অটোয়া, শুক্রবার ২০ মে, ২০২২
শান্তনু দত্ত’র দু’টি কবিতা

বাসর
হাজার বছর ধরে, আমি ছুটে চলেছি
প্রতি দিনের ব্যস্ততা নিয়ে।
জীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো, উদ্ধত
অন্ধকারে, একটু একটু করে প্রতিদিন
ফেলছি হারিয়ে।
ঘড়ির কাঁটার মতো সুখ আর দুঃখ
কক্ষপথ ঘুরে এসে, কড়া নাড়ে দরজায়।
দূর দিগন্তে সূর্যাস্ত, যেন অস্তমিত জীবনেরও
রঙ বদলায়।

সোনার আংটি পরা আঙ্গুলের ফাঁকে
সিগারেট পোড়ে আজও।
নেশা ছিল তোমার দুচোখ, হঠাৎ
স্বপ্ন ভেঙ্গে হয়েছে উধাও।
ধূমায়িত চায়ের কাপ, ও তামাকের
কটূ গন্ধের সাথে কতকাল করেছি
সহবাস।
শুধু হৃদয়ের আবেগে ভুলতে পারিনি
তোমার দু চোখের হাসিতে সরল বিশ্বাস।

ছুটে চলে পথ, ঘাট, গ্রাম, শহর ও নগর
ইতিহাসের পাতায়।
শান্ত দুপুরের মতো আমিও বিস্মিত চোখে
তোমাকে দেখি গহনায়।
তোমার শিল্পী সত্তার অপরূপ শরীরী প্রকাশ
পেতেছে বিশ্বজোড়া ফাঁদ।
তোমার লাবণ্যের সুষমায়, সমস্ত দ্বিধা
ঝেড়ে ফেলে, আবেগে স্তব্ধ হয়েছে 
পূর্ণিমার চাঁদ।

অনেক পাখী উড়ে গেছে আকাশে।
কতো সঙ্গীত মন ছুঁয়ে ভেসে গেছে 
বাতাসে।
তাই আজ বিষণ্ণতা জাগে, সোনালী পানীয়
ভেজানো আমার ঠোঁটে।
বিবর্ণ সময় হাসে, বোঝে ভালোবাসার
গোলাপে কাঁটা ফোটে।
জানি তোমার অখণ্ড ব্যস্ততার মাঝে 
পাও নি অবসর।
হাজার বছর ধরে, তাই অসম্পূর্ণ রয়ে
গেছে আমার বাসর।

হৃদয় তোমাকে
হৃদয় তোমাকে দিলাম
শুনেছো তুমি।
মরুভূমি নয়, এ আমার
বধ্যভূমি।
বুকে জমেছে শুন্যতা, চাঁদ
ওঠে ফালি।
সার দিয়ে চলে উট, পায়ে
ওড়ে বালি।

কতো মুখ আসে চেনা
অচেনার ভিড়ে।
তার মাঝেও তোমাকে খুঁজে
চলি ধীরে।
মনে পড়ে ছেলেবেলা, বৃষ্টি
ভেজা দিন।
কেটে যেত পথে, স্মৃতি
আছে অমলিন।

আজও প্রত্যাশা জেগে ওঠে
প্রতি রাতে।
নিশাচর চাঁদ, রাত দেখি
আয়নাতে।
স্বপ্নগুলো সাদা মেঘ হয়ে
ভেসে যায়।
মরু শিয়ালের গল্প বাতাসে
হারায়।

আমিও চলি উটের মতো
গ্রীবা তুলে।
চকিত চাহনী লেগে তোমার
কাজলে।
আমার হৃদয় রেখো তোমার
আঁচলে।
কল ঘরে জল, বনফুল
ভিজে চুলে।

শান্তনু দত্ত। বাগনান