অটোয়া, শুক্রবার ২০ মে, ২০২২
কবি ও রাজনীতির কবি: রবীন্দ্রনাথ ও শেখ মুজিব - আলী রেজা

প্রথম বাঙালি কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১ খ্রি.) নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে। একজন বাঙালির জন্য সময়টা ছিল কঠিন। বঙ্গভঙ্গবিরোধী উত্তাল আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে। এর আগে ব্রিটিশ সরকারের কোন আইনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি এমনভাবে দুর্বার আন্দোলন করতে পারেনি। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হলেও কংগ্রেস তখন পর্যন্ত ব্রিটিশবিরোধী কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেনি। মুসলিম লীগও গঠিত হয়েছিল (১৯০৬) ব্রিটিশ সরকারের নিকট থেকে মুসলমানদের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে। ফলে মুসলমানগণ বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয় নি। বঙ্গভঙ্গের ফলে অভিজাত ও লব্ধপ্রতিষ্ঠ হিন্দুদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল বলে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল। ব্রিটিশবিরোধী এ আন্দোলন সফল করার জন্য অনেক রক্ত ও ঘাম ঝরাতে হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সেদিন যোগ দিয়েছিলেন কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণও। স্বদেশী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একটি গ্রুপ বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছিলেন। তারা গোপনে ব্রিটিশবিরোধী সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতেন। আন্দোলনকে উজ্জীবিত রাখার জন্য কবি-সাহিত্যিকগণ স্বদেশী কবিতা ও গান রচনা করেছিলেন যা আজও মানুষের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে। এই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন রবীন্দ্রনাথও। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী গান ও কবিতা সেদিন চরমপন্থি ও নরমপন্থি উভয় ধারার রাজনৈতিক কর্মীদের উজ্জীবিত করেছিল। বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের নজর এড়ায়নি। তবু বঙ্গভঙ্গ রদের দুই বছর পরেই পশ্চিমা বিশ^ রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দিলেন। পুঁজিবাদী পশ্চিমা বিশ্ব ভাববাদী রবীন্দ্রনাথকে যে গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার দিলেন (গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ) সে গ্রন্থে পুঁজিবাদের ছোঁয়াও নেই; রবং পুঁজিবাদী ভাবধারার বিপরীতধর্মী আধ্যাত্মবাদী চেতনা ছিল গীতাঞ্জলিতে। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ আরও বেশি রাজনীতিমনষ্ক হয়েছিলেন। সভ্যতার সংকটসহ অনেক প্রবন্ধে তিনি রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করেছেন নানাভাবে। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের (১৯১৯) প্রতিবাদে ইংরেজ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নাইট উপাধি বর্জন করেছেন। তাই সাধারণের দৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজঘেষা ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হিসেবে কখনো কখনো বিতর্কিত হলেও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ কখনো পিছপা হতেন না। পুঁজিবাদী পাশ্চাত্য বিশ্বের সাথে সখ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ভ্রমণের পর রাশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা রাশিয়ার চিঠিতে (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ  সমাজতন্ত্রের প্রশংসা করেন। সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের প্রতি আগ্রহটা রবীন্দ্রনাথের কল্পনাবিলাসী বিষয় ছিল না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও রুশ বিপ্লবের পরে রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতপক্ষেই সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদবিরোধী হয়ে উঠেছিলেন। বরীন্দ্রচিন্তায় যে সাম্যবাদ ইউটোপিয়ান বা কল্পনাবিলাসী ছিল না তার প্রমাণ পাওয়া যায় ‘এবার ফিরাও মোরে’, ‘পুরাতন ভৃত্য’, ‘দুই বিঘা জমি’, ‘বাঁশি’, ‘ঐকতান’, ‘ওরা কাজ করে’ ইত্যাদি কবিতায়।  শোষণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের যখন এই অবস্থান সেই কালপর্বে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
