অটোয়া, সোমবার ২৭ জুন, ২০২২
রুমি’জ ব্লগ – কবির চৌধুরী

কুশ শতকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন- ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ওয়েব জার্নাল, এবং ইউটিউব হলো আধুনিক মানুষের কাছে, জানা-শোনা এবং সময় কাঠানোর প্রধানতম মাধ্যম। গুগলের তথ্যানুসারে, স্যোসাল মিডিয়াতে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় কাটাই। তারচেয়ে ও বেশি অবাক হই যখন শুনি বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিন ২ বিলিয়ন এর বেশি মানুষ ইউটিউব চ্যানেল দেখে থাকে (গুগল)। হয়তবা ইউটিউব “এফিলিয়েট” ব্যবসার অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হওয়ার কারণে ইউটিউব এর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। অনেকের মত আমারও এখন অনেক সময় গুগল ব্রাউজিং এ ব্যয় হয়। আর এই অভ্যাসটি বদঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে কোভিড-১৯ নামক মহামারি ভাইরাসের কারণে। অভ্যাস বা বদঅভ্যাস, কারণ যা-ই-হয়-না কেন,  এই ব্রাউজিং কিন্তু অনেক সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও চ্যানেলের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়। যে সব চ্যানেলের ভিডিও দেখার পর মনে হয় মানুষের এখনও অনেক কিছু জানা এবং দেখার বাকী আছে। এরকম একটি ইউটিউব চ্যানেল এর সাথে মাস দু’য়েক আগে পরিচয় হয়- অর্থাৎ হঠাৎ করেই আমার ইনবক্সে একটি লিংক দেখতে পাই। লিংকটি পাঠিয়েছেন গুলজাহান রুমি। আমরা তাকে রুমি ভাবী বলে ডাকি। রুমি ভাবী লেখক মহসীন বখত ভাইয়ের সহধর্মিনী। তারা আমাদের আরশীনগর অটোয়ার খুবই জনপ্রিয় এবং সজ্জন হিসেবে পরিচিত। ইনবক্সে লিংকটি দেখে খুলবো কি না ভাবতে ভাবতেই ক্লিক করে দেই এবং লিংকটি খুলে আশ্চর্য্য হয়ে যাই ভিডিও চ্যানেলের নামটি (Rumi’s_Vlog_Canada_Ottawa) দেখে। ভিডিও টি দেখে মহসীন ভাইয়ের বাসায় ফোন দেই। মহসীন ভাইকে জিজ্ঞাসা করি, হঠাৎ করে ভাবী ইউটিউব চ্যানেল খুললেন! কি ব্যাপার? আমার কথার উত্তরে মহসীন ভাই বললেন- “আর বলবেন না। নতুন রোগে পাইছে!”
     রোগই বটে! তার পাঠানো ভিডিওটিতে আহামারী কিছু ছিল না- আমার মতে খুবই স্বাভাবিক। উনি তার ভিডিওতে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সময় ধারণ করেছেন। আমার ধারণা, রুমি ভাবী ভিডিওটির মাধ্যমে, তার বন্ধু-বান্ধব এবং অন্যদের সাথে কানাডায় অভিবাসী বাঙালিদের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখের কথা বলতে চেয়েছেন। আমার মনে হয় চ্যানেলের আলোচনার সাথে ব্যক্তি গুলজাহান রুমিকে নিয়ে কিছু লেখা অপ্রাসঙ্গিক বা অতিরঞ্জিত হবে না। গুলজাহান রুমি সাংগঠনিকভাবে খুব আগ্রহী এবং কর্মট একজন ব্যক্তি। তিনি তার এই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অটোয়ার বাঙালিদের জন্য সামাজিকভাবে কিছু হিতকর কাজ-কর্ম করার চেষ্টা করেছেন। এক সময় উনি অটোয়াতে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তী পর্যায়ে যখন “অটোয়া কার্লটন ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড” অটোয়ায় বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করে, তখন স্কুল বোর্ড  গুলজাহান রুমিকে ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামের একজন ইন্সট্রাকটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। এছাড়া কয়েকবছর আগে অটোয়ার পুরাতন এবং প্রথম বাংলাদেশি সংগঠন বাকাওভ এর এক ক্রান্তিকালে যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে গুলজাহান রুমি অটোয়ার প্রভাবশালী বাংলাদেশি সংগঠন “বাংলা ক্যারাভান” এর একজন অন্যতম সংগঠক। তাই তার নতুন এই ভিডিও চ্যানেলটি দেখে আমি কিছুটা আশাবাদী। প্রায় প্রতিটি ইউটিউব পোস্ট-ই আমি নিয়মিত দেখি। আমি জানি তিনি একজন প্রচন্ড উদ্যোমি মানুষ এবং তাঁর পেছনে আছেন তাঁরই স্বামী মহসীন বখত, যিনি অটোয়ার সর্বমহলে একজন জ্ঞানী এবং বিজ্ঞ মানুষ এবং লেখক হিসেবে পরিচিত। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মহসীন বখত  আশির দশকে অর্থাৎ বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশের কুলীন ঘরানার পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। 
     গুলজাহান রুমির ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে যা লিখতে চেয়েছিলাম তা হলো- একদিন কোন এক সময় এই চ্যানেলে আমরা রুমি ভাবীর চটকদার ভিডিওর পাশাপাশি মহসীন ভাইয়ের বদৌলতে কিছু তথ্যনির্ভর অজানা বিষয়-আশয়ের সাথে পরিচিত হবো। আমার এই চাওয়ার জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। আমি ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, রুমি ভাবীর ইউটিউব চ্যানলে মহসীন ভাইয়ের সরব উপস্থিতি। আপনারা যদি চ্যানেলটি (Rumi’s_Vlog_Canada_Ottawa) ইউটিউবে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন এমন কিছু যেমন- “ভাষা নিয়ে চিত্রকল্প- ধারাবাহিক ভিডিও” এবং গতকালকে আপলোডকৃত ভিডিও “হিমযুগের মানুষ”  যেখানে আমরা শুনতে এবং দেখতে পাই তার জ্ঞানের পরিমিত ব্যবহার এবং বর্ণনা। আমি গুলজাহান রুমির চ্যানেলে আপলোড করা মহসীন বখতের ধারাবিবরণীতে “হিমযুগের মানুষ” ভিডিওতে দেখতে পাই অটোয়ার একটি তুষারআবৃত পার্ককে। এখানে আমি উল্লেখ করতে চাই- এই যে বর্তমান বিশ্বের অনেকের বসবাসের আরাধ্য দেশ কানাডা – তা কিন্তু এত সহজে বসবাসযোগ্য হয়নি। আমাদের জন্য আরামদায়ক এই দেশ তৈরিতে জড়িয়ে আছে আমাদের পূর্ব-পুরুষের রক্ত পানি করা অদম্য শ্রম এবং চেষ্টা। “হিমযুগের মানুষ” আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আজ থেকে প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে বরফযুগে আমাদের পূর্ব-পুরুষের আগমনের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ইতিকথা। কানাডার হাজার হাজার বছর আগের কথা এবং ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রুমি'জ ব্লগের সবাইকে ধন্যবাদ। জয়তু রুমি'জ ব্লগ।

কবির চৌধুরী। অটোয়া