অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
৫২ থেকে ৭১ এর কসম - মেহেনাজ পারভীন মেঘলা

২ থেকে ৭১ এ মুঠো মুঠো রক্ত দিয়ে গেছে সময়;
লাল রং বুকে নিয়ে হারিয়ে গেছে গৃহস্থ রাত;
কতদিন আতঙ্কের গোধূলিতে নজর রেখেছে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধারা।
পাকিস্তানি হায়েনারা যে অষ্টাদশী যুবতীকে বিবস্ত্র অবস্থায় গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল;
সেই যুবতী আমার বাবার নোলক পরা বোন!
যে বৃদ্ধার চোখের জলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল;
সেই বৃদ্ধা আমার মায়ের মা!
ঐ যে গলির মোড়ের রশিদ সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিল,
ঐ যে পুকুরপাড়ে টং-এ বসা কার্তিক সেদিন দুটো পা হারিয়েছিল,
এখনো রশিদ;কার্তিক নিজেকে পোড়ায়।
বাংলাভাষা,পতাকা,মানচিত্র দিয়ে সাজানো বাংলাদেশের শরীর।
এসবের ফলে পেয়েছি সিঁড়িতে পড়ে থাকা কালো চশমাটা ও রক্তাক্ত নিথর দেহ ৭ই মার্চের অগ্নি ঝরা ভাষণদাতার।
এতো রক্ত দেওয়ার পরও তবুও রক্তের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
৫২ থেকে ৭১ এ ঝরে গেছে কতগুলি সোনালি পাতা।
আমাদের দিয়ে গেছে আশ্চর্য আলো।
সেই আলোও ছিনতাই হচ্ছে অমুক/তমুকের বুলেটে।
বক্তৃতায়,ভাষণে,বড় বড় বিশেষণ ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিলের জন্য। আসবো আসবো করে ন্যায়নীতি আসে না যাদের জন্য;
৫২ থেকে ৭১ এর কসম-অমুক/তমুকের ফাঁসি চাই;দিতে হবে।

মেহেনাজ পারভীন মেঘলা
দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর