অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
মোহাম্মদ ইলইয়াছ-এর কবিতা

প্রণয় প্রণিপাতে
ভালোবাসার বদলে কি দেবে আমাকে
একগুচ্ছ গোলাপ নাকি হাসনাহেনা
ভালোবাসার বদলে কি দেবে আমাকে
শিশির ভেজা বকুলের কচি ঘ্রাণ।

ভালোবাসার বদলে কি দেবে আমাকে
পদ্মপুকুরের বউটুবানির জলথইথই কূল
জলেডোবা বিল বাওরের মউটুসি
আউশ ধানের মৌসুমী লম্বা- লম্বা গোছ।      

ভালোবাসার বদলে কি দেবে আমাকে
শোনাবে কি সঙ্গীহারা নরুণের ডাক
বেতস বনের বেদনাবিধুর ডাহুকের ধ্বনি
নিঃসীম আকাশের মেঘমেঘালির কান্না। 

আমি জানি তোমার কোন প্রতিদান নেই-
ব্যর্থ জীবনের স্মৃতিগুলো কালিমায় ঢাকা
তবুও আমি না পাওয়ার বেদনার সড়কে
শুন্য ভাড়ার হাতে দাঁড়িয়েছি পণয় প্রণিপাতে।

পুষ্পিত নন্দিনী
কোথায় ছিলে এ্যদ্দিন, কত দিন পর তোমার সৎ দর্শন
তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছো অষ্টাদশী মল্লিকা? 
আমি সেই রাঢ়ী খালের হাবা-গোবা বিক্রমপুরের আবু সালেম-
কাদা-মাখা ইজের পরে দাঁড়িয়েছি তোমার অক্ষি গোলকে। 

কোথায় ছিলে এ্যদ্দিন, শতযুগ হলো কোমল পায়ের পদচ্ছাপ
আমার মাটিকে করেছে ধন্য, তুমি কী সেই জোছনার নবীনা
ভালো করে দ্যাখো, আমি সেই কুসুমপুরের মফিজের পোলা
ত্রিশ বসন্তের সিঁধ কেটে এখনো বেঁচে আছি ঘর-গেরস্থিহীন। 

কোথায় ছিলে এ্যদ্দিন, কতদশক পরে আবার অদেখা সম্মিলন
বুড়িগঙ্গার জল আর স্বচ্ছ নেই, কালিয়া আঁধারের সেই স্রোত
গড়াতে গড়াতে ধলেশ্বরী হয়ে চাঁদপুরে মিলিত ঢেউয়ে মিশেছে
অথচ তোমার ছায়ায় আমরা স্বপ্নেরা ঠিকানা খুঁজে আজো হয়রান। 

কোথায় ছিলে পুষ্পিত নন্দিনী?  শাল- সেগুন- কদম্বের নীলপরি
এই আগাছায় ভরা শটিবনের কন্দ তোমাকে দেব কিনা ভাবছি
তোমার কনকলতা বাহুতে দেখি কপালভাঙা দাগ ও পদ্মের কোরক
আমি কি প্রতিজ্ঞা ভুলে প্রাণপাত করবো তোমার পুরনো প্রণয়কে!

আমি কিন্তু এখনো সেই রাঢ়ীখালের-হাবাগোবা আবু সালেমই আছি।

মোহাম্মদ ইলইয়াছ
শাহজাদপুর, কোম্পানীঞ্জ
নোয়াখালী, বাংলাদেশ।