অটোয়া, শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯
এসএসপিপি-র আয়োজনে সাসকাটুনে চড়ুইভাতি-২০১৮

জকে আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা...
গানের সেই কলিকে বাস্তবে রুপ দিতে এসএসপিপি (সাসকাটুন সার্বজনীন পূজা পরিষদ) আয়োজন করলো চড়ুইভাতি। গত ২৮ জুলাই শনিবার সাসকাটুন শহর থেকে ১২০কিমি দূরে ম্যানিটো বিচে প্রবাসীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে চারিদিক। বেলা ১২ টা থেকেই একে একে আসতে শুরু করে বন্ধুরা। অল্প কিছুক্ষণের ভেতর এলাকাটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশে পরিনত হয়।

১৭৮৯ সনে ফরাসি বিপ্লব ফ্রান্সের চড়ুইভাতি বা পিকনিকের ইতিহাসে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা যুক্ত করে। বিপ্লবের পর ওখানকার পার্কগুলো সর্বধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে খোলা বাতাসে মানুষ পার্কে সমবেত হয়ে  চড়ুইভাতি  বা পিকনিক করতেন। আর কানাডার পার্কগুলোও সামারে মুখরিত হয়ে উঠে চড়ুইভাতিতে। সকলেই ফিরে যেতে চায় তাদের শৈশব আর কৈশোর এ , মাংস পুড়িয়ে  ( বারবিকিউ ) খেয়ে আদিম যুগেও ফিরে যেতে চায়।

 

দুপুরের খাবারের পরই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ছোট-বড় যে যার মত আড্ডা আর খেলাধুলায় মেতে উঠে।  ফুটবল খেলা দেখে বুঝার উপায় নাই মেসি আর নেইমার একদিন বাংলাদেশেও ছিল। ছোটদের বিস্কুট দৌড় যেমন মায়েদের টেনশন কিছুক্ষণের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে স্ত্রীদের চামুচে নেপ্তলিন বলনিয়ে দৌড় স্বামীদের টেনশনও বাড়িয়ে দিয়েছিল। দৌড়ঝাপ, সাঁতার আর নৌকাবাইচ করতে করতে কখন যে সময় গড়িয়ে গেল টেরই পাওয়া গেলনা। শেষপর্বে মেয়েদের বালিশ খেলা আর বারবিকিউ বেশ জমে উঠে।

অল্প সময়ের খেলা  চড়ুইভাতি হলেও এই খেলার মধ্যে যে আনন্দ-বেদনা, উচ্ছ্বাস তা আমাদের জীবনকে নিযে যায় অনন্য মহিমায়। আর তাই চড়ুইভাতি খেলায় যে আনন্দ পাওয়া যেত ঠিক তেমনই এই আয়োজন সকলকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। উপস্থিত সবাই এরকম একটা সুন্দর ও উপভোগ্য চড়ুইভাতি উপহার দেয়ার জন্য এসএসপিপি-র সভাপতি চঞ্চল রায় এবং সাধারন সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন কর-কে ধন্যবাদ জানিয়ে চড়ুইভাতি ২০১৮ র সমাপ্তি টানেন।

অমিত উকিল
সাসকাতুন, কানাডা।