অটোয়া, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২০
একুশ শতকের সংকট এবং সম্ভাবনার পথ (পাঁচ) - দীপিকা ঘোষ

পরিবেশ দূষণঃ 
পরিবেশ দূষণ বর্তমান শতাব্দীতে কোন পর্যায়ে কতটা কিভাবে ঘটছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে পরিবেশ বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে একটুখানি আলোকপাত করা যাক।  এনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশ হলো পৃথিবীর এমন একটি সার্বিক  পারিপার্শ্বিকতা, যেখানে সব ধরনের জৈব-অজৈব উপাদানগুলো ( যেমন মানুষ, পশু-পাখী, কীটপতঙ্গ, অনুতম জীব, গাছপালা, জল, মাটি, সাগর, পাহাড়, নদ-নদী, বায়ুমন্ডলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ) প্রাকৃতিক নিয়মে বিরাজিত।  এবং পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় একে অন্যের প্রতি বিরামহীন প্রভাব ফেলে।  মাছ যেমন জল ছাড়া বঁচে না, স্থলজ প্রাণি বাঁচে না ডাঙা ছাড়া, তেমনি পরিবেশ ছাড়া জীব ও জগতের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।  অথচ জীব এবং জগতের এমন গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজের কর্মকাণ্ডে মানুষ প্রতিনিয়তই দূষণের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।  সেটা কখনো সজ্ঞানে।  কখনো বা পুরোপুরি জ্ঞানের অভাবে।  পরিবেশ দূষণকে প্রধানত ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।  (১) মাটি দূষণ।  (২) জল দূষণ।  (৩) বায়ু দূষণ।  (৪) শব্দ দূষণ।  (৫) তাপ দূষণ (Thermal Pollution)।   এবং (৬)  তেজষ্ক্রিয় দূষণ (Radioactive Pollution)।

১: মাটি দূষণ: মাটি দূষণের দুটো শ্রেণিবিভাগ রয়েছে।  সয়েল কন্টামিনেশন এবং সয়েল পলিউশন।  অনেক সময় প্রাকৃতিক কারণে কোনো নির্দিষ্ট কেমিক্যাল বেশি পরিমাণে থাকায় মাটি কন্টামিনেটেড হতে পারে।  তবে তা মাটির জন্য সর্বদা ক্ষতিকর নাও হতে পারে। অন্যদিকে সয়েল পলিউশনের ক্ষতিকর প্রভাব সব সময়েই থেকে যায়। মাটি দূষণের অনেকগুলো কারণের মধ্যে প্রধান কয়েকটি কারণ হলো–
(এক) অরণ্য উচ্ছেদ: মাটি দূষণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ অরণ্যহীন পৃথিবী।  কৃষিজমি বৃদ্ধি এবং নগর সম্প্রসারণের ফলে পৃথিবীতে প্রতি ঘন্টায় ৪৫০০ একর অরণ্য ধ্বংস করা হয়।  পরিণতিতে ভূমি ক্ষয়।  মাটির অপুষ্টিকরণ এবং মরুকরণ।  অরণ্য ধ্বংসের কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বেড়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।  জলের উৎসগুলোর শুকিয়ে যাওয়া।  বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে থাকা।  শুধুমাত্র বর্তমান শতকেই পৃথিবীর ৫০ পার্সেন্ট রেইনফরেস্ট উজাড় করা হয়েছে।
(দুই) কৃষিতে ব্যবহৃত অজৈব সার, আগাছা এবং কীটনাশক কেমিক্যালের প্রভাব: কুড়ি শতকের মার্কিন কৃষিবিদ ডক্টর নরম্যান বরলগ এবং পরিবেশবিদ প্রফেসর উইলিয়ম ভটের দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের প্রসঙ্গ আবার এখানে এসে পড়ে। বরলগ তাঁর গ্রন্থে (‘Feeding a World of 10 billion People’), বুভুক্ষু পৃথিবীকে খাদ্য সরবরাহের উপায় বাতলে দিয়েছিলেন হাইব্রিড বীজ, কেমিক্যাল সার, আগাছা এবং কীটনাশক ব্যবহারের প্রচলন ঘটিয়ে।  ভট তাঁর লেখায় জানিয়েছিলেন, (‘Road to Survival’) এই প্রযুক্তিতে কোটি কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন করা গেলেও পরিবেশ ভারসাম্যতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রভাব হবে মারাত্মক।  পৃথিবীর সামর্থ্যকে অতিক্রম করে দীর্ঘকাল এই পদ্ধতিতে ফসল ফলাতে গেলে ভয়াবহ রকমের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।  কারণ জনসংখ্যার আকার যত ব্ড় হবে পৃথিবী ততোই অরণ্যহীন হবে।  পরিণতিতে ভূমিক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, মাটি দূষণ, জল দূষণ, জলবায়ু ধ্বংস, ব্যাপক মাত্রায় দুর্ভিক্ষ এবং অবশেষে বসবাসের অযোগ্য পৃথিবী।
(তিন) খণিজসম্পদ আহরণ (মাইনিং): মাটি দূষণের আরও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ মাইনিং।  জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে অন্যান্য চাহিদার মতো খণিজসম্পদের (কয়লা, মিনারেল, তেল, গ্যাস, বিভিন্ন ধরনের ধাতু যেমন, সিলভার, কপার, টিন, সোনা, লোহা প্রভৃতি) চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে।  মাইনিং-এর কারণে ভূগর্ভ এবং ভূপৃষ্ঠের জল দূষিত হচ্ছে।  তাতে ভূমিধ্বস, ভূমিক্ষয়, সিঙ্কহোল সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যাপকভাবে দূষিত হচ্ছে মাটি (খণিজসম্পদ আহরণে বিভিন্ন ধরনের টক্সিক কেমিক্যাল ব্যবহারের জন্য)।
