অটোয়া, মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
বাংলাদেশ ও কানাডা দু’দেশের হাইকমিশনারদ্বয়ের সাথে বিজনেস কমিউনিটির যৌথ মতবিনিময় সভা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ  ৮ মে, ২০১৯  সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কানাডার টরোন্টোতে বাংলাদেশের সাথে কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়ন এবং বিদ্যমান  বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা  দূরীকরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 

আর এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার মান্যবর হাইকমিশনার জনাব বেনওয়া প্রেফন্টেন।  এতে আরো উপস্থিত ছিলেন টরেন্টোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল জনাব নাঈম উদ্দিন আহমেদ, কানাডিয়ান ট্রেড কমিশনার জনাব ডেভিড উইলিয়ামস, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) জনাব মো: শাকিল মাহমুদ এবং কানাডার বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও  বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ।   

বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব সুবীর কুমার দে এর সঞ্চালনায় বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) কানাডার কম্পানির  বিনিয়োগ ও কানাডিয়ান শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বাংলাদেশের আইটি ও সেবা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় নীতি,ফাস্ট ট্রাক স্টুডেন্ট ভিসা, বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডিয়ান  ট্যাভেল এ্যাডভাইজরি প্রতিবন্ধকতা, ব্লু রিবন প্যানেল, বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও সুরক্ষা চুক্তি, বিমান চলাচল চুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা কর্মে স্টুডেন্ট এক্সচেইন্জ প্রোগ্রাম ইত্যাদি  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক বিষয়সমূহ মূল আলোচনায় স্থান পায়। আর এ মতবিনিময় সভার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ক্যানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের  চেয়ারম্যান জনাব চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।          

আলোচনায় অধিকাংশ বক্তাই তাঁদের বক্তব্যে বাংলদেশের বর্তমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিভিন্ন দেশের  বিনিয়োগের বিষয় তুলে ধরেন।  বাংলাদেশের  বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) ভারত, চীন, জাপান, করিয়া, ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের  বিশেষ শিল্পাঞ্চল রয়েছে। কানাডা হতে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) কানাডার কম্পানির  বিনিয়োগ ও কানাডিয়ান শিল্পাঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। 

জনাব সুবীর কুমার দে এর বক্তব্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে উভয় দেশের মুদ্রা বিনিময় হারের বিষয়টি  উঠে আসে এবং তিনি একটি পৃথক কারেন্সি হাব গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিশিষ্ট পেশাজীবী জনাব সাইফুল ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে উচ্চশিক্ষার জন্য  অধিক হারে শিক্ষার্থী  কানাডাতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় সে বিষয়টি তুলে ধরেন। জনাব চৌধুরী নাফিজ সরাফাত তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যলয় সমূহের সাথে কানাডার বিশ্ববিদ্যায়ল সমূহের  শিক্ষা ও গবেষণা কর্মে স্টুডেন্ট এক্সচেইন্জ প্রোগ্রামের উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

উন্মুক্ত আলোচনা শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার মান্যবর হাই কমিশনার জনাব বেনওয়া প্রেফন্টেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই এ মহতী আয়োজনে  কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব মিজানুর রহমানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি জানান কানাডার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য গত একদশকে চারগুনেরও অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের যে সম্ভাবনাময় খাতগুলো রয়েছে তা চিহ্নিত করে কাজে লাগাতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।  তিনি জানান  “ফার্স্ট ট্র্যাক স্টুডেন্ট ভিসা” সার্ভিসের আওতায় ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে উচ্চশিক্ষার জন্য  অধিক হারে শিক্ষার্থী  কানাডাতে শিক্ষা প্রদানের সুযোগ রয়েছে এবং এ ব্যপারে তিনি প্রচেষ্টা গ্রহণের আশ্বাস দেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে উত্তোরত্তর সহযোগিতা কামনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 



পরিশেষে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব মিজানুর রহমান তাঁর সমাপণী বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার মান্যবর হাই কমিশনার জনাব বেনওয়া প্রেফন্টেন কে স্বাগত  জানান। তিনি জানান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে তা বাণিজ্যের জন্য অনুকূল। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ভ্রমণে জারীকৃত কানাডিয়ান  ট্যাভেল এ্যাডভাইজরি দুইদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি বড় বাঁধা। তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণে জারীকৃত কানাডিয়ান  ট্যাভেল এ্যাডভাইজরি তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার মান্যবর হাই কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আরও জানান চলমান বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও সুরক্ষা চুক্তি, বিমান চলাচল চুক্তি দ্রুত সম্পাদিত হলে  বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের গতি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। তিনি বাংলাদেশের আইটি ও সেবা খাতে অপার সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে আইটি ও  দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং আর এ বিষয়ে কানাডার পার্লামেন্টারিয়ানদের সমন্বয়ে কানাডার  ব্যবসায়ী প্রতিনীধি দলের বাংলাদেশে প্রেরণের প্রস্তাব করেন।

সর্বশেষে, তিনি বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে গঠিত  প্রস্তাবিত  Working Group যা  ব্লু রিবন প্যানেল (Blue Ribbon Panel) নামে পরিচিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিন উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্ভাবনাপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কের বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য-বাঁধা চিহ্নিতকরণ ও দূরীকরণ, সরকারী-বেসরকারী বাণিজ্য উদ্যোগের সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে stake holder দের নিয়ে  গঠিত  প্রস্তাবিত Working Group  পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করবে। আর এ বিষয়ে  কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার মান্যবর হাই কমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং তিনি পূনরায় সভায় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মো: শাকিল মাহমুদ
কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক), বাংলাদেশ হাইকমিশন
অটোয়া, কানাডা।