অটোয়া, শনিবার ২১ মে, ২০২২
যুক্তি যেখানে হত্যার হাতিয়ার! – সুপ্তা বড়ুয়া

     পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা আবর্তিত হচ্ছি সেই একই চক্রে। বিজ্ঞানীরা জুপিটার আর শনি’র অন্তত দুটো উপগ্রহে পানির উৎসের সন্ধান পেয়ে গেছে আর এদিকে আমরা আবারও একটা মেধা, একটি স্বপ্নের গায়ে লাল সীলমোহর লাগিয়ে দিলাম। কিন্তু বার বার এরকম কেন হচ্ছে? আমরাই বা ঠিকমতো কোন প্রতিবাদ করছি না? আরো কতবছর এভাবে আমাদের প্রতিবাদের কন্ঠকে রুখে দেওয়া হবে, আমাদের অগ্রযাত্রা হবে পশ্চাদমুখী, রুখে দেওয়া হবে অন্যায়ের প্রতিবাদকারীকে অন্যায়ের বদলে? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শুরু থেকেই এই খেলা চলে এসেছে। কি খেলা? বাকস্বাধীনতাকে রুখে দেওয়া হয়েছে ঠুনকো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাতে। ব্রুনোকেও পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো এই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দোহাই দিয়ে। কি সেই ধর্মীয় অনুভূতি? এত ঠুনকো কেন ধর্মীয় অনুভূতি? ধর্ম যদি সত্যে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে সেটা ধর্মের সমস্যা, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার মতো মেধাশূন্য দেখেই তো সে সত্যের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্র কেন বার বার তাতে মদদ দিচ্ছে? 
     পত্রিকা খুললেই অসংখ্য মাদ্রাসা ভিত্তিক সংবাদ প্রতিদিন আমাদের নজরে আসে। এই খবরগুলোর সিংহভাগই সুখবর নয়, বরং ৯৯% খবরই ধর্ষণ-খুন। বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো যেন ধর্মীয় শিক্ষা প্রণয়নের নামে হয়ে উঠেছে এক একটি লাইসেন্সধারী শিশু নির্যাতনকারী প্রতিষ্ঠান যেখানে দেদারসে চলছে শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন আর ধর্ষণ। শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু করে ধর্ষণ, ধর্ষণ শেষে হত্যাসহ নানা হরর ঘটনা ঘটে চলেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য দুবেলা খাদ্যের বিনিময়ে এগুলো এক একটি কনসেনট্রেশান ক্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়। এই শিক্ষাব্যবস্থাটা (বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানবিমুখ একটি শিক্ষাব্যবস্থা মাদ্রাসাগুলোতে, যেখানে আমাদের মূল শিক্ষাব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বিজ্ঞান-প্রযুক্তিমুখী নয়) নিয়ে কথা বলারও যেন কেউ নেই। একে তো মূল শিক্ষাব্যবস্থার সাথে অসামঞ্জস্য এই শিক্ষাব্যবস্থা একটি অদক্ষ জনশক্তি তৈরি করে চলেছে তার উপর মূলত অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়ালেখা করছে বিধায় মূলধারার সাধারণ জনগণ এ সম্পর্কে কথা বলতেই যেন অনিচ্ছুক। (পশ্চিমা সমাজেও একসময় চার্চে শিশু নির্যাতন আর ধর্ষণ ছিলো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার, কিন্তু তাদের জনগণের সচেতনতায়, বিশেষ করে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের তৎপরতায়, এটি অনেকাংশে কমেছে, যদিও এখনো কিছুটা বিরাজমান। আমাদের দেশের উপরতলার মানুষদের মাঝে মাদ্রাসা নিয়ে একটা নাঁক সিটকানো ভাব আছে, যার কারণে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের অনেক করণীয় থাকলেও এসব গরীব ছেলে-মেয়েদের নির্যাতনের ব্যাপারে সবাই সুখ-নিদ্রা যাচ্ছে