংসদ সদস্য জনাব  আরথার পটস; কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য জনাব স্টীভ ক্লার্ক এবং এন ডি পি পার্টির সংসদ সদস্য লিসা গ্রেটস্কি এবং কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীগন।

    

অনুষ্ঠানের শুরুতে অন্টারিও প্রদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, জনাব টেড আরনেড উপস্থিত সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে, কানাডা সরকার সব সময়ই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহুভাষাবাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এ বিষয়ে তিনি জানান যে, অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন যাতে অন্টারিওকে সমৃদ্ধশালী এবং প্রাণবন্ত করতে অন্টারিও-তে  বসবাসরত বাংলাদেশীদের সমগ্রিক অবদানের কথা  বলা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে  লেজিসলেটিভ এ্যসেম্বলীতে একটি বিল পাস হয় যাতে মার্চ মাসকে বাংলাদেশ হেরিটেজ মাস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এই হেরিটেজ মাসে অন্টারিওতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা বাংলা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, স্বদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং অর্জন সমূহ অন্টারিওবাসীদের কাছে তুলে ধরতে পারবে।   
এরপর, মান্যবর হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্বশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন এবং লাল সবুজের এই পতাকা ছিনিয়ে আনতে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ সময় পরিক্রমায় সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আজ স্বল্পোণ্ণত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনের পথে। তিনি বাংলাদেশ এবং কানাডার মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এ সম্পর্কের অধিকতর বিকাশে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের গঠনমূলক অবদানের প্রশংসা করেন এবং কানাডার মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ সেন্টার এ্যাণ্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস এর এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও, তিনি টরেন্টোতে খুব শীঘ্রই কনস্যুলেটের কার্যক্রম শুরু হবে বলে উল্লেখ করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। 
বক্তব্য শেষে, মহান জাতীয় সঙ্গীতের সাথে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন মান্যবর হাইকমিশনার। এ সময় এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। জন্মভূমি থেকে হাজার মাইল দূরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বহনকারী লাল সবুজের পতাকাকে  সগৌরবে ওড়ার দৃশ্য সকলে গর্বভরে অবলোকন করেন।
পতাকা উত্তোলনের পরে, একে একে অভিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মিস লরা আলবেনী; লিবারাল পার্টির সংসদ সদস্য আরথার পটস; কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য জনাব স্টীভ ক্লার্ক; এন ডি পি সংসদ সদস্য লিসা গ্রেটস্কি এবং কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীগনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেন্টার এ্যাণ্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস এর সদস্যগণ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। 
টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মিস হাসিনা কাদের।

প্রেরকঃ
ফারহানা আহমেদ চৌধুরী
কাউন্সিলর, বাংলাদেশ দূতাবাস
অটোয়া, কানাডা।