অটোয়া, বুধবার ২৮ জুলাই, ২০২১
শিরোনামহীন মনকথন - অমিতা মজুমদার

মি কবিতা লিখি,গল্পও লিখি,
কিছুটা স্বপ্নচারী হয়তো।
আমার ঘরে খাবার অভাব নেই,
তাই বুঝি না ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ কী করতে পারে!
আমার.. 
কবিতায় জ্যোৎস্নার জোয়ারে ভেসে বেড়ায়,
প্রেমিক মনের কবিতার ফুল।
গল্পে ছাপার অক্ষরে চক-চক করে, 
ভাতের ফ্যানে ভরা সানকিতে লুকানো অনাহারী মায়ের চোখের জল।
চারিদিকে আজ বেড়ে চলেছে মৃত্যুর মিছিল,
মা ও শিশুর হাসপাতালে সাঁতার কাটে জীবনরক্ষাকারী স্যালাইনের ব্যাগ। 
লক ডাউন এর মতো বিলাসী শব্দের আনাগোনায়,
ভরে উঠছে কবিতার খাতা।
তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে,
কর্মহীন অভাবী মানুষের শূন্য দৃষ্টি।
সকালের বৃষ্টিভেজা  গন্ধরাজের গায়ে লেগে থাকা জলটুকু দেখে,
কবিতার খাতা খুলে বসে যাই।
আমি তো কবি,
আমার ঘরে খাবার অভাব নাই।
তাই কবিতা আমি লিখতেই পারি,
সে যদি হয় অকবিতাও।
সামনের ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসে যে লতিফাবানু,
তার যে আজ খাবার রাঁধা হবে না!
এইসব ছাইপাশ ভাবতে গিয়ে,
মনে হয় মানুষই পারে নিজেকে করতে প্রতারণা 
কবি নই তবু নিজেকে কবি ভেবে,
কেমন কবিতার মতো করে অকবিতা লিখে যাই।
অকপটে জোৎস্নাকে করি সুগন্ধি কস্তুরী,
বর্ষাকে সাজাই রাজেন্দ্রাণী। 
গল্পে কেমন আকাশকুসুম ফুটে, বাগান আলোকিত করে।
নিজেই নিজের পিঠ চাপড়াই, 
বাঃ বেশ তো লিখেছি।
তবুও শেষ রাতে ঘুম ভেঙে যায়,
কে যেন বলে কবিও মানুষ তারও মনে দুঃখের একটা ঝরনা থাকে।

অমিতা মজুমদার
ঢাকা,বাংলাদেশ