অটোয়া, শনিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ  যথাযোগ্য  মর্যাদার সাথে কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন  ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২০১৯ দিবস পালন করে।  এ দিন সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ হাউসে হাইকমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উপস্থিতিতে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমান জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। অত:পর, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে এবং ১৯৫২-র ভাষা শহিদ সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখ ঢাকার চকবাজার অগ্নিকান্ডে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

 সভাপতির বক্তব্য রাখছেন মান্যবর হাই কমিশনার মিজানুর রহমান

এ দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় অটোয়াস্থ সেন্ট এ্যান্থনিজ ব্যাংকোয়েট হলে হাই কমিশনারের সভাপতিত্বে হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরী -এর সঞ্চালনায় একটি আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহিদদের সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মিয়া মোঃ মাইনুল কবির, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মোঃ শাকিল মাহমুদ এবং প্রথম সচিব অপর্ণা রাণী পাল এ দিবস উপলক্ষে যথাক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।  

সভাপতির বক্তব্যে মান্যবর হাই কমিশনার বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে ১৯৫২’র ২১ শে ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তীতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারীসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি চকবাজার অগ্নিকান্ডে নিহত/ক্ষতিগ্রস্তদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি একুশকে বাঙালী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসাবে বর্ণনা করেন। একুশের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতিৃত্বে বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ১৯৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং প্রবাসিদের ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান। মান্যবর হাই কমিশনার ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার এবং কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ করে 'Mother Language Lovers Of the World Society’ গঠনের নেতৃবৃন্দের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে কানাডার পার্লামেন্টে বিল ’এস-২৪৭’ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পাশ হলে সমগ্র কানাডায় সরকারীভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হবে যা হবে বাংলাদেশীদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এক্ষেত্রে, কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সংগঠন বিশেষত বাংলা কারাভান সংগঠনের জোরালো ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি টরন্টোতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগ একটি শহীদ মিনার নির্মাণের প্রচেষ্টা এবং সে ক্ষেত্রে হাইকমিশনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। 

পরবর্তীতে, স্থানীয় শিল্পীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে আমাণী, আলিয়া জামান, ওয়াজিদ জামান ও মাশরুর মাহিন কবির। এরপরে হাইকমিশনের কাউন্সেলর মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরী, নাদিরা হক, ফারাহ নাজ এবং স্থানীয় অং সুয়ে থোয়াই, শিউলি হক, নার্গিস আক্তার রুবি, ডালিয়া ইয়াসমিন, গিয়াস ইকবাল্ সোহেল, নাসরিন শশী সংগীত পরিবেশন করেন এবং জুলফি সাদেক, শাহ বাহাউদ্দিন শিশির, শিউলি হক কবিতা আবৃতি করেন। এছাড়াও কাউন্সেলর মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন ভাষা অন্দোলনের উপর স্বরচিত পুথি পাঠ করেন।

আটোয়া নিবাসী সর্বস্তরের বাংলাদেশী ও স্থানীয় জনসাধারণ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। পরিশেষে উপস্থিত সকলের জন্য নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রেরকঃ 
মিয়া মোঃ মাইনুল কবির
কাউন্সেলর (রাজনৈতিক)
বাংলাদেশ হাইকমিশন
অটোয়া, কানাডা।