অটোয়া, মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আশ্রমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহ বাহাউদ্দিন শিশির

 

আশ্রমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহ বাহাউদ্দিন শিশির


উন্নত জীবনযাপনের জন্যে বাংলাদেশ ছাড়লেও অনেকেই নতুন এই আবাসভূমিতে স্বকীয় সংস্কৃতি চর্চা আর তার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অটোয়াতে “ঊষা মিউজিক স্কুল” সেই প্রচেষ্টারই অংশ আর এই মহৎ কাজটি করেছেন অটোয়ায় বাংলা সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক শাহ বাহাউদ্দিন শিশির। সদ্য প্রতিষ্ঠিত “ঊষা মিউজিক স্কুল” এর বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে স্কুলের পরিচালক শাহ বাহাউদ্দিন শিশিরের সাথে আমাদের এক দীর্ঘ্য আলোচনা হয়। সেই আলোচনার অংশ বিশেষ আশ্রমের পাঠকদের জন্যে দেওয়া হল।

 
আশ্রমঃ ব্যক্তিগত জীবনে একজন রিয়েল ইস্টেট এজেন্ট হয়েও আপনি কেন স্বকীয় সংস্কৃতি প্রসারে আগ্রহী-

শাহ বাহাউদ্দিনঃ জীবিকার তাগিদে রিয়েল ইস্টেটকে ব্যবসা বেছে নিলেও সত্ত্বায় আমি বাঙালি। আমাদের সবার দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের সংস্কৃতিকে লালন করা। আমিও সেই দায়িত্ববোধ থেকে এই কাজগুলো করি।

 
আশ্রমঃ অটোয়ায় বাংলা সঙ্গীত স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে কেন আগ্রহী হলেন- 

শাহ বাহাউদ্দিনঃ জীবন কিছু সময়ের যোগফল, অতি ক্ষুদ্র কিন্তু স্বপ্ন বহমান। আমার প্রিয় সুরকারদের একজন, সদ্য প্রয়াত শ্রদ্ধেয় আনিস জামান চৌধুরীর সাথে আমার লেখা কিছু গান নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি অটোয়ায় একটি গানের স্কুল করতে উৎসাহিত হই, যে তাড়াটা গত কয়েক বছর থেকে আসছিলো আমার জীবনসঙ্গিনী সঙ্গীতশিল্পী নাসরিন শশীর কাছ থেকে। মনের মধ্যে স্বপ্ন ছিলো আর সেই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নেয় বাংলাদেশ থেকে সদ্য আগত নজরুল গীতি এবং আধুনিক গানের শিল্পী নন্দিতা ঘোষের অটোয়ায় বসতি স্থাপন করার কারণে।

 
আশ্রমঃ প্রবাসে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজন কতটুকু এবং কেন-

শাহ বাহাউদ্দিনঃ প্রবাসে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তা অতিব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোন ব্যক্তি যদি তার নিজস্ব কৃষ্টিকে পূর্নাঙ্গভাবে জানতে পারে তাহলেই সে অন্য কোন কৃষ্টিকে সহজে বুঝতে পারে। অন্যথায় পথ ভ্রষ্টের সম্ভাবনা থাকে। সাগরে জাহাজে চলার জন্যে যেমন দিক দর্শন প্রয়োজন—তেমনি প্রবাস জীবনে অতি ব্যস্ততার পাশাপাশি আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্যে তার চর্চা অত্যন্ত মূল্যবান। দেখেন আমাদের কৃষ্টি প্রচন্ড শক্তিশালী। দুইশত বছর ইংরেজরা আমাদেরকে শাসন করেছে। কিন্তু তারপরও আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির কোন উপাদান হারিয়ে যায়নি বরং আরো শক্তিশালী হয়েছে। তার প্রমাণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়। মহান ২১শে ফেব্রুয়ারিকে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এগুলো আমাদের অর্জন, বাঙালিদের অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এখন অনেক বাঙালির বসবাস। বিদেশই এখন আমাদের সন্তানদের নিজের দেশ। তাই আমাদের সন্তানদের কাছে আমাদের অর্জন, আমাদের কৃষ্টি-কালচারের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীতা পৌঁছে দিতে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নাই।


আশ্রমঃ সঙ্গীত শিক্ষার স্কুল হিসেবে “ঊষা মিউজিক স্কুল” নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী- 

শাহ বাহাউদ্দিনঃ ‘ঊষা মিউজিক স্কুল’ নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। অটোয়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে লক্ষ্য করা যায়, আমাদের কমিউনিটির প্রত্যেক মাতা-পিতাই চান তাদের সন্তানদেরকে নিজের কৃষ্টির সাথে পরিচিত করতে। এই কাজটিতে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানট একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের স্বপ্ন ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকা। আমরা বিশ্বাস করি এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তরুণদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে বাংলা সঙ্গীতের নানান রঙে। বাংলা কৃষ্টির উদ্যাম তালে ওরা নেচে বেড়াবে আর আমাদের স্বকীয় কৃষ্টির অন্যতম উপাদান সঙ্গীতকে হারিয়ে যেতে দেবে না। ওরাই একদিন ঠিক এমনটি করে বাংলা সঙ্গীতের ধারাবাহিকতাকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।


আশ্রমঃ আশ্রম এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন-

শাহ বাহাউদ্দিনঃ আমি প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই স্কুলের দুই শিক্ষক যথাক্রমে নন্দিতা ঘোষ (কন্ঠ) এবং মেজবাউল আলম অর্ঘ (তবলা)কে, তাদের আশ্বাস এবং সহযোগিতার কারণেই ঊষা মিউজিক স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আমি আরও ধন্যবাদ দিতে চাই স্কুলের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের এবং তাদের মাতাপিতাদেরকে। সঙ্গীতের প্রতি প্রচন্ড ভালবাসার কারণেই এই কর্মব্যস্ত জীবনের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাচ্ছাদেরকে স্কুলে নিয়ে আসেন গান শেখাতে।  অটোয়ার সকল বাংলাদেশিদের কাছে আমার অনুরোধ-ছেলেমেয়েদেরকে গান শিখতে উৎসাহিত করুন।

  
আশ্রমঃ আপনাকে ধন্যবাদ।

শাহ বাহাউদ্দিনঃ আপনাকে এবং আশ্রমের পাঠকদেরকেও ধন্যবাদ।