অটোয়া, বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
একলা পাখি - সুনির্মল বসু

তার ওড়বার জন্য ছিল অসীম আকাশ, লক্ষ্য ছিল দিগন্ত পার, কত নদী  প্রান্তর জনপদ পেরিয়ে পাহাড়ের সীমানা অতিক্রম করে তার এই অনির্দেশ্য যাত্রাপথ,
সারাজীবন বেমিশাল অভিজ্ঞতা, পথ চলতে চলতে
পথে দীর্ঘ প্রলম্বিত ছায়া পড়ে, সেই ছায়া ধীরে ধীরে বাতাসে মিলায়,
এখানে অনেক ভালোবাসা ছিল, সবুজ পৃথিবী, সমুদ্র বন্দর, ঝিলের জলে তার ছায়া পড়েছিল,
সেই স্মৃতি নিয়ে এক জীবন অনায়াসে পার করা যায়,
এই দীর্ঘ পথে না পাওয়ার বেদনাও ছিল, কতজন বন্ধু সেজে অকারণ ব্যথা দিয়ে গেল,
এই বেদনা যদিও তার প্রাপ্য ছিল না,
একলা পাখি তবুও সুনীল আকাশের সাগরে ডানা মেলে উড়ে যেতে চায়, দূর লক্ষ্য তার,
একলা পাখি ডানা মেলে বাতাসে শুধু চলার আনন্দে, বস্তু সম্পদে যারা খুশি, তারা পাখিটার ভালোবাসার খবর রাখেনি,
ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে বিপরীত বাধা অতিক্রম করে
একলা পাখি আকাশে ডানা মেলে,
ওড়ায় সুখ, ওড়ায় সৌন্দর্য, ওড়ায় প্রতিভাসিত জীবন,
হে মহাজীবন, হে বর্ণময় আকাশ, হে সৌন্দর্যময় ভুবন, কত কী আমাকে শেখালে,
পাওয়া না পাওয়ার সীমানা ছাড়িয়ে একলা পাখি দিগন্ত রেখায় উড়ে যায়,
একসময় সুখ অসুখ সম্পর্কে তার নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে,
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি আজ আর তাকে ছোঁয় না,
সে বাতাসে ডানা ভাসিয়ে দেয় নিজস্ব সৃষ্টির সুষমায়, নিজেকে বলে, এভাবেও বেঁচে থাকা যায়,
আমি অন্যের পথে হাঁটি না, আমার চলার পথ স্বতন্ত্র, জীবন যেভাবে নিয়ে যায়, সে ভাবেই চলি, তবু অন্য একটি মন, পৃথিবীর সঙ্গে অন্য অভিযোজন, আমাকে অন্য পথে নিয়ে যায়,
পথের শেষ কোথায় জানা নেই,
একলা পাখি ওড়ে জীবনের খুশিতে,
যতক্ষণ জীবন, ততক্ষণ ডানা মেলা, এই ক্লান্তিহীন পথের আকাশ পর্যন্ত সীমানা,
মোহনা পেরিয়ে নদী যেমন সাগরের দিকে যায়,
এক আকাশ পেরিয়ে অন্য আকাশে ভেসে বেড়ানো একলা পাখির জীবন, সবাই চেয়ে দ্যাখে, সবাই চেয়ে দ্যাখে,
দূর আকাশের দিগন্ত রেখায় এভাবেই প্রতিভাসিত হয়ে ওঠে একলা পাখির অলৌকিক জীবন।

সুনির্মল বসু
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