(চার) বর্জ্য এবং আবর্জনা ডাম্পিং: মূলত চার ধরনের বর্জ্য এবং আবর্জনা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল, কমার্শিয়াল, এগ্রিকালচারাল এবং রেসিডেনশিয়্যাল) ডাম্প করার কারণে মাটি দূষিত হয়।  পৃথিবীতে প্রতিদিন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় ৩.৫ মিলিয়ন টন। প্রযুক্তিসভ্য বিশ্বে দ্রুতগতিতে ইলেকট্রনিক বর্জ্যও বাড়ছে।  একইভাবে গত শতাব্দীর তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে গার্হস্থ্য, কৃষিসহ অন্য গারবেজের পরিমাণ।  পরিবেশ দূষণ এবং ইকোসিস্টেম ধ্বংস করায় এদের ভূমিকা ভয়ংকর।  প্রতি বছর ২.১২ বিলিয়ন টন বর্জ্য ডাম্প করা হয় বৈধ এবং অবৈধভাবে।  এই ব্যাপক পরিমাণ আবর্জনা তৈরির কারণ একদিকে জনসংখ্যার মারাত্মক বিস্ফোরণ, অন্যদিকে মানবজাতির অপিরিণামদর্শী ভোগবাদিতা।  এর সুযোগ নিয়ে ইণ্ডাস্ট্রিগুলো এমন অসংখ্য বস্তু উৎপাদন করে, যেগুলোর ৯৯ পার্সেন্ট ছয় মাসের মধ্যেই ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে ফেলে।  এবং সেসব বর্জ্য বৈধ, অবৈধ দু’ভাবেই যত্রতত্র ডাম্প করা হয়।
ইনফ্রাসট্রাকচার এবং নগরায়ন:  বিভিন্ন নির্মাণকাজের (স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, হাসপাতাল, বাসস্থান, শিল্পকারখানা, নানা প্রতিষ্ঠান) মাধ্যমে দ্রুত বাড়ছে মেগাসিটির সংখ্যা।  তাতে একদিকে জনপ্রতি ভূমির পরিমাণ কমছে, আরেকদিকে স্যুয়েজ অব্যবস্থাপনায়, কলকারখানার বর্জ্যে, হাসপাতালের জঞ্জালে, নাগরিক জীবনের আবর্জনায় বিপজ্জনক পরিমাণে মাটি দূষিত হচ্ছে।  বিশেষত  উন্নয়নশীল দেশে অপরিকল্পিত নগরায়নে সংকট আরও তীব্র।  ১‘Cities are important driving forces in environmental trends as a consequence of the increase in the share of the Global Population, that reside in urban areas and the large intensity of activities of urban dwellers. As the world continues to urbanize, however, humans have lost contact with soil and the services it provides to sustain life. Cities and urban processes have had dramatic but varying impacts on soil physical and biochemical properties and pollutant loads, all of which affect the life-supporting services of soils,’(‘The impact of Urbanization on Soils’, book chapter name: ‘Land Use and Soil Resources’ by Peter J Marcotullio).
নগরায়নের ফলে কেবল যে মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলছে তাই নয়। জনপ্রতি উর্বর ল্যাণ্ডের পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে দ্রুত। সেটা কোথায় কতটা, নিচে দেখানো হলো–


২. জল দূষণ: যে কারণে মাটি দূষণ ঘটছে, জল দূষণেও তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।  কারণ সব আবর্জনা শেষ পর্যন্ত ভূগর্ভ আর ভূপৃষ্ঠের জলে গিয়ে মেশে।  তবে জল দূষণের আরেকটি ভয়াবহ বাস্তবতা হলো, সব ধরনের বর্জ্যের (ইণ্ডাস্ট্রি, মাইনিং, কৃষি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিউনিসিপ্যাল, রেসিডেনশিয়্যাল) ৭০% সরাসরি নদী, লেক কিংবা সাগরে ডাম্প করা হয়।  ফলে বিশ্বব্যাপি মিষ্টি জলের উৎসগুলো নষ্ট হওয়ায় নানা ধরনের জলজ প্রাণি যেমন বিলুপ্ত হয়েছে,  তেমনি ৮১৭ প্রজাতির মেরিন জীবনও গভীরভাবে বিপন্ন।  প্রতি বছর ১ লক্ষ ম্যামাল (সাগরের বিভিন্ন স্তন্যপায়ী জীব, যেমন সিল, সি-লায়ন, ডুগং, তিমি, ডলফিন, ওয়ালরুস) এবং কচ্ছপ এর ফলে মারা যাচ্ছে।  গড়ে ১০ লক্ষ করে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখী।  যার ৯৮শতাংশ দায়ভাগ মানবজাতির কর্মকাণ্ডের।  
দূষণের কারণ–
(এক) ইণ্ডাস্ট্রিয়াল এবং খণিজ বর্জ্য: এই বর্জ্যের তালিকা বিশাল।  ফুড ইণ্ডাস্ট্রি থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল, ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট, পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি থেকে রিফাইনিং ফ্যাক্টরি, সবার তালিকা রয়েছে এতে।  এছাড়াও বিশ্ব জুড়ে রয়েছে আইরন, স্টিল, কংক্রীট, প্লাস্টিক, গ্রাভেলসহ যৎযাবতীয় জিনিষ তৈরির রাশি রাশি কারখানার দূষিত পদার্থ।  যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বর্জ্যের ৪০ শতাংশ নদীতে এবং ৪৬ শতাংশ ফেলা হয় বিভিন্ন লেকে।  ইউ এস-এর মিসিসিপি রিভার, রাশিয়ার ভলগা নদী, বৈকাল হ্রদ, চীনের ইয়েলো রিভার, ভারতের পবিত্র গঙ্গা, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন, মধ্য এশিয়ার আমু দরিয়া, পশ্চিম এশিয়ার ইউফ্রেটাস, মিশরের নীলনদ, পাকিস্তানের সিন্ধু, বাংলাদেশের শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গাসহ পৃথিবীর হাজারো নদীর মরণদশা একুশ শতকে দৃশ্যমান।  সাগর মহাসাগরের পরিবেশ দূষণে-দূষণে বিধ্বস্ত। পঙ্গু তাদের ইকোসিস্টেম।
প্রতি বছর চার বিলিয়ন পাউণ্ড গারবেজ ঢালা হয় সাগরে।  ভূমধ্যসাগরে ৮০% স্যুয়েজ যায় আনট্রিটেড অবস্থায়।  এছাড়াও এমন অনেক বর্জ্য সাগরে মেশে যেগুলোর ভাঙন ধরতে সুদীর্ঘ সময় প্রয়োজন, (যেমন, স্টাইরোফোমের ৮০ বছর, অ্যালুমিনামের ২০০ বছর,  প্লাস্টিকের ৪০০ বছর)।  বর্তমানে আবর্জনার সিংহভাগই প্লাস্টিক।  প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন ম্যাট্রিক টন  জমা হয় সাগরে।  প্রতি স্কয়ার মাইলে  ৪৫০০০ হাজারের বেশি বিভারেজ বোতল, ফুড র‌্যাপার, সিগারেট বাট, প্লাস্টিক পাইপ, ব্যাগ, চামচ, গ্লাস, প্লেট ভাসতে দেখা যায়।  সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, আর্কটিক সাগরের সুগভীর বরফের নিচেও জমে উঠেছে প্লাস্টিকের স্তর।  সামুদ্রিক প্রাণিদের মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার যা অন্যতম কারণ।  কারণ মাছ এবং অন্যান্য প্রাণিরা খাদ্য এবং প্লাস্টিকের পার্থক্য বুঝতে না পেরে খেয়ে ফেলে।  ফলে একদিকে পাকস্থলিতে ইনফেকশন হয়, অন্যদিকে খেতে না পারায় এরা মৃত্যুবরণ করে।
(দুই) পেট্রোলিয়াম প্রোডাকশন: বিশ্বঅর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চালিকাশক্তির ভূমিকায় বর্তমানে পেট্রোলিয়াম (গ্যাসোলিন, কেরোসিন, ডিজেল, অয়েল, কয়লা সবই ফসিল ফুয়েল)।  চাহিদা বাড়ায় স্থলভাগ, সাগর উপকূল, সমুদ্রগর্ভ সর্বত্রই তেল-গ্যাস, কয়লা অনুসন্ধানের কাজ বাড়ছে।  অতএব পরিবেশ দূষণেও পড়ছে ব্যাপক প্রভাব।  তেলগ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া, উত্তোলন, রিফাইনিং, ট্রান্সপোর্টিং, মার্কেটিং-এ একের পর এক যে ধারাবাহিকতা, তার নেতিবাচক প্রভাবে ইকোলজিক্যাল ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।  ২০১০-এ মেক্সিকান উপসাগরে ঘটে যাওয়া একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক।  এখানে সমুদ্রগর্ভ খণনের সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ( তেল তোলার কাজে গর্ত তৈরির জন্য মাটির নিচের পাথর ভাঙা হয়।  তাতে প্রচণ্ড প্রেসার সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয় কেমিক্যাল ) ৬৮০০০ স্কয়ার মাইল পর্যন্ত তেল ছড়িয়ে পড়ে।  মারা যায় লক্ষ লক্ষ মেরিন প্রাণি এবং সি-বার্ড।  এছাড়া বিশ্বব্যাপি জাহাজ থেকে তেল পড়ার ঘটনা অজস্র।  সাগরের পরিবেশ ধ্বংস করায় যাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।  ২০১৮-তে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো, উয়োমিং এবং নিউ মেক্সিকোতেই ২৮৩৪ বার জাহাজ থেকে তেল পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
পৃথিবীর আপাদমস্তক জুড়ে জমে উঠেছে মিলিয়ন মিলিয়ন টন গারবেজ।  সর্বত্রই আবর্জনার সীমাহীন স্তূপ।  তবে সাত মহাসাগরের মধ্যে (মূলত পাঁচটি। প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত, আর্কটিক এবং দক্ষিণ বা অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে ঘিরে থাকায় এই নাম ) উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর সবচাইতে বেশি দূষিত।  এখানে দুই ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক পদার্থ ভাসতে দেখা যায়।  দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত মহাসাগর।  প্লাস্টিকের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন।  অবশ্য্য ভারত মহাসাগর দূষণের আরও কারণ আছে।  অসংখ্য দেশের মিউনিসিপ্যাল এবং ডোমেস্টিক স্যুয়েজের পাশাপাশি কৃষিতে ব্যবহৃত সব ধরনের কেমিক্যালই এই মহাসাগরে মেশে।  এছাড়াও পৃথিবীতে প্রতি বছর যতটা পেট্রোলিয়াম সাগরে গড়ায়, তার ৪০ শতাংশই গড়ায় ভারত মহাসাগরে।
কারণ ফসিল ফুয়েল সংগ্রহ এবং বিশ্ববাজারে জাহাজে রফতানি করার জন্য এর ব্যাপক ব্যবহারের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস । ২‘In accordance with the geological history, due to large accumulations of organic matter tremendous petroleum deposition zone developed in the Persian Gulf, hence Indian Ocean is considered as the biggest Petroleum producing in the globe. As data reveals, the offshore Petroleum production rate of Saudi Arabia alone in 1979 was 1.03 x 10 bbl/year became double by the end of 1987. For this reason, majority of the Gulf countries exploit Indian Ocean without considering its managerial problems and risks which may likely come to the fore,’(‘Sources of Pollution in Indian Ocean-Risk and Management’ by Tayyab Saify, S.A. Chaghtai).
