অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
অটোয়াতে কণ্ঠশিল্পী চন্দ্রা রায় – কবির চৌধুরী

‘আপনাদের জন্যে একটি ধাঁধা আছে, ১১ সেকেন্ডের মধ্যে যে ধাঁধাটির উত্তর দিতে পারবেন তাকে পুরস্কৃত করা হবে। ধাঁধাটি হলো- বলতে হবে কোন জিনিসটি হাত থেকে ছেড়ে দিলে উপরের দিকেই শুধু উঠতে থাকে, নীচের দিকে আর ফেরৎ আসে না। ‘ইংরেজি নববর্ষ-২০১৯ উদযাপন’ এর প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সুহেল আহমেদ এর প্রশ্ন করা ধাঁধার সাথে সাথেই দর্শকদের মধ্য থেকে একটি হাত উপরের দিকে উঠে যায়। তিনি উত্তর দেন- বয়স।

কী আশ্চর্যময় এই পৃথিবী! একদিকে আমাদের বয়স বাড়ে অন্যদিকে নতুনের আগমন হয়। নতুন বছরের আগমন নিয়ে দার্শনিক কবি  G.K. Chesterton বলেন- 
‘The object of a New Year is not that we should have a new year. It is that we should have a new soul and a new nose; new feet, a new backbone, new ears and new eyes. Unless a particular man made New Year resolutions, he would make no resolutions. Unless a man starts afresh about things, he will certainly do nothing effective. Unless a man starts on the strange assumption that he has never existed before, it is quite certain that he will never exist afterwards.’   

প্রবাসে আমাদের মানে প্রথম জেনারেশন-এর প্রতিটি দিন কীভাবে অতিবাহিত হয় তা শুধু আমরাই জানি। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যে প্রতিনিয়ত কঠোর সংগ্রাম করে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকালেই নতুন আশা নিয়ে জেগে উঠি। জেগে উঠতে হয়। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখি। সেই সুন্দর স্বপ্ন নিয়েই এবার নতুন বছরকে বরণ করা হল। নববর্ষ উপলক্ষে অটোয়ার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ‘পালকি’তে ১ এবং ৫ তারিখে দুই দিনে দুইটি অনুষ্ঠান হয়।

প্রথম দিন অর্থাৎ ১লা জানুয়ারির অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল, অটোয়ার বাংলাদেশীদের প্রিয় ‘চতুষ্টয় দম্পতি’ যথাক্রমেঃ  ইছা-জুলি, জুয়েল-সুমন, সরোয়ার মিটু-শিল্পী এবং সুহেল-দীনা। 

আর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৫ই জানুয়ারির অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল, আরেক জনপ্রিয় দম্পতি কিবরিয়া টিটু-লিজা।  

‘ইংরেজি নববর্ষ-২০১৯ উদযাপন’ উপলক্ষে আয়োজিত ১লা জানুয়ারি ‘মাস্তি এন্ড মিউজিক’ এবং ৫ জানুয়ারির ‘চন্দ্রা সন্ধ্যা’ এককথায় অপূর্ব। বছরের প্রথম সপ্তাহের দুটো সন্ধ্যায়ই দু’শর অধিক অটোয়াবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে, ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে নাচ-গান, উপস্থাপকদের কথার ফুলঝুরিতে মনে হচ্ছিল নান্দনিক সাজে সজ্জ্বিত ‘রেস্টুরেন্ট পালকি’র ভিতর যেন ঝাঁক ঝাঁক জোনাকিতে ভরে গেছে এবং উড়ে উড়ে বাহার দিতেছে।



সুহেল আহমদ (সোল মুনাকো) এর সাবলিল উপস্থাপনায় প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে নাচ-গানের পাশাপাশি মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা এবং রাফেল ড্র। রাফেল ড্র-তে ৫৫ইঞ্চি এলসিডি টেলিভিশন জিতে নেয় সাহেদা রেজা শাকু। এছাড়া অনুষ্ঠানে সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন যথাক্রমে- আরেফিন কবির, মীর জাবেদ এলাহি জুয়েল, মমতাজ বেগম শিল্পী, পিয়া ইসলাম, ইছা রেজা, মাইশা, মাহিয়া, সাবাহ, সামিহা, সাহিল, সাফওয়ান, তাজুয়ার, অহনা, উমাইমা, উমাইজা প্রমুখ। মাহিয়া ও মাইশার কোরিওগ্রাফিতে গ্রুপ নৃত্যটি ছিল চিত্তাকর্ষক।

এদেশে জন্ম নেওয়া কিশোর শাহরিয়ার কিবরিয়া দিপুর উপস্থাপনায় দ্বিতীয় দিনের ‘চন্দ্রা সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। তারপর একে একে নাচ, গান এবং কৌতুক পরিবেশন করেন যথাক্রমে- প্রিমা দত্ত, হৃদি দত্ত, রাখা কিবরিয়া, সানজিদ হোসেন, গোলাম কিবরিয়া টিটু, আরেফিন খান, শুভ রহমান, আরেফিন কবির, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম খোকন এবং নিউ ইয়র্ক থেকে আগত কন্ঠশিল্পী চন্দ্রা রায়। অনুষ্ঠানের মূল শিল্পী চন্দ্রা রায়, অটোয়ার স্থানীয় শিল্পী আরেফিন খান এবং শুভ রহমানের সাথে কয়েকটি ডুয়েট সহ দেশাত্ববোধক, আধুনিক এবং জনপ্রিয় কিছু ফোক গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।  

নতুন বছরের শুরুর যাত্রাটি অনেক দিন অটোয়াবাসী বাংলাদেশিদের মনে থাকবে। সুন্দর ও আশান্বিত এই যাত্রাতে আমাদেরকে সহযাত্রী করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ। কারণ- ‘The beginning is the most important part of any work.’

Happy New Year/ শুভ নববর্ষ
কবির চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা।