অটোয়া, শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯
ক্যানাডায় জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আইন প্রনয়নে বাংলা ক্যারাবানের প্রদর্শনী

৩০শে মে ২০১৮, কানাডার পার্লামেন্ট বিল্ডিংয়ের “কমনওয়েলথ হল” ঘরে রাজধানী অটোয়ার নিবেদিত সংগঠন “বাংলা ক্যারাবান” আয়োজন করে এক বহুবর্ণিল প্রদর্শনী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও এর বহুমাত্রিক উপযোগিতা নিয়ে বহুজাতিক সংস্কৃতির কানাডার মূলধারায় ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটিকে পূর্ণ মর্যাদায় পালনের পক্ষে সিনেটসভা কর্তৃক আনীত s247 বিলটি  আইন পাশ করার প্ররোচনায় সেখানে প্রদর্শন করা হয় বহুবিধ পোষ্টার-ফেস্টুন, লিফলেট,বইপত্র ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, বাংলা ক্যারাবানের ক্রমাগত প্রচেষ্টায় ইতিপূর্বে অটোয়া মহানগরের মেয়র জিম ওয়াটসন কতৃক বাঙ্গালির প্রাণের দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সিটি অব অটোয়ার নিয়মিত কার্যক্রমের তালিকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ঘোষণাটি আসে যা বাংলা ক্যারাবানের দীর্ঘ প্রচেষ্টার কাঙ্খিত ফসল হিসেবেই। সেদিনও বাংলা ক্যারাবানের আয়োজনে অটোয়া সিটিহল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিজায়ী বাঙালির কলকাকলিতে। এহেন সাফল্যের পরে বাংলা ক্যারাবান দীর্ঘ পদযাত্রায় স্থানীয় সংসদসদস্য ও সিনেটরদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নিশ্চিদ্র রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনির কমনওয়েলত হলঘরটিতে বাংলা ক্যারাবানের এই বিশেষ সভা ও প্রদর্শনী আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন নিপিয়ানের সন্মানিত পার্লামেন্ট মেম্বার চান্দ্রা আরিয়া ও সিনেটসভার সম্মানিত সিনেটর মুবিনা জাফর প্রমুখ। বাংলা ক্যারাবানের আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনী ও প্রচার সভাতে সিনেটর মুবিনা জাফর এই বিষয়ে চুড়ান্ত বিলটি সিনেটসভাতে অনুমোদনের ভিত্তিতে হাউস অব কমন্সে আইন পাশের প্রতিশ্রুতি দেন ও এই বিষয়ে বাংলা ক্যারাবানের অক্লান্ত ঘটকালীর প্রশংসা করেন। সিনেটরের এই কাঙ্খিত ঘোষণায় সারা হলঘর আনন্দবিভায় হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মিজানুর রহমান তাঁর সারগর্ভ বক্তব্যেও বাংলা ক্যারাবানের ভূয়সী প্রসংসা করেন। তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা রিফিউজি পুনর্বাসনে কানাডার ইতিবাচক ভূমিকার বন্ধনা করে উপস্থিত পার্লামেন্ট মেম্বার ও সিনেটসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে আগামীতে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। সভাতে আরও বক্তব্য রাখেন সিনেটর মুবিনা জাফর, পার্লামেন্ট মেম্বার চান্দ্রা আরিয়া, ক্যানাডিয়ান কমিশন ফর ইউনেস্কোর মাননীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবাস্তিয়ান গোপিল, পার্লামেন্ট সদস্য ইকরা খালিদ, ক্যানাডিয়ান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি জাস্টিন হলনেস ও বাংলা ক্যারাবানের পক্ষ থেকে সভায় অংশগ্রহণকারী পার্লামেন্টারীয়ান, সিনেটর ও উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখের ড.মনজুর চৌধুরী। তিনি বর্তমান বিশ্বের অতি পরিচিত কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানী মিকিও কাকোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, একবিংশ শতকে এই বিশ্ব পদার্পন করছে সেখানে সমাজব্যাবস্থা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মহাবৈশ্বিক পরিবেশের আঙ্গিকে এবং অবশ্যই বহুজাতিক মেলবন্ধনের ভিত্তিতে।তিনি ন্যালসন মেন্ডেলার সেই অমৃতবাণীটি উদ্ধৃতি করে বলেন, কেউ যদি শ্রোতার শেখা ভাষায় কথা বলে সেই কথা শ্রোতার মস্তিকে প্রবেশ করে কিন্তু যদি শ্রোতার মাতৃভাষায় কথা বলেন তাহলে সেই কথা শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে যায় মূহুর্তে। তিনি বলেন, আমরা বাংলা ক্যারাবান জন্মলগ্ন থেকেই বহুজাতিক সংস্কৃতির এই ক্যানাডা আমাদের ধাত্রিভূমিটিতে সকল জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করা যাচ্ছি। সভাটি সঞ্চালনায় ছিলেন নতুন প্রজন্মের অদিব বখত ও তাম্মি চৌধুরী।

উল্লেখ্য যে, বাংলা ক্যারাবানের এই মহতি আয়োজনে বিপুল সংখ্যক বাঙ্গালি ও অপরাপর জনগোষ্ঠীর লোকজন অংশগ্রহন করেন। বাংলা ক্যারাবানের প্রতিষ্ঠাতা বা নেপথ্যবাসী পুরোহিতবর্গ যথাক্রমে, হারুন এ রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, স্থপতি আনোয়ার খান, সৌরভ বড়ুয়া, গুলজাহান রূমী, ড.মনজুর চৌধুরী, ড.প্রণত বড়ুয়া, লেখক মহসীন বখত,  মুক্তিযোদ্ধা ড.নুরুল হক, অধ্যাপক অমিতাভ স্যানাল, মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ বখত, শাহেদা চৌধুরী, মমতা দত্ত প্রমুখের অক্লান্ত শ্রম ও মেধায় এই সভাটি বিশেষ ব্যাতিক্রমী মর্যাদায় উপস্থাপিত হয় যা দর্শক-শ্রোতাদের মনোযোগ কাড়ে। আয়োজনটি কানায় কানায় পূর্ণ করতে এই প্রজন্মের তাহিয়া খান, অরণি বখত, নিবিন খান, প্রমি চৌধুরী, কারিনা দত্ত, আনন, উল্লাস, সিনতিয়া, অগ্রদীপ দত্ত প্রমুখ বিশেষ আন্তরিক ভূমিকা পালন করেন।
মহসীন বখত, অটোয়া।