(তিন) জলের অম্লীকরণ: (Acidification): গত ১৫০ বছরে বিপুল পরিমাণে ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার, কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ, শিল্পোৎপাদন, বেপরোয়াভাবে অরণ্য ধ্বংসের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  তাতে লেক-নদী, সাগর-মহাসাগরের জলে এসিডের পরিমাণ বাড়ায় জলের রসায়ন বদলে গিয়েছে।  বহু আগেই গবেষণায় জানা গিয়েছিল, সাগরজলে কার্বন দূষণ মারাত্মক হওয়ায় সামুদ্রিক জীবন বিপন্ন।  কিন্তু সম্প্রতি জার্মানির ‘Ruhr-University Bochum’-এর জীববিজ্ঞানীরা ৩৫ বছরের ড্যাটা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, কার্বন দূষণের মাত্রা ফ্রেশ জলেও একইভাবে হচ্ছে।  ৩‘Rising Co2 levels in the atmosphere being absorbed into the World’s oceans have created a wide range of well-documented problems for marine animals and ecosystems. Now, researchers reporting in Current Biology on January 11 present some of the first evidence that similar things are happening in freshwaters too,’(Digital Journal: `Rising Co2 affecting freshwater three times faster than saltwater’ by Karen Graham , 14 January 2018).
(চার) জাহাজ এবং ক্রুজ শিপ: পৃথিবীতে সব ধরনের পরিবহন যত ফুয়েল ব্যবহার করে তার আমদানি রফতানির ৯০ শতাংশ হয় বানিজ্যিক জাহাজে।  গ্রীনহাউস গ্যাস ছড়িয়ে সাগর অম্লীকরণ করায় এদের অবস্থান ছয় নম্বরে।  কিন্তু তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে যাত্রীবাহী ক্রুজ শিপ।  একটি বড় ক্রুজ (২০০০ যাত্রী ধারণকারী) প্রতিদিন ১৫ গ্যালন বিপজ্জনক কেমিক্যাল বর্জ্য সাগরে ছড়ায়।  সাতদিনে যাত্রী এবং ক্রুরা মিলে ২১০,০০০ গ্যালন স্যুয়েজ তৈরি করে।  তাতে একদিকে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, অন্যদিকে তেল বহনকারী জাহাজ থেকে বেশি দ্রুত চলায় প্রচুর সালফার ডাইঅক্সাইডও ছড়ায় ক্রুজ জাহাজগুলো। যা এসিড বৃষ্টির প্রধান কারণ।

৩: বায়ু দূষণ: প্রাণধারা বজায় রাখার জন্য পৃথিবীর চারপাশেই অদৃশ্য শামিয়ানা হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এক উন্মুক্ত আবহমণ্ডল বা গ্যাসের মহাসাগর।  এর ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন।  ২১ ভাগ অক্সিজেন।  ০.০৯ শতাংশ আরগন।  ০.০৩৪  শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইড।  অবশিষ্ট অংশ মিথেন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, নিয়ন, হাইড্রোজেন, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা, পোলেন, বিভিন্ন ধরনের গাছের বীজ এবং কঠিন বস্তুকণা।  সাধারণভাবে এই আবহমণ্ডলের নাম বায়ু।  ছয়টি স্তরে বিভক্ত হওয়ায় একত্রিতভাবে একে বায়ুমণ্ডল বলা হয়।  প্রত্যেকটি স্তরের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকায় আলাদা আলাদা নাম রয়েছে।  বায়ুমণ্ডলকে আকর্ষণ করে রেখেছে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি (Gravity Force)। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি নিরন্তর শুষে নিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ এবং জীবনধারা রক্ষা করা এর কাজ।  তবে  বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাস, পোলেন, ধূলি, পদার্থ কণা এবং জলীয় বাষ্প থাকলেও প্রচুর পরিমাণে টক্সিক গ্যাসের (যেমন, ফ্রোসজিন, আর্সিন, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, নাইট্রাস ফিউম, নাইট্রিক অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি) মিশ্রণ যখন বেড়ে যায়, তখনই বায়ুমণ্ডল দূষিত হয়।      
বায়ু দূষণে কেবল যে মানুষের নানা জটিল রোগ (ডিমেনশিয়া, হার্ট ও কিডনি ড্যামেজ, লিভার, ফুফেুসের ক্যান্সারসহ আরও বহু ধরনের রোগ) হতে পারে, তাই নয়। জনসমাজও পঙ্গু হয়ে পড়ে অপরাধ আর অনৈতিকতা বেড়ে যাওয়ায়।  চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের কারণ নির্ণয় করে গবেষকরা দেখিয়েছেন, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির সংগে বায়ু দূষণের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমেরিকার ৯,৩৬০টি শহরে নয় বছর ধরে সংঘটিত অপরাধের (খুণ, রেপ, ডাকাতি, গাড়ি চুরিসহ) ড্যাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের যেখানে দূষণের মাত্রা বেশি, সেখানে অপরাধের সংখ্যাও বেশি সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও পারিপার্শ্বিকতা নষ্ট হওয়ায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। এসিড বৃষ্টির ফলে মাটি এবং জল দূষণসহ  ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।  বায়ু দূষণের কয়েকটি কারণ আলোচনা করা যাক-
(এক) ফ্যাক্টরি: ইকোসিস্টেম ধ্বংসের পেছনে সিংহভাগ দায় বিভিন্ন ইণ্ডাস্ট্রি এবং ফ্যাক্টরিগুলোর।  একুশ শতকের যান্ত্রিক সভ্যতায় খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে, টেক্সটাইল, চামড়া, কাগজ, মেটাল, প্লাস্টিক, পরিবহন (গাড়ি, বাস, ট্রাক, প্লেন) তৈরির ইণ্ডাস্ট্রি প্রচুর পরিমাণে কার্বন বাতাসে ছড়ায়।  বছরের পর বছর ফ্যাক্টরির ব্যবহৃত জল, কেমিক্যাল, ভারী ধাতু, রেডিও অ্যাক্টিভ বর্জ্য ফেলা হয় মাটি আর জলে।  টক্সিক গ্যাস প্রতিনিয়ত বাতাসে ছড়ায়।  জনসংখ্যা দ্রুত বড় হওয়ায়, পরিবর্তিত জীবনযাত্রার জন্য, এমনকি অপ্রয়োজনেও উৎপাদনের পরিমাণ যত বাড়ছে, পরিবেশ দূষণের মাত্রা ততোই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ৪‘The most damaging greenhouse gas, carbon dioxide is released into the atmosphere from the burning of fossil fuels. Factory emissions contribute greatly to the release of carbon dioxide into the atmosphere. Industry and electrical generating factories contribute more than 50 percent of greenhouse gases,’ (Environmental pollution Caused  by Factories Sciencing.com>science>Nature>Environment).
