অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
মহা প্লাবন - দেওয়ান সেলিম চৌধুরী

দম থেকে নোহা, সময়ের ব্যবধান ছিল না ততটা 
মানুষ তখনও অবুঝ, হাটি হাটি পা পা, 
ভালো মন্দ বোঝে নাই কিছু হে বিধাতা। 
সেতো ছিল অজ্ঞতা, নাহি ছিল তব পানে হেলা
তবুও করিলে পণ,মুছে দিতে প্রাণের মেলা। 
তাই নোহা কে করিলে আদেশ, বানাতে ভেলা। 
নোহার ভেলাতে নিলে প্রতি জাতের এক একটা জোড়া 
বুঝিনা কি কারণে তারাই ছিল তোমাদের রহমতে মোড়া?
সে কি তুমি, নাকি নোহা, কে করিল স্থির 
কি ডুবিবে প্লাবনের জলে, কে হবে মুসাফির? 
মানুষের লাগি সহজ হিসাব ধর্মে যাদের হেলা,
প্লাবনের জল তাদেরই লাগি, নোহার লাগি ভেলা।
পশুদের তুমি দাওনি বুদ্ধি, পাঠাওনি কোন দূত
তবে কেন তুমি করেছিলে রাগ, ধরেছিলে এত খুত
ডুবিতে ডুবিতে ভাবিলো পশু, কেমন পাগল রাজা
মানুষের সাথে পশুকে মিলায়ে, দিয়েছে একই সাজা। 
যে শিশু জন্মেছিল, প্লাবনের কিছুটা আগে 
তোমার ক্রোধের তেজ, পড়েছিল তার ভাগে।
যার ভাগ্যে জোটে নাই অনাগত জীবনের সুখ 
ভাল করে দেখে নাই জন্মদাতার মুখ। 
তাকেও ডুবিতে হল নির্বিচারে প্লাবনের জলে
কোন পাপ না করেও পাপীদের দলে। 
মনে মনে ভাবি উড়ন্ত পাখি আর জলচর প্রাণী 
প্লাবন কেমনে করিল তাদের জীবনের হানি
একি কোন গল্প গাথা, নাকি সত্য কাহিনী?

দেওয়ান সেলিম চৌধুরী। অটোয়া, কানাডা