     শেখ মুজিবও সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদবিরোধী সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন। কবি না হলেও আজ আমরা তাঁর লেখকসত্ত্বার পরিচয় পেয়েছি। অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) কারাগারের রোজনামচা (২০১৭) ও আমার দেখা নয়াচীন (২০২০) নামক তিনটি অনবদ্য গ্রন্থ প্রকাশের তিনি এখন লেখক হিসেবেও সর্বমহলে স্বীকৃত। যাহোক বর্তমান আলোচনায় শেখ মুজিবকে রবীন্দ্রনাথের একজন ভক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ভারতবর্ষসহ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য ভক্ত ছিল। সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর ভক্তের সংখ্যা অসংখ্য এবং তারাই রবীন্দ্রনাথকে কবিগুরু হিসেবে মান্য করে আসছে । কিন্তু ভারতবর্ষে কবিগুরুকে ভক্তি করতেন এমন রাজনীতিবিদের সংখ্যাও কম ছিল না। গান্ধী, নেহেরু, সুভাষ বোসের মতো সর্বভারতীয় নেতারাও কবিগুরুকে ভক্তি করতেন। তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা নিতেন। এটা শুধু আবেগনির্ভর ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে কবিগুরুকে সঠিক সময়ে সঠিক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে সব সময়। কংগ্রেসের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন না রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ সর্বভারতীয় প্রতিভা হলেও একজন বাঙালি হিসেবে বাংলার প্রতি তাঁর দরদ ছিল অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গে আবাসভূমি হলেও জমিদারী তদারকির কাজে পূর্ববাংলায় তিনি এসেছেন, বসবাস করেছেন। পূর্ববঙ্গের নদীবিধৌত অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সাহিত্যরচনা করেছেন। ছিন্নপত্রের অসংখ্য স্থানে পূর্ববাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা ও প্রশংসা করেছেন কবি। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আজও তাঁর স্মৃতি বহন করে আছে। বাংলা বলতে রবীন্দ্রনাথ যদিও যুক্তবাংলাকেই বুঝতেন তবু পূর্ব বাংলার রূপেই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন বেশি। পূর্ব বাংলার নদ-নদী ও ফসলের মাঠ, নদীতীরবর্তী জনজীবন ও সংস্কৃতি কবিকে নতুন ভাবনায় সমদ্ধ করেছিল। গল্পগুচ্ছের অসংখ্য ছোটগল্পে আমরা তার সন্ধান পাই। পূর্ববাংলার প্রতি এই টান সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের বাংলা মানে শুধু পূর্ববাংলা নয়। বাংলা বলতে তিনি অবিভক্ত বাংলাকেই বুঝেছেন। তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে তিনি ব্যথিত হয়েছিলেন। বঙ্গভঙ্গকে তিনি ‘বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাই বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’সহ অনেক স্বদেশী বা দেশাত্ববোধের গান লিখেছিলেন। মোটকথা বাঙালি জাতীয়তাবাদবিরোধী যেকোন বিষয়ের বিরোধিতা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এ ক্ষেত্রে আমরা একজন জাতীয়তাবাদী রবীন্দ্রনাথকে পাই। অবশ্য পরে তিনি জাতীয়তাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিকতাবাদে উন্নীত করেছিলেন। 
     রবীন্দ্রনাথের এই জাতীয়তাবাদী চেতনার ভক্ত ছিলেন শেখ মুজিব। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর রবীন্দ্রনাথকেও ভাগ করার অপচেষ্টা চলে। সেই অপচেষ্টার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রনাথকে বর্জন করার পরিকল্পনায়। রবীন্দ্র সংগীতকে ইসলামি নীতি-আদর্শের পরিপন্থি বলে পাকিস্তানের রেডিও-টেলিভিশনে তা সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। পূর্ব পাকিস্তানের কিছু স্বার্থান্ধ, ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি সমর্থনও করে। কিন্তু প্রগতিশীল শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের যুক্তিসঙ্গত প্রতিবাদের মুখে সেই অপতৎপরতা বন্ধ হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। শেখ মুজিব তখন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ সময় বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তি ও তৎকালীন ইসলামি একাডেমির পরিচালক আবুল হাশিমও বলেছিলেন, ‘যাহারা ইসলাম  ও পাকিস্তানি আদর্শের নামে রবীন্দ্রসংগীত বর্জনের ওকালতি করিতেছেন তাহারা শুধু মূর্খই নহেন, দুষ্টবুদ্ধি প্রণোদিতও; তাহারা না বোঝেন রবীন্দ্রনাথ না বোঝেন ইসলাম।’ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হয়ে এসে রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিব  দৃঢ়কণ্ঠে বলেন ‘ আমরা এ ব্যবস্থা মানি না। আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়িবই, আমরা রবীন্দ্রনাথের সংগীত গাইবই এবং রবীন্দ্রসংগীত এই দেশে গীত হইবেই।’ 