ব্রিক ইণ্ডাস্ট্রি:  নির্মাণ কাজে ইঁটের ব্যবহার ১০,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো।  আজও সব ধরনের ইনফ্রাসট্রাকচার তৈরিতে ইঁট গুরত্বপূর্ণ মেটেরিয়াল।  ল্যাটিন আমেরিকায় ৪৫০০০ ইঁটের কারখানা রয়েছে।  চাকরিক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য সোর্স হিসেবে ইঁট ফ্যাক্টরি  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিশ্বে মোট উৎপাদনের ৯০ শতাংশ কারখানাই রয়েছে এশিয়া মহাদেশে। যেমন - চীন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ইত্যাদি।  যেহেতু এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তাই কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ দূষণের পরিমাণও বেড়েছে।  পৃথিবীতে প্রতি বছর ১৫০০ বিলিয়ন ইঁট তৈরি করা হয়।  তাতে প্রতি বছর ৩.৫ বিলিয়ন ইঁট তৈরির জন্য ৫, ১৫, ৫০০ টন সালফার ডাইঅক্সাইড,  ৩০২,০০০ টন কার্বন মনোক্সাইড, ৬০০০ টন ব্ল্যাক কার্বন এবং ১.৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে ছড়ায়।
লেদার ফ্যাক্টরি: সভ্যতায় ইঁটের মতো চামড়ার ব্যবহারও প্রাচিন।  কোনো কোনো গবেষকের মতে খ্রীষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দে এর ইতিহাস শুরু।   তবে গবেষণায় এটা্ও জানা যাচ্ছে,  ৪০০ হাজার বছর আগেও পশু চামড়ার ব্যবহার  ছিল।  যাই হোক, কাঁচা চামড়া ব্যবহার উপযোগী করার পদ্ধতি অতীতের মতো এখনও জটিল ও সময়সাপেক্ষ।  সুদূর অতীতে চামড়ার ট্যানিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হতো প্রাকৃতিক উপাদান।  ১৮৫৮ সালে অল্প সময়ে অধিক উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়।  লেদার ইণ্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন কেমিক্যাল (অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম সালফাইড, সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড, ক্রোমিয়াম সালফেট, সালফারিক এডিস) এবং ডাইয়ের ব্যবহার আজও চলছে।  পরিবেশ দূষণসহ ট্যানারি শ্রমিকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি যা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। মিশ্রিত বর্জ্য (এসিডযুক্ত ফেনাজলসহ) যখন আনট্রিটেড অবস্থায় কৃষিজমি, নদনদী কিংবা মাটিতে ছড়ায় তখন পরিবেশ বিপর্যয়ে দূষণ হয় ভয়াবহ।  এছাড়া ফ্যাক্টরির চিমনি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ গরম কেমিক্যাল বাষ্প বেরোয়, বায়ুমণ্ডল নষ্ট করায় অশেষ তার ভূমিকা।  কিন্তু জনজীবনে ফ্যাশনের কারণে চামড়ার জিনিষের চাহিদা বাড়ছেই।  ষাটের দশকে এর ৭০ শতাংশ ব্যবহার ছিল জুতো-স্যাণ্ডেল তৈরিতে।  এখন আসবাবপত্র থেকে গাড়ি-গার্মেন্টস, লেডিস ব্যাগ থেকে ট্রাভেল স্যুটকেস সবেতেই চামড়ার ব্যবহার হচ্ছে।  শুধুমাত্র ২০০১ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে চামড়ার গাড়ির চাহিদা ২৯ থেকে ৪৮ পাসের্ন্ট বেড়ে যায়।  ২০১৭-য় গাড়ি ইণ্ডাস্ট্রির জন্যই প্রতিদিন প্রোসেস করা হয়েছে ১৬০ হাজার পশুচামড়া।
আধুনিক পৃথিবীতে লেদার ইণ্ডাস্ট্রির উৎপাদন বিশাল। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য। যে কারণে অধিক পরিমাণে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে পরিবেশ দূষণের বিষয়টিকে শতাব্দীকাল ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বে প্রতি বছর ট্যানারিতে শুধু সলিড বর্জ্যই তৈরি হয় ৬ লক্ষ টন। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রতিরোধে দূষণ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।  কিন্তু সেটাও কিঞ্চিৎ পরিমাণে কেবল ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার মতো ধনী এবং উন্নত দেশগুলোতে। কাঁচা চামড়ার ট্যানিং প্রক্রিয়ায় ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই টক্সিক কেমিক্যাল ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ এতে কম খরচে, কম লোকবলে, বেশি পরিমাণে দ্রুত উৎপাদন করা যায়। বিশেষত নিম্ন এবং মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল দেশে বিদেশী অর্থ উপার্জনে চামড়াবানিজ্য বিরাট ফ্যাক্টর। ষাটের দশকে ৯০ শতাংশ চামড়ার জিনিষ উৎপাদিত হতো শিল্পোন্নত ইউরোপে। বর্তমানে চামড়ার ৫০ ভাগ প্রোসেস হয় এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকায়।  যেখানে পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতাই তৈরি হয়নি আজও। চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এর দৃষ্টান্ত।   
