অটোয়া, শুক্রবার ২০ মে, ২০২২
চারটি কিশোর কবিতা - রানাকুমার সিংহ

উড়ুক সুখে প্রজাপতি
দিন আগেও ইশকুলে রোজ যেতাম আমি জানো!
বিকেলবেলা আপার কাছে শিখতে যেতাম গানও
এখন আমি বন্দি ঘরে
ঘরে রাখার ফন্দি করে
মা আমাকে মন ভোলাতে ভাঙান অভিমানও!

আগে রোজই খেলতে যেতাম পাড়ার মাঠে সবে
সন্ধে হলেই ঘরে ফেরার সময় হতো তবে
যাচ্ছে সময় বন্দি ঘরে
কান্না কেবল সন্ধি করে
খোলা মাঠে খেলার মজা আসবে ফিরে কবে?

আগে টিভি দেখতে পেতাম সময় যখন হতো
এখন টিভি দেখতে পারি আমার ইচ্ছেমতো
ঘরেই কাটে সময় এখন
আদর করে দাদা যে কন
অসময়ের দৈত্য নাকি ঘুরছে অবিরত!

চাই না ঘরে আটকে থাকি, চাই যেতে ইশকুলে
দুষ্টুমি ও খেলায় মেতে চাই যেতে সব ভুলে
আনন্দ হোক ভুবনজুড়ে
খোলা হাওয়ায়-অন্তপুরে
উড়ুক সুখে প্রজাপতি রঙিন ফুলে ফুলে।

আকাশের তারা
কাশের তারা মিটিমিটি কেন কোনোটা উজালা আবার 
এ বাঁধনহারা শতশত তারা মানে কি কারও মর্জি!
আমার এ মন করে উচাটন চিন্তা করছে সাবাড়--
তারা দিয়ে এই রাতের আকাশ সেলাই করেছে দর্জি?

এ আকাশ যেন কালো কাপড়ের একখানা বড়ো পর্দা--
সে পর্দাজুড়ে পুঁতি দিয়ে কাজ করেছে মহান শ্রমিক!
আকাশের কথা তারাদের কথা বললেন শেষে বড়দা
অপলক চোখ হয়ে উন্মুখ গুনছি সংখ্যা-ক্রমিক।

বললেন দাদা- তারাগুলো সব নয়কো মোটেও কাছেই
অনেক আলোকবর্ষ দূরে তা সব নাগালের বাইরে
ওগুলো হলো একেক সূর্য আর গ্রহ ঘিরে আছেই
মিটিমিটি লাগে দূর থেকে তাই ছোটটি দেখতে পাইরে।

আলোকবর্ষ মানে শুধালাম- বললেন দাদা হেসেই 
একটি বছরে দূরত্ব যত যায় যে পেরিয়ে আলোয়-
আলোকবর্ষ সেটাকেই বলে, জানলাম অবশেষেই
আকাশের তারা সকলেই ওরা থাকুক ভালোয় ভালোয়।

এরকম তারা মানে তো সূর্য অসংখ্য অগোচরে
তাহলে তাদের কাছে থাকে কতশত আকাশের ঠিকানা
আমাদের এই সূর্য তাহলে অন্য আকাশ-বহরে--
তারা হয়ে জ্বলে মিটিমিটি ঠিক, এসব গ্রন্থে লিখা না!

বুনোর কবিতা 
ই কবিতা লিখতে গিয়ে পড়ল মনে বুনোর কথা!

বুনোটা কে? 

বুনোটাকে চিনতে হবে আগে--
নইলে বুনোর কথা তোমার লাগবে কি আর ভালো!
বুনোর কথা বললে মনে অনেক কথা জাগে!

দুরন্ত এক ডানপিটে সে, ডাকাবুকো মস্ত
পড়াশোনার বেলায় থাকে ভীষণ দ্বিধাগ্রস্ত।

মা যদি কয়- ওরে বুনো থামনা বাবা থামরে
বুনোর কী আর ওসব শোনার সময় বয়ে যায়রে!
দুষ্টু ছেলে পা নাচিয়ে খায় কাঁচা আম কামড়ে!

ইশকুলে রোজ ল্যাং মারে সে সহপাঠী মিককে
বকলে বলে, বলবি আমায় বল তো আছিস ঠিক কে?
বুনো চড়ে মগডালে আর গাছের পাতায় আঁকে
এমনি করে আনন্দ নেয় ছোট্টবেলাটাকে।

নদীতে ঝাপ-সাঁতার কাটা-ডাংগুলিতেও আছে
আরো কত কাণ্ড পাবে বুনো নামটার পাশে।
কিন্তু বুনো লক্ষীছেলে, সে নাকি পয়মন্ত
যদিও তার পড়শী সবাই থাকে হন্তদন্ত।

জানো কি গো বুনো নাকি ক্লাসে নং এক যে!
সেই কথাটি এই কবিতায় করছি উল্লেখ যে।
এমন বুনো বাংলাদেশের গাঁয়ের ঘরে ঘরে
তবু বুনো এই কবিতার প্রতিটি অক্ষরে।

ছোট্টরা তো বুনোই হবে , হবে ডাকাবুকো
নইলে ওরা কীসের শিশু ছোট্ট খোকা খুকো।

ঘুমকাহিনী
প্রতিদিনই কাজের ফাঁকে শরীর ও মন রেস্টে যায়
সকল ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া থমকে থাকে তখনটায়।
প্রাণীকুলের এই রীতিকে ঘুম বলা হয় জানি তো
ঘুম না হলে এই জগতে স্বপ্ন কে হায় আনিতো!
বাঁচতে হলে ঘুম প্রয়োজন ঘুমায় সারা প্রাণীকুল
কচ্ছপে আর কুকুর ঘুমায় ঘন্টা তের নয় তো ভুল!
বড় লোমশ আরমাডিলো ঘুমায় ঘন্টা বিশেকই
ছোট্ট ইঁদুর এবং বাদুড় ঘুমের পাগল তাই দেখি!
ওরাও ঘুমায় ঘন্টা কুড়ি আঠারোতেও নয় কো কম
অপোসাম আর পাইথনে ঠিক সেই ঘুমানোর আছে দম!
সতেরতে আছে জানি বানর-নিশাচরেরা
ঘুমে ঘুমেই এই জীবনের চক্রঘুরে হয় ফেরা।
কাঠবিড়ালী পনের আর ঘন্টা ষোল টাইগারে
বিড়াল ঘুমায় ঘন্টা বারো হাতির পোষায় ঠিক চারে।
ভেড়া ঘুমায় পৌনে চার ও ঘোড়া ঘন্টা পৌনে তিন
জিরাফ ঘুমায় ঘন্টা দুয়েক জেগেই থাকে রাত ও দিন।
বনের রাজা সিংহ ঘুমায় ঘন্টা সাড়ে তের ভাই
চিতাবাঘে এগার আর বেবুনের দশ ঘন্টা চাই।
গাধারা তো ঘুমেও গাধা ঘন্টা তিনেই হয় সাবাড়
ছাগলের চায় ঘন্টা পাঁচেক হাম্বা ঘুমায় ঘন্টা চার।
সকল প্রাণী ঘুমেই কাটায় যার যা হিসাব তাতেই তো
মানুষ নাকি ঘন্টা সাত-আট ঘুমের ঘোরে মাতেই তো!

রানাকুমার সিংহ
সিলেট, বাংলাদেশ।