অটোয়া, বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
নির্বাচিত স্তবক - ফরিদ তালুকদার

ধূসর মাছেদের চোখ…
নেই কলমির দল…
বিপন্ন পানকৌড়ির ছায়া
পড়ে না এখন আর…
বিস্তীর্ণ বিলের তলানিতে 

তারা বাতি জৌলুসে
ভ্যানিটি রমণীর মত
সাজে ভবনের দেহ…

বিস্মিত বালক…
খোঁজে উচ্ছিষ্টের আস্তাকুঁড়
ঝিকিমিকি নগরীর ফুটপাতে 

কবিতার শরীর থেকে
ঝরে পড়ে শব্দেরা সব
শুকানো পাপড়ির মত

আকাশকে বলি…
যদি না থাকে বাষ্প কনা
ছাই রঙা তোমার মেঘে
তবে খুলে দিয়েছি হৃদয় 
নিয়ে যাও অঝোর শ্রাবণ। 

আলো-আঁধারির
পেন্ট হাউস রেস্তোরাঁয়
সমবেত ভোগের ঋত্বিকেরা…
সুরা গ্লাসের উদযাপন সংগীতে
উড়ায় সভ্যতার ধ্বজা

দূর উচ্চতায় গড়া
কাঁচের আড়ালে থেকে
দেখে তারা পঙ্গপালের স্রোত 
ঝুপড়ির অস্পৃশ্য নর্দমায়…

উপাসনালয়ের মন্ত্র পাঠে
সব হলরুমে 
সব ঘরে ঘরে
নেমে আসে বিভাজিত ঈশ্বর 

গির্জার মোমের মত
মানবতার দেহ
গলে গলে পড়ে
ক্লান্ত পৃথিবীর 
সব পথে পথে…

মোহ বিলাসী স্বপ্ন মিছিলের 
ব্রান্ডেড জুতোর নীচে
পিষ্ট হয় উল্টানো দেহ…

শিল্পীর তুলিতে জীবন
এখনো…
আটকে থাকে আদিম গুহায়…

শান্তির কফিনে রেখে পিঠ
পড়ে থাকি
নিকষ আঁধারে 
পড়ে থাকি…
বিকলাঙ্গ মনের কুঠুরিতে 

জল ছলছল হৃদয়ের আরশিতে 
ভেসে উঠে তখনো…
ভেঙে পড়া প্রিয়ার ছবি

দেখি…
খসে পড়া নক্ষত্রের মত
সক্রেটিস,  তাবরিজি, লালন…
মানবিক আত্মারা সব…
ভস্ম হয়ে যায় 
পৃথিবীর এই 
হোলি উৎসবের তীরে

সন্তর্পণ সম্ভাষণে বলি…
এসো…
ভয় পেও না…
এসো…
এযে  তোমাদেরই পৃথিবী 
এসো দেখে যাও…
দেখে যাও আমাদের অগ্রযাত্রা 
এল সি  ডি পর্দায়
ছিনতাই হওয়া জীবনের
আধুনিকতা…
দেখে যাও…

বদলায়নি অন্য কিছু 
বাহারি মুখোশের আড়ালে
আছে আগেরই মতন প্রাচীন 
হাজার বছরের পূরণ কালিমা 
হৃদয়ের পাতালে আমাদের 

বলি এই দেখ…
এখনো পুরটা নগ্ন নয়
কবিতার শরীর 
তোমাদের জন্যে…
শুধু তোমাদেরই জন্যে 
আজও…
ধরে রেখেছি আব্রু
তার দেহে…
এখনো ফোঁটাই পারিজাত
একটি শব্দে…
“ভালোবাসা “।। 

ফরিদ তালুকদার
টরন্টো, কানাডা।