পরিবহন দূষণ: গত ১৫০ বছরে বায়ুমণ্ডলে গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ।  বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ু দূষণের এক তৃতীয়াংশ দায় প্যাসেঞ্জার কার, বাস, ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ এবং আকাশযানের।  কারণ মোট উৎপাদিত পেট্রোল এবং জ্বালানির বড় অংশ এই সেক্টরেই খরচ হয়।  পরিবেশ দূষণে মূলত যে তিনটি গ্যাস দায়ী, (কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং হাইড্রোকার্বন) তার প্রথম দুটির জন্য ৫০ পার্সেন্ট এবং তৃতীয়টির জন্য ২৫ ভাগ দায়ী বিভিন্ন পরিবহন।  অবশ্য পৃথিবীর সবখানে পরিবহন সেক্টরে গ্রীনহাউস গ্যাস তৈরির পরিমাণ একই পরিমাণ নয়। আফ্রিকার অনেক দেশে (মালি, সোমালিয়া, নিগার, কেনিয়া, মৌরিতানিয়া), দক্ষিণ আমেরিকার কোথাও কোথাও, নেপাল, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কৃষি সেক্টরই গ্রীনহাউস গ্যাস তৈরির জন্য সিংহভাগ দায়ী।
EPA-র (United States Environmental Protection Agency) ২০১৮-এর ড্যাটা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কষি ৯% এবং পরিবহন ২৯ % গ্রীনহাউস গ্যাস বাতাসে ছড়িয়েছে।  মোট পরিবহন দূষণের ৫৯ পার্সেন্টই প্যাসেঞ্জার কারের  (বিভিন্ন প্রাইভেট কারসহ)। ট্রাক ২৩%, এয়ারক্র্যাপ্ট ৯%, জাহাজ ও বোট ৩%, রেল ২% এবং অন্যান্য পরিবহনের ছিল ৪ শতাংশ। বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের  প্রবণতা কতটা সেটা কয়েকটি দেশের  গ্রাফিক চিত্রের মাধ্যমে উপস্থিত করা হলো-

 


৪. তাপ দূষণ (Thermal Pollution): পৃথিবীর অভ্যন্তরীন কেন্দ্রের উত্তাপ কত, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে নতুন মেজরমেন্ট অনুযায়ী, এটা প্রায় ৬০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস (যে কারণে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ঘটে)। কিন্তু এর অতি সামান্যই বাইরে অনুভূত হয়। তাই সুদীর্ঘ সময়েও তাপ দূষণের কারণে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম আজকের মতো বিপদগ্রস্ত হয়নি।  জলবায়ুর বিপজ্জনক পরিবর্তন ঘটেনি।  তাহলে বর্তমান শতকে এটতা তাপ দূষণের কারণ কী? বলা চলে যখন থেকে শিল্পবিপ্লবের প্রচণ্ডতা জগৎ কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন থেকেই পরিবেশ বিপর্যয়ের শুরু। ৫‘A common cause of thermal pollution is the use of water as a coolant by power plants and industrial manufactures. When water used as a coolant is returned to the natural environment at a higher temperature, the sudden change in temperature decreases oxygen supply and affects ecosystem composition’ (en.wikipedia.org>wiki>Thermal Pollution).
সব ধরনের কলকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্টগুলোতেই (একমাত্র বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়া) প্রচুর পরিমাণে জলের দরকার হয়।  উৎপাদন প্রোসেসের জন্য এবং পরে ঠাণ্ডা করার জন্য জল অথবা গ্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  যার প্রভাবে জলের ইকোসিস্টেম নষ্ট হয়।  বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত ও দূষিত হয়ে পড়ে।  কারণ এই উত্তপ্ত জল সরাসরি আনট্রিটেড অবস্থায় সাগর, লেক কিংবা নদীতে মেশে।  আবহমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।  শিল্পবিপ্লবের সভ্যতা ইতোমধ্যেই পৃথিবীর ধ্বংসের পথ সুগম করেছে।  ৭৫ শতাংশ ফসিল ফুয়েল ১৯৭০ থেকে ২০২০ এর মধ্যে নিঃশেষিত হওয়ায় গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।  অরণ্য উজার  হওয়ায় প্রকৃতির ধ্বংস অভূতপূর্ব দ্রুতগতিতে তরান্বিত।  বর্তমানে বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণিসম্পদ বিলুপ্ত।  বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে লক্ষ লক্ষ বছরের বরফ সাগর, গ্লেসিয়ার, পাহাড়ের আইসক্যাপ গলায় সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।  তারপরও এই অপূরণীয় ক্ষতিকে মানুষ অকাতরে নিরন্তরই আহ্বান করে আনছে।
যাই হোক, তাপ দূষণের প্রধান কয়েকটি কারণ হলো- (১) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।  (২) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।  (৩) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র।  (৪) পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র।  (৫) সব ধরনের ইণ্ডাষ্ট্রির বর্জ্য।  (৬) ডোমেস্টিক স্যুয়েজ এবং (৭) তেল উৎপাদন ক্ষেত্র।  সব ধরনের তাপ উৎপাদন প্রকল্পে অবশ্য একই পরিমাণে জলের দরকার হয় না।  এটা নির্ভর করে পাওয়ার জেনারেট করার পদ্ধতি এবং কোন জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপরে।  যেমন পারমাণবিক প্রকল্প পদ্ধতিতে (Nuclear Power plant) এক মেগাওয়াট আওয়ার (এক ঘন্টা ধরে কাজ করার পরে) বিদুৎ উৎপাদনে ১১০১ গ্যালন জলের দরকার হয়।  কয়লা প্রকল্পে  ১০০৫, সৌরবিদ্যুতে  ৯০৬,  বায়োম্যাসে ৮৭৮, ন্যাচারাল গ্যাসে ২৫৫।  যুক্তরাষ্ট্রে এখনও পর্যন্ত (২০২০) মোট বিদ্যুতের ৩৭ শতাংশ উৎপাদিত হয় কয়লা পুড়িয়ে।  তবে পৃথিবীর সব ধরনের দূষণের ৩০ শতাংশ একাই করে চীন।  মোট বিদ্যুতের চার ভাগের তিন ভাগ চীন এবং যুক্তরাষ্ট মিলে উৎপাদন করে।

