অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
সফলভাবে শেষ হলো বিসিসিএস-এর তহবিল সংগ্রহ – অজন্তা চৌধুরী

ত ৪ঠা মে বিসিসিএস-এর হল রুলে অনুষ্ঠিত হলো বিসিসিএস-এর ৬ষ্ঠ আয়োজন “চালের গুড়া পিঠা উৎসব-২০১৯”। উৎসবমুখর পরিবেশে কয়েক শতাধিক অতিথিদের সমাগমে দুপুর ১২টা থীকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে এই পিঠা উৎসব। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে ছিল হরেক রকমের পিঠা, পুলি আর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মঞ্চ উন্মুক্ত ছিলো সম্মানিত  অতিথিদের জন্য, বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আমন্ত্রিত শিল্পীরা পরিবেশন করেছেন জারি সারি, পুঁথিপাঠ, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও গান।

পিঠা উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তি প্রসাদ, সহযোগিতায় ছিলেন মম, মিতু, ফরিদা, তৌহিদা। যারা সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা হলেন বিষ্ণুপ্রিয়া, সোমা চৌধুরী, শুভ্রা সাহা, লিটন কাজী, শিরিন চৌধুরী, সুনীতি দাশ, রুনা, শিখা আখতারী, বাসুদেব দত্ত, মামুন, মম কাজী, সুমী বর্মন, মৌ মধুবন্তী, ম্যাক আজাদ, ইভা, চাইনিজ সাংস্কৃতিক দল, রিদি, স্বপন, সুমন মালিক, রুনা, রিদি, হাবিব আখতারি, আজিম, স্বপন ও সম্মানিত অতিথিদের অনেকেই।

এই আয়োজনে টরোন্টো প্রবাসী পরবর্তী প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, তারা যে শুধু বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেছে তাই নয় মঞ্চেও বাংলা সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে তাদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস ছিল নজরকাড়া। এবারে আরো একটি বিষয় ছিল উল্লেখযোগ্য, সামাজিকভাবে টরোন্টোর নানা স্তরে যারা কাজ করেন তাদের অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও পিঠা সরবরাহ করেছেন এই পিঠা উৎসবে, প্রায় ১৭০০ পিঠার আয়োজনে তাই সমৃদ্ধ হয়েছিল এবারের জাকজমকপূর্ণ পিঠা উৎসব।   

চালের গুড়া পিঠা উৎসবে স্বদিচ্ছায় যারা সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন তারা হলেন মাহবুবার পান্নু, আফরুল ইসলাম আরাফ, ফাহাদ হোসেন, হোসেন আল নাহিয়ান, ফাতেমা কাজী, নাবিলা ইসলাম, আরাব, রাইনা, মনির হোসেন, মোহাম্মাদ আনোয়ার, পারভীন ও বনি আব্রাহাম। আলোকচিত্র ধারণে বিদ্যুৎ সরকার, রেজাউল করিম ও হাওয়ার্ড।

বিসিসিএস একটি নন-প্রফিট চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন। গত পাঁচ বছর ধরে বিসিসিএসের বার্ষিক ফান্ড রেইজিং এর জন্য ‘চালের গুড়া পিঠা উৎসব’ এর আয়োজন করা হচ্ছে। মে মাস হলো কানাডায় সাউথ এশিয়ান হ্যারিটেজ মান্থ। তাই মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথম শনিবারে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। ৩০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এমন একটি আয়োজনকে সার্থক করে তুলতে। বিসিসিএস-এর প্রেসিডেন্ট হাসিনা কাদের এই উদ্যোগের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন পিঠা উৎসবের শুরু থেকেই। ৩০ জনের কমিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে অনুষ্ঠানকে সফল করেছেন তারা হলেন, ফরিদা হক, সায়িদা বারী, মুক্তি প্রসাদ, ফাহমিদা রহমান মিতা, নাজনীন হক, আনার দিলারা, নাশিদা চৌধুরী, জামিল বিন খলিল, তৌহিদা হানফি মাহমুদ, মম কাজী, রেখা হাবিবুল্লাহ, মাহমুদা কাউসার, শাহীন পারভীন, ম্যাক আজাদ, অজন্তা চৌধুরী, কাজী সেরাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মিন্টু।



টরোন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মৌ মধুবন্তী দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই পিঠা উৎসবের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ও কনভেনরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পিঠা বিক্রয়ের অর্থ থেকে যে ফান্ড হয় তা দিয়ে সেন্টারের রেনোভেশানের ও মেইন্ট্যান্যান্সের কাজ করা হয়।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে ‘চালের গুড়া পিঠা উৎসব’-এর কনভেনর মৌ মধুবন্তী সকল অংশগ্রহণকারী, স্পনসর, বিজ্ঞাপনদাতা, ৩০ সদস্যের কমিটির সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বর্ণিল পিঠাগুলো অনুদান হিসেবে দিয়ে এই আয়োজনকে রাঙিয়ে তুলেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে উল্লেখযোগ্য সক্রিয় ভূমিকা রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার জন্য ফরিদা হক, সায়িদা বারী, মুক্তি প্রসাদ, ফাহমিদা রহমান মিতা, নাজনীন হক, আনার দিলারা, নাশিদা চৌধুরী, জামিল বিন খলিল, তৌহিদা হানফি মাহমুদ, মম কাজী, রেখা হাবিবুল্লাহ, মাহমুদা কাউসার, শাহীন পারভীন, ম্যাক আজাদ, অজন্তা চৌধুরী, ফ্লোরা নাসরিন ইভা, কাজী সেরাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মিন্টুকে বিশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। আর বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয় আগত অতিথিদের যাদের সরব উপস্থিতিতে সার্থক হয়েছে চালের গুড়া পিঠা উৎসব।      

অজন্তা চৌধুরী
টরোন্টো, কানাডা।