অটোয়া, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২০
সুদীপ্ত বিশ্বাস-এর দু’টি কবিতা

পূর্বরাগ
যেই গিয়েছি তোমায় ছুঁতে তুমি বললে, 'না-না'
তোমার ছোঁয়ায় স্বপ্নগুলো ঝটপটাল ডানা।
ফাগুন এসে আগুন দিল কৃষ্ণচূড়ার বনে,
সেই আলোতে সুখপাখিটা বাঁধল বাসা মনে।
অলস দুপুর, নিঝুম বিকেল একলা বসে আছি,
স্বপ্নগুলো বাঁধ মানে না, করছে নাচানাচি।
স্তব্ধ? হ্যাঁগো, স্তব্ধ হয়েই ছিলাম বছর-মাস;
পায়ের তলায় সরছে মাটি, চরম সর্বনাশ!
ডানায়-ডানায় উড়তে হবে পথ যে অনেক বাকি;
সেসব ভুলে অবুঝ আমি, বিভোর হয়ে থাকি!

ফেরা
মেঘ চাইতেই জল আসে না
জীবন বড় শুখা
অসম্ভবও চাইনি কিছু আমি।
যা ছিল তাও হারিয়ে গেল
হঠাৎ মরুঝড়ে
এখন চোখে স্বপ্নও নেই দামি।
অতীত এখন আকাশকুসুম
মন খারাপের খাতা
বর্তমানও দেয়াল হয়ে খাড়া,
অন্ধকূপে বন্দী হয়ে
মিথ্যে ছুটে মরি
হাজার ডেকেও পাই না কারও সাড়া।
মুখোশধারী বন্ধুরা সব
ট্রিগার দিল টিপে
বন্ধুতো নয়, বন্দুক সব আজ।
স্বার্থ লোভের হিংস্র থাবায়
মানুষ এখন পশু,
এখন মানুষ বড়ই ধাপ্পাবাজ।
চাইতে চাইতে পাথর হয়ে
চাই না রে আর কিছু
ভুলেই গেছি চেয়েছিলাম কি যে!
ঘুরতে ঘুরতে হন্যে হয়ে
আর ঘুরি না আমি
ফিরেও গেছি নিজের কাছে নিজে।

সুদীপ্ত বিশ্বাস, 
রানাঘাট, নদিয়া