     বাঙালির ভাষাকে যিনি বিশ্বদরবারে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন, বাঙালি মধ্যবিত্তের সুখ-দুঃখ ও মনোজগতের বিচিত্র অনুভূতিকে যিনি রূপায়িত করেছেন তাঁর নানামাত্রিক সাহিত্যকর্মে সেই কবিগুরুকে পূর্ব বাংলার মানুষের হৃদয়ে অক্ষয় করে রাখার জন্য শেখ মুজিব মনস্থির করলেন। তাই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি যখন বিজয় অর্জন করল তখন বিজয়ী বাঙালি জাতির ‘জাতীয় সংগীত’ হিসেবে শেখ মুজিব রবীন্দ্রনাথের গানকেই বেছে নিলেন। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ হলো বাংলার আপামর মানুষের প্রাণের সুর। বাংলাদেশ রবীন্দ্রনাথকে পেল একান্ত নিজের করে। বাংলাদেশ এখন জাতিসত্ত্বার আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে যখন যেখানেই জাতীয় সংগীত গায় তখনই রবীন্দ্রনাথকে কাছে পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যদি এই কাজটি না করতেন তাহলে আমরা রবীন্দ্রনাথকে পেতাম সাহিত্যে, পেতাম ব্যক্তিমননে; কিন্তু জাতীয়ভাবে সকলের করে পেতাম না।
     শেখ মুজিব রবীন্দ্রনাথকে হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। তাই সুখে, দুঃখে, বিজয়ে, গৌবরে কখনোই তিনি রবীন্দ্রনাথকে ভুলেননি। আবহমান বাংলায় মায়েরা যখন তাদের সন্তানদের কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে, শত বিপদেও সন্তানকে ছাড়েনি, বিদেশ-বিভূইয়ে পাঠায়নি, বাংলার ছেলেরা বিশ্বজগতের জ্ঞান অর্জন করা থেকে হয়েছে বঞ্চিত- এই অবস্থা দেখে কবিগুরু খেদোক্তি করেছিলেন। বঙ্গজননীদের এই সন্তানবাৎসল্যকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন ‘সাতকোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি।’ কবিগুরুর ভাবশিষ্য শেখ মুজিব কথাটি মনে রেখেছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে, জেল-জুলুম নির্যাতনে কখনো ভোলেননি সে কথা। বাঙালিকে মানুষ হতে হবে। সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাইতো বাঙালি যখন সকল বৈষম্যকে পদদলিত করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করলো তখন শেখ মুজিব আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেই ফেললেন, ‘কবিগুরু তুমি দেখে যাও আমার বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে।’
     রবীন্দ্রসাহিত্য ও সংগীতে  প্রতিফলিত দেশপ্রেম বাঙালি জাতির মর্মমূলে প্রবেশ করেছিল অনন্ত অনুপ্রেরণা হয়ে। এই অনুপ্রেরণা বাঙালি জাতির মুক্তির অনুপ্রেরণাও বটে। তাই আগুনের পরশমনির মতো মানবমুক্তির বার্তা খুঁজে পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় ও কর্মে। রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সমবায় ভাবনা দারিদ্র বিমোচন ও অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলে। রবীন্দ্রনাথের আত্মশুদ্ধির সাধনা বুদ্ধির মুক্তির পথনির্দেশ করে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও ধর্মনীতিসহ মানবিক মূল্যবোধের সকল শিক্ষাই আছে রবীন্দ্রচিন্তায়। এই সর্বত্রগামী সাহিত্যপ্রতিভার ছায়াতলেই বেড়ে বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ পরিমণ্ডল। এই মহামানবকে যথার্যভাবেই চিনেছিলেন শেখ মুজিব।   
     রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী চেতনার মূলে ছিল মানবমুক্তি। এই মানবমুক্তি ছিল জাতি-ধর্মের উর্ধ্বে উঠে সামগ্রিকভাবে মানবসত্ত্বার মুক্তি। ব্যক্তি মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন রবীন্দ্রচিন্তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল বলে কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। তবে দার্শনিক আলোচনা বা তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়ে এভাবে বলা যায় যে, মানবমুক্তির আকাক্সক্ষা মুজিবচেতনায়ও বহমান ছিল। শোষক ও শোষিত এই দুইভাগে বিভক্ত বিশ্বে শেখ মুজিব শোষক নয়; শোষিতের পক্ষে তাঁর নিজের অবস্থান নির্দেশ করেছেন। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শেখ মুজিব এই নীতি মেনে চলতেন। ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে’ (ভারততীর্থ)- রবীন্দ্রনাথের এই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মুলনীতির সাথে শেখ মুজিব তাঁর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চিন্তা মিলিয়েছিলেন বলেই মনে হয়। রবীন্দ্রনাথের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাবসম্পর্কের যোগসূত্রটি এভাবে খুঁজে পাওয়া যায়। 

আলী রেজা
টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ
alirezaphilo@gmail.com