অটোয়া, শনিবার ২৭ নভেম্বর, ২০২১
শীতল চট্টোপাধ্যায় এর দু’টি কবিতা

স্বীকারোক্তি
যে জমিতে ফসল ফলে নিঃশব্দে,
যে মাটিতে নীরব ঘাস
ফড়িং বসার জায়গা করে দেয় ফুল ফুটিয়ে,
যে পাতার সুরক্ষায়
আমাদের প্রাণ ভোমরার গুনগুনানো,
যে নদী-সাগর আমাদের জীবন স্রোতের জাগরণ,
যে বালুকা বিস্তারে অ-সুখ ,দুঃখের প্রতিচ্ছবিতেও
বেঁচে থাকার ক্যাকটাস এঁকে রাখে,
যে পার্বত্য অবিচলতার কাঠিন্য শেখায়
সহিষ্ণুতা যাপন,
যে ঝর্ণা জীবনকে সুখ সুরের স্বরলিপি খুঁজে দেয়,
যে ঝড় শিখিয়ে যায় প্রতিবাদের ভাষা,
যে বৃষ্টি শেখায় নিশ্চিন্ততার নীরবতা, তবুও
এদের কাছে শেখা হয়নি
জীবনের স্বীকারোক্তি৷

নব বৈশাখ
ভোরের সূর্যে নববর্ষ লেখা সিন্দুরের লালে
পুবের প্রসবে 'আজ' জন্মালো নতুন একটা সালে৷
মন নদী যত শুকিয়ে গিয়েছে পয়লার নব জল
নববর্ষের আলো ছুঁয়ে মন নতুনেতে উজ্জ্বল৷
কৃষ্ণচুড়ারা বেরিয়ে পড়েছে পথের ধারে ও বনে
চোখ খুলে ফুল চেয়ে আছে শুধু বোশেখের আগমনে৷
ওল্টানো থেমে ক্যালেন্ডারটা দেওয়ালে নিথর কাল
আজকে এসে ঢাকা দেবে 'ওকে'যেটা লেখা নব সাল৷
কাজের মাসিও ভোরে এসে আজ ঝেড়েছে ময়লা -ঝুল
মনেতে গড়েছে নববর্ষ আসবার সাঁকো -পুল৷
কাজের বাড়িতে মাসিকে বলেছে এক সাথে খাবে সব
মাসির হাসিই নববর্ষর খুঁজে পাওয়া উৎসব৷

শীতল চট্টোপাধ্যায়
জগদ্দল, উত্তর ২৪ পরগণা
পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