৫: শব্দ দূষণ (Noise Pollution): সাধারণভাবে ‘শব্দ’ মানে Sound।  শব্দ তখনই দূষণ ঘটায় যখন অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অবাঞ্ছিতভাবে উচ্চ আওয়াজ তুলে বিরক্তিকর এবং ক্ষতিকর কোলাহলে (Noise) পরিণত হয়।  যেমন ভিড়ের চিৎকার।  সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত বা ধর্মীয় কারণে কোলাহল সৃষ্টি।  এরোপ্লেনসহ বিভিন্ন যানবাহনের কর্ণবিদারি শব্দ।  এছাড়াও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, ইণ্ডাস্ট্রির ভারি মেশিনের আওয়াজ, কনস্ট্রাকশনের কাজ, ড্রিলিং, মাইকিংসহ আরও অজস্র কারণে প্রতিদিন শব্দ দূষণ ঘটছেই।  ১৯৭২ -এ প্রথমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শব্দকে দূষণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।  পরিবেশ বিপর্যয়ে শব্দ দূষণের অবস্থান তিন নম্বরে।  তার নেতিবাচক দিক যেমন মানুষের শরীর এবং মনের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, তেমনি অন্যান্য জীবজগৎ এবং পরিবেশও এর বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগে ঘরে বাইরের সব জায়গাতেই শব্দ দূষণ ব্যাপকভাবে বাড়ছেই।  বিশেষত অতিরিক্ত জনবহুল উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের নাগরিক জীবনে শব্দ দূষণ একটি মারাত্মক বাস্তবতা।  জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে এখানকার ছোট-বড় সব শহরেই যেমন স্থান সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি আধুনিক যুগের সব ধরনের ফ্যাসিলিটি যোগ করতে গিয়ে শব্দ দূষণ পৌঁছে যাচ্ছে ভয়াবহ পর্যায়ে।
২০১৫-এর মে-জুন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পাবলিকেশন্স জানিয়েছিল, ইউরোপে শহরাঞ্চলের ৪০ শতাংশ মানুষ পরিবহনের কারণে প্রচণ্ড শব্দ দূষণে ভোগেন।  বায়ু দূষণ থেকে শব্দ দূষণকে বেশি মারাত্মক মনে করেন ৮৪ পার্সেন্ট মানুষ।  ৯০ দশকে NIOSH -এর  (National Institute for Occupational Safety and Health, ১৯৭০ সালের ২৯শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত।  প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যে) একটি গবেষণা দেখিয়েছিল, ৯০ শতাংশ কয়লা খণির শ্রমিক ৫২ বছর বয়স হলেই কানের সমস্যায় ভোগেন।  অন্যান্য খণির কর্মীদের ৬০ শতাংশের সমস্যা সৃষ্টি হয় ৭০ বছরে পৌঁছনোর পরে।  শব্দ দূষণের কারণে আমেরিকার ১২০ মিলিয়ন মানুষ কানের বিভিন্ন রোগে (হেয়ারিং লসসহ) ভুগছেন।  কেবল কানের সমস্যা নয়, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রেস এবং ব্রেইনের অনেক জটিল রোগের জন্যও শব্দ দূষণ দায়ী।
তবে বর্তমান বিশ্বে শব্দ দূষণের শিকার যতটা না মানবজাতি, তার চাইতেও বড় বিপদের সম্মুখীন জলস্থলের বন্যপ্রাণি জগৎ।  নিরালা প্রকৃতির নিভৃত কোলে তাদের বিচরণ যেমন অরণ্য উচ্ছেদের কারণে সীমিত হয়েছে, তেমনি যান্ত্রিক সভ্যতার বহুবিচিত্র শব্দে তাদের বংশবিস্তারও প্রতিহত করা হচ্ছে।  যেমন, পশুপাখীরা তাদের খাদ্য অনুসন্ধানে, অবাধ বিচরণে, শিকারি পশু-পাখীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে, প্রেমিক-প্রেমিকাকে আকর্ষণ করতে (প্রজনন মৌসুমে) বিভিন্ন ধরনের শব্দ ব্যবহার করে।  শব্দ দূষণের ফলে এসব কাজ প্রতিনিয়তই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।  যার জন্য তাদের পক্ষে বেঁচে থাকা, বংশবিস্তার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সঙ্গীন অবস্থায় পৌঁছেছে মেরিন প্রাণির স্বাভাবিক জীবনধারাও।  হররোজ সমুদ্রগর্ভে তেল অনুসন্ধানের কাজ, ড্রিলিং, Seismometer যন্ত্রের মাধ্যমে ভূমিকম্পের অবস্থা জানা, মেরিন সেনাদের সাগরে সাবমেরিন, মাইন লোকেট করার জন্য তীব্র কম্পন সৃষ্টিকারী Sonar Device-এর ব্যবহার (এছাড়াও এটি মিলিটারি ট্রেনিং-এর অংশবিশেষ), সাগরতলের শান্ত পরিবেশ প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত করছে। অরণ্যের পশুপাখীরা যেমন কমিউনিকেশনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাউণ্ডের দ্বারা পরিচালিত, সাগরের প্রাণিরাও (বিশেষত বিভিন্ন প্রজাতির  তিমি ও ডলফিন) তেমনি জীবনযাত্রার সবক্ষেত্রে শব্দের অবস্থানের (Echolocation) ওপর নির্ভরশীল।  মানুষের তৈরি অতিরিক্ত শব্দপুঞ্জ তাদের যোগাযোগ মাধ্যমকে সর্বতোভাবে ভাঙচুর করে দিচ্ছে।  স্থলভাগের পশুপাখীদের মতো তাদের  জীবনযাত্রা ও বংশবিস্তার প্রতিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে তাদের আচার আচরণ।  এছাড়াও এসব যন্ত্রের আঘাতে মেরিন প্রাণিদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত বাস্তবতা।

