অটোয়া, বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
মন্ট্রিয়ল বইমেলায় অটোয়ার কবি সুলতানা শিরীন সাজি’র দুইটি বই এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

আশ্রম সংবাদঃ কানাডা বাংলাদেশ সলিডারিটি ,মন্ট্রিয়ল এর উদ্যোগে  ২৩ এবং ২৪ ফেব্রুয়ারী ৭ম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩শে ফেব্রুয়ারী ‘বইমেলা’-তে একুশে বইমেলার সমন্বয়ক শামসাদ রানার পরিচালনায়, অটোয়ায় বসবাসরত কবি সুলতানা শিরীন সাজির গল্পের বই “রানুর আকাশ” এবং “ভালোবাসার ফুলঝুরি”র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বই দুইটি ২০১৮ তে ঢাকায় বাংলা একাডেমীর বইমেলায় পূর্বা প্রকাশনী থেকে  প্রকাশিত হয়েছিল। ভারত থেকে আগত কবি অমৃত মাইতি এবং অটোয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাননীয় হাইকমিশনার মিজানুর রহমান বই দুইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। 

সুলতানা শিরীন সাজি তার বই এর মোড়ক উন্মোচন পর্বে পাশে থাকার জন্য আশ্রমের সম্পাদক কবির চৌধুরী, লেখক মহসিন বখত এবং  টরন্টো থেকে আগত কবি  মৌ মধুবন্তী কে মঞ্চে ডেকে নিয়ে যান। এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন বইমেলার অতিথি শহীদ জননী জাহানার ইমামের ছেলে সাইফ ইমাম জামী।   সবাই সুলাতানা শিরীন সাজির লেখার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন সাজি এভাবেই সবসময় লেখালেখি করে যাবেন।

ভালোবাসার ফুলঝুরি”র প্রচ্ছদ করেছেন সদ্যপ্রয়াত চিত্রশিল্পী রবি খান তুহিন এবং “রানুর আকাশ” এর প্রচ্ছদ করেছেন, সুলাতান শিরীন সাজির ছেলে রাশীক মোহাম্মদ। 

শিরীন সাজি বইমেলায় স্টল নিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি বইমেলার সাংস্কৃতিক পর্বে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন এবং সাহিত্য আলোচনায় অংশ নেন। তার আলোচনার বিষয় ছিল,”আমার রবীন্দ্রনাথ”।

এখানে উল্লেখ্য যে সুলতানা শিরীন সাজির কবিতার বই “এক জোছনায় তুমি আর আমি”, আর ”কফির পেয়ালায় নিশুতি রাত জাগে” এর মোড়ক উন্মোচন এর আয়োজন করেছিল “আশ্রম”,অটোয়া, ২০১০ এবং ২০১৪ সালে। এছাড়া আশ্রম এর প্রথম বর্ষ ২য় সংখ্যায় প্রচ্ছদ করা হয়েছিল সুলতানা শিরীন সাজিকে নিয়ে (তার বই এর অনুষ্ঠানের ছবি দিয়ে)।

আশ্রমের পক্ষ থেকে আমরা আশা করবো, সাজি নিয়মিত লেখা চালিয়ে যাবেন এবং পাঠকদের নতুন নতুন লেখা উপহার দিবেন। আমরা তার দীর্ঘ জীবন এবং লেখক জীবনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।


সুলতানা শিরীন সাজি’র পরিচিতিঃ 

সুলতানা শিরীন সাজি’র জন্ম  বাংলাদেশ এর উত্তরাঞ্চলের শহর লালমনিরহাটে। বাবা ডাঃ ওমর আলী এবং মা নুরুননাহার বেগম। স্কুলের পড়ালেখা মিশন স্কুল, পরে রেলওয়ে চিলড্রেন পার্ক স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করার পর ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে এম এ করেন। লালমনিরহাটে রেলওয়ে কলোনীর জীবন। রেলওয়ে ষ্টেশন,ট্রেন,লালমনিরহাটের প্রাকৃতিক নৈসর্গ্য বারবার ঘুরে ফিরে তার লেখায় আসে। বিয়ের পর কানাডার মন্ট্রিয়লে চলে আসেন।

সেখানে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এ ডিপ্লোমা করেন। দুই ছেলে রাশীক, রাইয়ান এবং পথচলার সঙ্গী মান্নান মোহাম্মদ মিঠুকে নিয়ে অটোয়ায় থাকেন। সেখানে নানান সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ২০১৮ অটোয়াতে অনুষ্ঠিত “ফোবানা “ তে কনভেনর ছিলেন শিরীন সাজি।

নিজে রবীন্দ্র সংগীত গাইতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে ভালবাসেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দ্বায়িত্বে থাকেন । এ ছাড়া অনলাইন এ সামহোয়ারইন ব্লগ থেকে শুরু করে অনেক বাংলা ব্লগে  নিয়মিত লিখেছেন এবং লিখছেন। কবিতা,বেড়ানোর গল্প, যাপিত জীবনের গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শিরীন সাজি বলেন,তিনি কবিতা লেখেন না, জীবন লেখেন। আর তার কবিতা পড়লে পাঠক দেখতে পান চলমান ছবির মতন সব। এর আগে প্রকাশিত শিরীন সাজির চারটি বই , “এক জোছনায় তুমি আর আমি”,”অপ্রকাশিত চিঠি”, “কফির পেয়ালায় নিশুতি রাত জাগে” এবং “বিষণ্নতায় একা”।

শিরীন সাজির কবিতায় ভালোবাসা ছলকায়,এটা পাঠকদের অনুভূতি। নিজের লেখা নিয়ে তার কথা হলো,জীবনের বেঁচে থাকা ভালোবাসাতেই মূর্ত হয়ে ওঠে। গভীর অন্ধকারে ছোট্ট জোনাকীর দল যেমন পথ দেখায় পথিককে, ভালোবাসার আলোতেই জীবনের বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব বলে তার বিশ্বাস। আর ভালোবাসার সেই অমল ধবল বোধ,যার অনুরণন চলে সারাজীবন ধরেই।

ফটো ক্রেডিট_ সদেরা সুজন।

অটোয়া, কানাডা।