অটোয়া, শুক্রবার ২০ মে, ২০২২
তৈমুর খান এর কবিতা

সুন্দর এসেছে আজ
সুন্দর এসেছে আজ
আমাদের মৃত্যুর পাশে
সুন্দর এসেছে

কান্নাগুলি তুলে রাখ।
জীবন যেদিন হেসেছিল
সেই হাসি দেখাব ওকে।

পর্দা সরিয়ে দাও
আলো নিভে যাক
আমরা অনন্ত হয়ে শুয়ে থাকব
চিরন্তন আকাশে উঠুক আজ চাঁদ।

জানালাগুলি
রোজ কোনো ধ্বংসের কাছে বিবমিষা হয়
সৌখিন জানালাগুলি তাকিয়ে দেখে
এই প্রিয় শহর
কতরকম রঙের মানুষ ফেরে
আর চারিদিকে কোলাহল সাঁতার কাটে। 
এখানে আমিও রোজ জ্ঞানের বাজার খুঁজি 
আর ব্যস্ততার ঝড়ে কেবলই আছাড় খাই—
চক্রব্যূহ ভেদ করে পালিয়ে আসতে পারি না
শুধু যুদ্ধ আর কৌশল দেখি।
দেখতে দেখতে বেহুঁশ হয়ে স্বপ্নে ঘুরপাক খাই। 
মাইকে ধর্মীয় উপদেশ আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
আর রাজনীতির দেশপ্রেম আর জন্মনিয়ন্ত্রণের
হরেককিসিম পদ্ধতি আর ধ্বজভঙ্গের ওষুধ পাওয়ার
ঠিকানা শুনতে শুনতে পাগল হয়ে যাই—

এক টুকরো চাঁদের মতো ছুটতে ছুটতে
মায়াময় এইডস্ প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠানের কাছে দাঁড়াই;
কতগুলো যুবক-যুবতী লুডু খেলার পরামর্শ দিলে
ধন্য হই।

জানালাগুলি স্বপ্নময় রাত্তিরের নীল চোখের মতো
তখনো তাকিয়ে থাকে।

উৎসব
প্রাণের ভিতরে ও বাহিরে কী কী উৎসব হয়
সেসব জানার কথা নয়
তবু উড়ে যাবার আগে কিছু কিছু ডানা বেশ শান্ত সমাহিত
রোদ্দুর মেখে নিচ্ছে
আর নিজস্ব ভাষায় কথা বলছে পাখি

আমরা দূরে দুর্গম জীবন পার করি
রাজার চিঠি আসবে বলে নিজস্ব ডাকঘর বসাই
শীতের হাওয়া এসে ছুঁড়ে দেয় কুয়াশা
এক কম্পন থেকে আর এক কম্পনের দিকে ছুটে যাই

তবু রং লাগে, ক্ষুধা পায়, বৃষ্টিতে ভিজি
পাখিদের মতো রোদ মেখে নেয় আমাদের উড়ান

বিরতি
বিরতি আসে—ঘুমে—নির্ঘুমে
বিরতি আসে—সকালে—বিকেলে
তখন চুপচাপ এসে আলো নিভিয়ে দেয়
আর অন্ধকারে পড়ে থাকে হাসি
আরশিওয়ালা একা একা ফিরে যায়
পড়শিরা কেউ মুখ দেখে না আর।

বাংলা ভাষা
ত কত জ্ঞান বিতরিত হচ্ছে
শয়ে শয়ে আসছে নতজানু
পুরনো ভারতবর্ষ, নতুন ভারতভূমি
সবাই পাশে আছে, লন্ঠন জ্বলছে আলোর
টিম টিম শুধু তার বাতি।
আমরা শ্রদ্ধার পাত্র ভরে ঢেলে দিচ্ছি নেশার পানীয়
ধন্য ধন্য মহব্বত, হাততালিও
আর হাতেই থাকছে না।
আর গঙ্গা মহীয়সী মুকুট পরেনি
স্নিগ্ধতার আবেশ থেকে
খুলে দিচ্ছে নতুন ব্যালকনি।

আকাশ জড়িয়ে রাখি, স্বপ্নে ভোরের উঁকি আসে
বাংলা ভাষা ক্ষীর দেয়
শিউলি-পলাশ হাসে, ফেব্রুয়ারির বাতাসে…

তৈমুর খান। বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