৬: তেজষ্ক্রিয় দূষণ (Radioactive Pollution): বিশ্বপ্রকৃতিতে তেজস্ক্রিয় উপাদান সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে।  পৃথিবী নিজেই স্থলজ রেডিয়েশনের মূল সোর্স।  বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর জন্মমুহূর্তের আদিমতম সময়ে যে পরিমাণ তাপ ছিল এখনও তার অভ্যন্তরীন কেন্দ্রে সেটা রয়েছে।  এই তাপমাত্রার পরিমাণ ৬০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছাকাছি।  তার দৈহিক উপাদানেও (মাটি, পাথর ইত্যাদি) রয়েছে ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, থোরিয়াম।  বাতাসে রয়েছে রেডন।  কসমিক রেডিয়েশন আসছে সূর্য আর নক্ষত্র থেকে।  তাই ফসল ফলছে।  প্রাণিজগৎ স্পন্দিত হচ্ছে।  অতএব তেজস্ক্রিয়তা বা রেডিয়েশন বিশ্বপ্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।  যে কারণে পৃথিবীকে বলা হয়ে থাকে ‘Radioactive World’।
কিন্তু প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নিয়মে যে রেডিয়েশন হচ্ছে তার স্পর্শে অবিরাম উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, পশুপাখী, মানুষ অভিস্নাত হলেও তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব জীবজগৎ এবং পরিবেশের ওপর থাকছে না। অবশ্য বর্তমানে বিভিন্ন এয়ারক্র্যাপ্টের অতি চলাচলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ে যাওয়ায় এবং কোথাও কোথাও ফুটো হওয়ার ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ। যাই হোক, রেডিয়েশনের ব্যবহার মানবজাতির কল্যাণেও ব্যবহৃত হচ্ছে নানাভাবে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রে মেশিনের ব্যবহারে, ক্যান্সার নিরাময়ে, ইণ্ডাস্ট্রিতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, এমনকি কৃষি উৎপাদনেও কোথাও কোথাও এর ব্যবহার বদলে দিচ্ছে সভ্যতাকে।
কিন্তু তারপরও তেজস্ক্রিয় দূষণ একুশ শতকের পৃথিবীকে আরও একটি সমাধানহীন পরিবেশ সংকটের আবর্তে ফেলে উদ্বিগ্নতার পরিমাণ বাড়িয়েই চলেছে।  কারণ মানুষের তৈরি তেজস্ত্রিয়তার দূষণ (সেল ফোন, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ আরও বহু রকম ডিভাইস বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের কারণে) পরিবেশ এবং জীবজগতকে মারাত্মক ভয়বহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  ইন্ডাস্ট্রিয়াল, মেডিক্যাল কিংবা রিসার্চ যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, রেডিওঅ্যাক্টিভ পদার্থের অতি ব্যবহারে মানুষ স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়ছে।  বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ে যাচ্ছে।  জল দূষণে, বায়ু দূষণে দূষিত মেঘ সৃষ্টি হওয়ায় এডিস বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে।  পরিবেশ অস্বচ্ছতা (দূষণের কারণে), শীতপ্রধান দেশে শীত ঋতুতে ধূলো এবং ধোঁয়ার আস্তরণে সূর্যরশ্মির ঢেকে থাকা, বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার জন্মলাভ, নতুন নতুন অসুখের আবির্ভাব, এগুলোর সবই তেজস্ক্রিয় দূষণের একেকটি সুনির্দিষ্ট তালিকা।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, রেডিওঅ্যাক্টিভ বর্জ্য থেকে ১৫ শতাংশ তেজস্ক্রিয় দূষণ ঘটছে।  এর ওপর সামরিক শক্তির প্রবলতা এবং বিজ্ঞান শক্তির অগ্রসরতা প্রমাণের মাধ্যমে শক্তিমানের গৌরব পেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি আর নিউক্লিয়ার অস্ত্র পরীক্ষার মহড়া তো চলছেই।  সুতরাং এনার্জি এক্সপ্লোশনের সংখ্যা যত বাড়ছে, জলবায়ুও নিয়মিতভাবে ততো ভারসাম্যহীন হচ্ছে।  বলা বাহুল্য, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ভালো উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হলেও এর ব্যবহার যত বেশি সময় ধরে চলবে, তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া ততোই দীর্ঘায়ত হবে।  এ প্রসঙ্গে ১৯৪৫-এর ৬ই আগষ্ট নাগাসাকি আর হিরোসিমায় আণবিক বোমা বিস্ফোরণের কথা বলা যায়।  এই উদাহরণ তাৎক্ষণিক অবস্থার কথা বলার জন্য নয়। এই জন্যই বলা যে, রেডিয়েশনের প্রতিক্রিয়া ৬৫ থেকে ৭০ বছর পরেও জাপানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্পর্শ করতে ছাড়েনি। অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় দূষণের মাত্রা যেমনই থাক মানুষের শরীর এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির ক্ষেত্রে এর প্রভাব থেকেই যায়।
যাই হোক, একুশ শতকের পরিবেশ দূষণ এবং পরিবেশ বিপর্যয় আন্তর্জাতিক বিশ্বের সামনে এক শক্তিশালি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এর জন্য উন্নত বিশ্বে (যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার পরিবেশ দূষণের জন্য সিংহভাগ দায়ী) ৭০ থেকে ১০০ টি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে। অধিকাংশ দেশই তাদের কনস্টিটিউশনে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করেছে। ১৯৭২ সালথেকে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় প্রণয়ন করা হয়েছে অজস্র আইন।  স্বাক্ষরিত হয়েছে শত শত এগ্রিমেন্ট। কিন্তু তা সত্ত্বেও উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল, দুই বিশ্বেই  নানা কারণে পরিবেশ রক্ষার পদক্ষেপগুলো এখনো পর্যন্ত উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

দীপিকা ঘোষ
ওহাইয়ো, যুক্তরাষ্ট্র