বলেই আমি মনে করি।) মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা যেন একটা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড, সবাই এটা নিয়ে মুখ খুলতেই ভয় পায়। কারণঃ ১) সামাজিকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হয়ে অপদস্থ হওয়া ২) রাজনৈতিক হুমকি-ধমকি ৩) ধর্মীয় নেতাদের অবিরত হুমকি। ইদানীং আবার রাষ্ট্র তার সাথে যুক্ত করে দিয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার নামে আলাদতের শরণাপন্ন হওয়ার অভিনব এক আইন ৫৭ ধারা। তাই বেশিরভাগ মানুষই এই খবরগুলো পড়েন বটে, তবে পড়েও চোখ-কান বন্ধ রেখে অন্যখবরে চলে যান। সমাজের সাথে লড়াই-এর সাহস, স্বদিচ্ছা থাকলেও নানামুখী ঝামেলা এড়াতে মানুষ এ বিষয়ে কথা বলতেই চান না।
     মাদ্রাসা বিষয়ে যে বা যারা বা যে বই'ই কথা বলতে চেয়েছে তা হয়েছে কালো তালিকাভুক্ত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে বই নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশে নতুন নয়, সেই ইতিহাসে নতুন সংযোজন সাইফুল বাতেন টিটোর মাদ্রাসায় ধর্ষণ বিষয়ক বই ‘বিষফোঁড়া’। সরকারী প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে বইটি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। অনেকবছর আগে তারেক মাসুদ এই মাদ্রাসাভিত্তিক শিশুদের জীবন নিয়ে ‘মাটির ময়না’ মুভিটা করেছিলেন। যদিও তারেক মাসুদের মুভিটি আটকে দেওয়া হয় নি, কিন্তু তিনিও কম সমালোচনার মুখোমুখি হন নি সেসময়। ভাগ্যিস তখন ৫৭ ধারা ছিলো না, তাহলে হয়তো আমরা এমন একটা মাষ্টারপিস থেকেও বঞ্চিত হতাম। কিছুদিন আগে শাহাদাত রাসেল ‘কালার অফ চাইল্ডহুড’ নামে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ইউটিউবে মুভিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো ১০ জুলাই, কিন্তু পরিচালককে হত্যার হুমকি দেওয়ার কারণে মুভিটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এইগুলো বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় দৈন্যদশার স্পষ্ট নিদর্শন। এই মুভিটি যেই সমস্যাকে উপস্থাপন করেছে সেই সমস্যার বদলে যে দেখিয়েছে তাকেই গালিগালাজ করা হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কম হলেও সংখ্যাটা নেহাত নগণ্য নয়। মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষার দায় পড়েছে যাদের, তাদেরই সাঙ্গপাঙ্গরা এসব করে চলেছ।
     বাংলাদেশে কি আজকে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটছে? ১৯৭৪ সালে এক কবিতা লেখার দায়ে দাউদ হায়দারকে বলতে গেলে এক কাপড়ে দেশ ছাড়া করেছিলো বঙ্গবন্ধু সরকার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন মুক্তচিন্তার স্বপ্ন বলে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির আজকের চিল্লাচিল্লি শুনলে আমার হাসি পায়। স্বাধীন বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার প্রথম কন্ঠরোধ করেছিলেন স্বাধীনতার জনকই। সে সময় মুসলিম বিশ্বের সমর্থন লাভের আশায় বঙ্গবন্ধু যেই কাজটি করেছিলেন মূলত সেটিতেই তো স্বাধীন বাংলাদেশের পরিণতি কি হতে যাচ্ছে তা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিলো। আজকে এই কারণে, কালকে ওই কারণে করতে করতে দুধ-কলা দিয়ে প্রতিটি সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদকে, ধর্মের নামে অত্যাচারকে তোষণ করে এসেছে। তাহলে আমরা শুধু স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি এই করেছে সেই করেছে দেখে আজকে শেখ হাসিনার পক্ষে এদের সামলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে নাঁকি কান্না কাঁদছি কেন? বর্তমান সময়ে চেতনাধারীদের আরো একটি বড় ফাঁদ, কিছু বললেই স্বাধীনতার অপশক্তি ক্ষমতায় চলে আসার মূলা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় চোখের সামনে। স্বাধীনতার অপশক্তি কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং স্বাধীনতার রক্ষাকারী বলে যারা দাবী করছে সময় আর সুযোগের ব্যবধানে তারাই হয়ে উঠছে স্বাধীনতার মূলস্তম্ভে আঘাতকারী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী।
     লেখার জন্য এই বাংলার বুকে কি হয় নি! বই প্রকাশ নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা, মামলা, লেখক-প্রকাশক হত্যা সবই আছে বাংলাদেশের ইতিহাসের খাতায়। ১৯৯২ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো হুমায়ুন আজাদের বই 'নারী', এমনকি তার প্রাণনাশের জন্য আক্রমণও করা হয়েছিল। মানুষের বলার অধিকার বার বার বিঘ্নিত হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার নামে। তসলিমা নাসরিনের অসংখ্য বই (উতলা হাওয়া, লজ্জা, আমার মেয়েবেলা ইত্যাদি) এভাবে একের পর এক নিষিদ্ধ হয়েছিলো দেশে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে। তসলিমা হয়েছে ভূখন্ডহীন, আর বাংলার বুকে তার নাম হয়েছে একটি গালির প্রতিশব্দ। কিন্তু বইগুলো নিষিদ্ধ করে সরকার যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার কথা বলেছে, সেসব কি হয়েছে? হয় নি। উল্টো দেশে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের উপর বাধা-বিপত্তির পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় আর সামাজিক পর্যায়ে মানুষ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে, নারীরা হয়ে পড়েছে অনিরাপদ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হয়েছে দেশ ছাড়া। পাশাপাশি ধর্মীয় উগ্রবাদ পরিণত হয়েছে মহীরুহে। তবে আশার কথা, এই কালো আইনে আজাদ, তসলিমাদের বই নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার তাদের শাসন ব্যবস্থার দৈন্যদশার উলঙ্গ বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নি। বইগুলো বাজারে পাওয়া না গেলেও যারা পড়ার তারা ঠিকঠিকই বইগুলো পড়েছে। আজাদ, তসলিমা হয়েছে কালোত্তীর্ণ আর তাদেরকে রোধ করতে চাওয়ার কালোহাতগুলো হয়েছে এক একটি দানবের অন্য নাম।
     বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চলছে করোনার ভয়াবহতা। বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পরিবর্তে শাসনব্যবস্থার স্তরে স্তরে দুর্নীতির যেন বাম্পারফলন ঘটিয়ে চলেছে একটি জবাবদিহিহীন সরকার। জনসংখ্যার ভারে ন্যুয়ে পড়া একটি দেশ যেন আরো বেশি অভিভাবকহীন হয়ে জীবনযাপন করছে এখন। সরকার নামে যা রয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশে তারা আসল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে জনগণকে ধর্মীয় আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চান৷ কারণ তাতে চুরি-ডাকাতির সুবিধা হয়। আর যারা জেগে আছে তাদের চোখের সামনে হাজার-কোটি টাকার চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি, দুঃশাসন-এর আরো সহজ উপায় হলো প্রতিবাদী কলমকে ৫৭ ধারা নামে একটা কালো আইনে চুপ করিয়ে রাখা।
