অটোয়া, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২০
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শহীদ শেখ কামাল -এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান – কবির চৌধুরী

     জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সহধর্মীনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী ও তাঁদের সুযোগ্য সন্তান শহীদ শেখ কামাল-এর ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ৬ আগস্ট ২০২০, বিশ্বে করোনা মহামারীর কারণে ঘরবন্দি সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হওয়া “জুম”এর মাধ্যমে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অটোয়াস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব অপর্ণা রানী পাল-এর সঞ্চালনা এবং কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা থেকে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পড়ে শোনান যথাক্রমে- অটোয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের উপ-হাইকমিশনার চিরঞ্জীব সরকার ও কাউন্সেলর মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন। 
     বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শহীদ শেখ কামালের উপর নির্মিত পৃথক দু’টি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনীর পর, বঙ্গমাতা ও শেখ কামালের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা  অনুষ্ঠিত হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই হাইকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন- “ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল  একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। ছায়ার মত অনুসরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে। তৎকালিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। এমনকি বঙ্গমাতা, বঙ্গবন্ধুর সাথে জেলখানায় দেখা করার সময় ও তাঁকে দেশের আন্দোলনের প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনা অবহিত করতেন - বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ শুনে তা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের জানিয়ে দিতেন। 
     শহীদ শেখ কামাল-এর জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মান্যবর হাইকমিশনার বলেন– “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শেখ কামাল অনন্য অবদান রাখেন। ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত, সংগ্রামী ও আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে শেখ কামাল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তিনি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচীতে সক্রিয় অবদান রাখার পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে, সমাজকে মানবতাবদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শেখ কামাল একজন প্রথম সারির সংগঠক ছিলেন। শুধু খেলাধুলাই নয়, পড়াশোনা, সঙ্গীতচর্চা, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা থেকে শুরু করে নানান বিষয়ে তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন।”
     এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আমি সহ অটোয়ার অনেকেই, যথাক্রমে- সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান, ওমর সেলিম শের, রাশেদা নেওয়াজ, মমতা দত্ত, শাহ বাহাউদ্দিন শিশির, রিয়াজ উজ জামান ও হাসান জামান অংশ নেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই বলেন যে- “তাঁদের জীবদ্দশায় তাঁরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিলেন। তারা বঙ্গমাতা ও শেখ কামালসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে অতিবাহিত সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। সকলেই উল্লেখ করেন যে, শেখ কামাল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে চিরকাল অম্লান থাকবেন।” বিশেষ করে, সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমানের আলোচনার মাঝে আমি খুঁজে পাই- উদ্দীপ্ত যৌবনের দূত ও পরোপকারী ব্যক্তিত্বের অধিকারী শেখ কামালকে। যিনি বিশ-পঁচিশ বছর বয়সেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে আদর্শের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। যারা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছিলেন তারা অনুভব করেছেন তাঁর স্নিগ্ধ ও হাস্যোজ্জ্বল মমত্ববোধ।
     আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শহীদ শেখ কামালসহ পরিবারের নিহত সকল সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কবির চৌধুরী। অটোয়া