অটোয়া, শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯
কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন - সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন, অটোয়া, স্থানীয় Bronson Centre- এ ১৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত লোকমেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সহযোগীতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত দপ্তরের (টিএফও) কর্মকর্তা, স্থানীয় বুদ্ধিজীবিসহ কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীগন। 
হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কানাডা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের উপ-পরিচালক মি. ফিলিপ বেইন সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে কানাডা-বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। টিএফও-র পরিচালক  জাকি মুন্সি তার বক্তব্যে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো অধ্যাপক নিপা ব্যানার্জি বাংলাদেশের চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি, বিশেষ করে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাংলাদেশের অসম্প্রাদিয়ক চেতনার প্রতীক হিসাবে বর্ণনা করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর তাৎপর্যের কথা তুলে ধরেন। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার মিজানুর রহমান সভাপতির বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব মানবতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানকে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি পহেলা বৈশাখ এবং মঙ্গল শুভাযাত্রা শুধু আনন্দ উৎসবই নয় বরং এই উৎসব বাংলার অসাম্প্রদায়িক ও উদারনৈতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালনের মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমাজকে সুসংহত রাখার অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে বর্ণনা করেন। তিনি বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ জানান। মান্যবর হাইকমিশনার বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল প্রবাসীকে একযোগে কাজ করার জন্য আহবান জানান। 

লোকমেলায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিচালিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন ৮ টি স্টল প্রদান করে। এ সকল স্টল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার ও পোশাক বিক্রি এবং কানাডাতে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে তথ্য বিনিময় করে।  
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথমে শিশু শিল্পী চন্দ্রিমা ও মাশরুর সঙ্গীত এবং শিশু শিল্পী অর্থি, তাকবির ও আনাহি নৃত্য পরিবেশন করে। এর পরে পহেলা বৈশাখ-এর চিরায়ত গান - ’এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ সহ মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশন করেন ডালিয়া ইয়াসমিন, অং সুই থোয়াই, নার্গিস আক্তার রুবি, ফারজানা ইসলাম মাওলা, হিমাদ্রি শেখর, আরেফিন কবির, আফরোজা আক্তার লিপি এবং হাইকমিশনের পক্ষে মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, ফারহানা আহমেদ চৌধুরী এবং নাদিরা হক। কবিতা আবৃতি করেন শিউলি হক এবং জুলফি সাদেক। তবলায় সহযোগীতা করেন আর্য্য মুখার্জী।    
সবশেষে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। 
প্রেরকঃ
মিয়া মোঃ মাইনুল কবির
কাউন্সেলর (রাজনৈতিক)
বাংলাদেশ হাইকমিশন
অটোয়া, কানাডা।
১৫ এপ্রিল ২০১৯