অটোয়া, শনিবার ২৭ নভেম্বর, ২০২১
শীতল চট্টোপাধ্যায় এর দু'টি কবিতা

আলোর ঠিকানা
ফুরানোর কথা বলতে- বলতে
বলাটাও আসে ফুরিয়ে ৷
তার চেয়ে বাঁচানোর কথা লিখেই
বাঁচাই - বাঁচার আশা ৷
আসলে আমরা আমাদের কৃতকর্মেই
হত্যা করে যাচ্ছি আগামীকে ৷
রক্ষা করার বাঁধগুলোকে ভেঙে যাচ্ছি
মানবিকহীন জীবন যাপনের উচ্ছ্বাসে ৷
আমাদের দাবি আছে , দায়িত্ব নেই ,
পেশি আছে ,সংযম নেই ,
চোখ আছে ,দৃষ্টি নেই ৷
নিজে শুধুমাত্র নিজের হতেই -
পাশের হওয়ার কোনো ইচ্ছেই জাগেনা ৷
অথচ, আমাদের এই পৃথিবীতেই তো
আজও গাছের ডালে পাখি বসে পাশাপাশি ,
ফুল-ফুলকে ছুঁয়ে থাকে গায়ে-গায়ে ,
পৃথিবীর সৃষ্টিকাল থেকে
মাটির ওপর ঘাসেরা বেঁচে আছে
শিকড়ে-শিকড়ে নিবিড় বন্ধনের অবিচ্ছন্নতায় ,
এখনও হাওয়ায় পাতা নড়ে , বৃষ্টিতে মাটি ভেজে ,
অন্ধকার থেকে প্রথম সৃষ্টি হওয়া সকাল
পরিবর্তনহীনে এসে দাঁড়ায় আমাদের উঠোনে ,
সে আলোয় শুদ্ধ স্নান করে নেয় ছোট্ট টুনটুনি ,
আমরা তার চেয়েও ছোট হয়ে হারিয়ে ফেলেছি
এই আলোর ঠিকানা ৷

কবিতা সঙ্গিনী
বিতাকে স্পর্শ করলে
প্রাণকে - প্রাণের স্পন্দন জানাবে ,
ছুঁয়ে যাবে মনে ভিন্ন অনুভূতির -
বিভিন্নতাকে ,
চেনাবে তার শীর্ষদেশ কিংবা-
শিকড় , মূলকেও ৷
কবিতা স্পর্শানুভূতিতে
রোমাঞ্চ , রোদনও ৷
কবিতাকে ভালোবাসা দিয়ে
দূর্বল হতে- হতে ,
কবিতাও যাপন সঙ্গিনীর মতোই
পাশে থেকে জ্যোৎস্না মাখায় ,
রাতপাখিদের  ভাষাকে অনুবাদ করে দেয়
কবিতায় ৷

শীতল চট্টোপাধ্যায়
উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