     এই যে একের পর এক বই নিষিদ্ধ করে সরকার যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলছে, আদতে বাস্তব শান্তিশৃঙ্খলার সাথে রয়েছে যার বিস্তর ফারাক। এ বছরে করোনার লকডাউন শুরু হওয়ার আগে দেশে গিয়েছিলাম। কি একটা গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। মনে হচ্ছে মানুষ কথা বলতেই ভয় পাচ্ছে, নিঃশ্বাস নিতেও হয়তো। জনজীবনে কি এক অস্থিরতা, কারো প্রতি কারো বিশ্বাস নেই বললেই চলে। এই যে প্রাত্যহিক জীবনে কষ্ট যন্ত্রণা, আইনের শাসন নেই, প্রত্যেকটি খাতে দুর্নীতির ছাপ, অনিয়ম অরাজকতার ছড়াছড়ি। সরকার এই পরিস্থিতিকে কি স্বাভাবিক বলছে? দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার, মেধাহীনদের দৌরাত্মের কারণে আইনের প্রতি মানুষের অশ্রদ্ধা আর অবিশ্বাস আকাশচুম্বী। সেখানে সরকার রয়েছে জনগণের ধর্মীয় গোঁড়ামিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার তালে। সরকার এটা জানে, একটি বিরাট জনসংখ্যাকে সুশাসন না দিয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামিতে আবদ্ধ করে রাখলেই তাদের শাসন-শোষণ সহজ হয় অনেকটা। তার উপর তাদেরকে যদি কিছুদিন পর পর একটা ধর্মীয় ইস্যু হাতে ধরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
     ২০১৫ সালটা আমাদের জন্য একটা বিরাট ধাক্কা লাগানোর বছর। একে একে মুক্তমনা লেখকদের হত্যা করা হয়েছে। সেসব হত্যার কোন বিচার আজ পর্যন্ত সরকার করে নি। অভিজিৎ, ওয়াশিকুর, অনন্ত, নীলয়, দীপন থেকে শুরু করে শুধুমাত্র সমকামী হওয়ায় নিহত হয়েছিলেন জুলহাস মান্নান, তনয় এরাও। অভিজিৎদের শুধু হত্যাই করা হয় নি, তাদের বইগুলো পর্যন্ত এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। এ বছর দেশে গিয়ে অনেক খুঁজেছি অভিজিৎ-এর বইগুলোর পেপার কপি, পাই নি। কিন্তু কেন? কারণ ধর্মীয় উগ্রবাদীরা অভিজিৎদের হত্যা করেছে আর সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ্য মদদ রয়েছে এসব বইয়ের বাজারজাত করণের উপর নানা ধরণের বিধিনিষেধে আরোপের। কিন্তু কি চেয়েছিলো অভিজিৎরা? একটি সাম্যবাদী-দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা, যে সমাজে শুধু যার পয়সা আছে সে নয়, গরীবের সন্তানেরাও পাবে সুশিক্ষা। একটি বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হবে দক্ষ জনশক্তি, যারা ধর্ম মানবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিন্তু বুকে ধারণ করবে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। আজ একবিংশ শতাব্দীতে এটা কি খুব অযৌক্তিক চাওয়া? না, অযৌক্তিক নয় তবে সহজলভ্যও নয়। কেননা একটি সুশাসন আর দক্ষ জনশক্তি গড়তে যে পরিমাণ কাজ করার প্রয়োজন তা করার স্বদিচ্ছা আমাদের সরকারের নেই যেহেতু তাতে লুটপাট বদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। দেশের এত বড় একটি জনসম্পদ এভাবে ধর্মীয় শিক্ষার যাঁতাকলে পিষ্ট হতে দেখেও সরকার কিছু করবে না। বরং সরকার তাদেরই কন্ঠরোধ করবে যারা সত্যটা উন্মোচন করে দিবে। কারণ, সেটাই তো সহজ। এই দেশে সেই বালকই অপরাধী, যে বলে রাজা তোর কাপড় কই!

সুপ্তা বড়ুয়া। অটোয়া, কানাডা
লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে তাঁর নিজস্ব ব্লগ supta.ca ভিজিট করুন।