অটোয়া, শনিবার ২১ মে, ২০২২
ওয়াসিম সেখ-এর তিনটি কবিতা

অসময়
দিনের তো শেষ হয় সময়ের অন্তীমে, 
রাতের কায়া ভেদ করে সূর্য তার আলো দেয় অচিরে।
আলোকিত আভায় বাস্তবের রূপ নিটলে শোভা পায়-
বলয়ের ঘেরাটোপে প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে নিদ্রাচ্ছন্ন প্রতীকির ভাষায়।

চারিদিকে ভয়ার্ত অশনীর বহমান সংকেত, 
যেন কর্ণের গোচরে প্রতিবাদি ধ্বনির সমবেত।
দুঃসময়ে কবলিত প্রাণ, বিচারের আশা'য়-
রয়েছে কত-শত বিচারক, বিচারালয়ের ভরসা'য়।

কুন্ঠিত ধ্বনি সম্মিলিত কুন্ঠাবোধে আঘাত, 
খঞ্জরিত কন্ঠস্বরে ছিদ্রণ,বাকরূদ্ধ করাঘাত।
নিটল চোখে সদাগ্রহী নিম্নতরে অশ্রু বহমান-
দোষারূপ তীর্যক আমার পানে এ কোন আবহমান।

মিথ্যের জালবোনা সহস্রতার বাঁকা হাসি, 
মিথ্যের জয়, তুলে আমরাই আবার ফাসি।
শুরু থেকে শেষ সবাই মিলিমিশি-
ভাবনার অবয়বে,নিষ্ঠুর গ্রাসে দিবানিশি।

সময় ঘুর্ণিত চিন্তন- আবেগ-ভাবনার বলয়ে।
অসময় দেখা দেয় চোখে কালোপট্টির সন্তর্পণে!

মনুষ্যত্বে নিসাড়
মানব-বন্ধনের ভালোবাসা কি মুর্ছা গেল? 
দিকের দিকপালে অনৈতিকতার অসারতা কেন, 
জীবনের বন্ধনে শুধুই একাগ্রতা-
জীবন কি শুধুই একা'র সম্মিলিত নিধান।

স্বকীয়তার বাহুবলে প্রশংসার আদলে মহিয়ান, 
বাস্তবের মোহজালে সঁপে ধন্যতার পরিচয়ে আবদ্ধ-
চারিদিকে দূর্বিসহ চিত্র অন্ধের কালো পট্টি চোখে, 
জীবনের মোহ ভক্তি শুধুই স্বকীয়তার প্রতি।

জীবনের মায়া একাকিত্বের বন্ধনের সেতু,
আজীবন কর্মফলে মিলেমিশে সফল-
আজ সবই বিবেকের লাজ-
জীবন পানে কে কার জন্য করবে কাজ।

পাশবিকতা শুধুই বিকৃত দুরাচারে-
নিষ্ঠুর মনন শুধুই অপরের শেষ ভালোবাসে, 
জীবনের নিঃস্ব ক্লেশ সময়ের হেরফের, 
অসাড় মানসিকতা মনুষ্যত্বের দিক-নির্দেশ।

চারিদিকে ছন্নছাড়া, যন্ত্রাংসের বাষ্প উদীয়মান গগনে, 
ঘনীভূত প্রতীকির প্রতিচ্ছবি ভূবনের ধ্বংস সাধনে, 
তবুও চিন্তন-বিকল, নিস্তার নেই অবকেশে-
সবই তো বুঝি প্রকৃতির রোষে রসাতল ভূমি, 
দৈব্য-দূর্বিপাকের নিষ্ঠুর কবলে পরে!

ফুটপাতের ধার
লার পথে চেয়ে দেখি প্রতিদিন পথিক বেশে- ব্রিজের নিচে ছেঁড়া ত্রিপলের বেস্টনী আর ইট-কাঠের জ্বলন্ত উনুনে-ফেনা ভাত-সেদ্ধ আলু- আর নুন।
জীবন তো এইভাবেই চলমান মাসিক পর্বান্তর পার করে যায়,
আবার সময়ের নিবেশে ফিরে আসে।

চোখের সামনে অবহেলিত অপাংক্তেয়-জরাজীর্ণ ছেঁড়া-কাপড়ের শরীরি বেস্টন, 
শিশুরা কাঁদে আঁচল ধরে-
হয় তো দুধের আশায়-নয়তো খাবারের।

স্বকীয়তার বিষাক্ত-ধমনী শিউরে ওঠে তাদের রাত্রিযাপনের অভিজ্ঞতায়।
দিনের আলোয় নানা রং তামাশার হাহাকার, রাতের নিস্তব্ধ অন্ধকার পেছনে ফেলে এগিয়ে চলে দিক বলয়ের অবিরাম- 
শুভ্রতার চিহ্ন নেই কোথাও-
এমনকি ফুটপাতের ধারে ও নয়।

রোদ-জল-ঝড়ের তান্ডবে ছিন্ন-পোষ্টার-পলিথিন-কাগজের সন্নিবেশে ভয়াবহ দূর্বিসহ- দিনেও ফুটপাত ধরে বেঁচে আছে আজও তারা।
সঙ্গী পথের কুকুরগুলো ও করে চেঁচামেচি উষ্ণতার ধোঁয়া মেখে।
সুন্দর অঙ্কিত দেয়ালগুলো ও হয়ে যায় কুৎসিত, কিছু মানুষের মুখ বয়বের ফেলা থুতু , নোংরায়।

চারপাশ ছেঁয়ে আছে তীব্র কোলাহলে, 
বাতাসে বহমান সম্মোহের অবাঞ্চিত-অবিশ্বাস,
তবুও নির্বাক ঘর বাঁধার স্বপ্নে।
ফুটপাতের ধারে পৌরসভার বর্জ্য পদার্থের পুঞ্জস্তূপ ভরাডুবি নাকে দুর্গন্ধ-
তবুও বেঁচে রয় নিধানে স্বকীয়তার বাহুন্ডুলের বলয়ে।

ওয়াসিম সেখ
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