অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
রক্তাক্ত পংথিমালা - মানিক বৈরাগী

খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু অতঃপর স্বাধীনতার বীজ

ঘোর অন্ধকার দিন হায়েনার রাত
ভারতের সিংহাসনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ
বিপাশা গঙ্গা যমুনার পাড় ভাঙ্গে
উদিত সূর্যের দেশে চর জাগে,বর্গির আভাস।

ভুল নেতা ভুল ভূ-ভাগ দ্বিজাতি তত্ত্বের অভিশাপ
হক ভাসানি সোহরাওয়ার্দী অভিন্ন সংগ্রামের অঙ্গীকার
জলপাই বাহিনীর শকুনী আচার-অনাচার
ভাটির দেশে মাটির মনে হতাশার মনস্তাপ।

১৭ই মার্চ ১৯২০, টুঙ্গিপাড়ায় লুৎফুর -সায়েরার কোলে
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ মুখরিত স্বদেশে খোকা ধুমকেতুর আবির্ভাব।
লিকলিকে লম্বা সুস্থির দুরন্তপনা কিশোর ছাত্র
অসিম সাহসে মৌলিক দাবিতে আগলে দাঁড়ায় পথ
১৯৩৯ এ হক সোহরাওয়ার্দী মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে
সেই থেকে অবিরাম স্বপ্নমধুরতায় পিচ্ছল পথ চলা।

২৩মার্চ ১৯৬৯ রেসকোর্স ময়দানে ১৪অধরে মুখরিত একটি ধ্বনি
আকাশ- বাতাস, বৃক্ষ -পাখি,সাগর-নদী ঢেউয়ের কল্লোলে শুনি
বঙ্গবন্ধু তুমিই আমাদের মুক্তির দিশারী।

রেসকোর্সের বাঙালি বীজ তলায় কখন রোপিবে বৃক্ষ বীজ
তৃষ্ণার্থ মৃত্তিকার বুক চিরে ব্রাত্য জনতার শৌর্য-বীর্যে
স্বদেশ জাতির উদ্বেগ উৎকন্ঠায় প্রতীক্ষিত সময় কাটে।
৭মার্চ ১৯৭১ আকাঙ্কার উৎসব মেলা আজ
অতঃপর
পিতা শোনালেন যুদ্ধ জয়ের অমর ঘোষণা
"এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম,আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

শেখ মুজিবের গীত গাই

অটুট আছে স্বভাব
উড়ে আসে অভাব।

বদলাতে পারিনা খাসলত
যুই করো নসিহত।
অবদমনে ভুল করি
অপমান ভয়ে পুড়ি।
বিশ্বায়নের লম্পট পুজি
সমাজতন্ত্র তোমায় খুঁজি।
ক্ষয়িষ্ণু সামন্তিয় চরিত্র
উদার নৈতিকায় পবিত্র।
কবিতার বই হয়নি বেচা
ছাড়তে পারিনি মদ্য নেশা।

চোখ লাল পা টলো মলো
বাসায় এলে ঝাড়ি দেয় বধু।

মনের ভেতর অসিম জ্বালা
রাজনীতি করেছে মোরে উতালা।
কারে করি বিশ্বাস রাখি আস্থা
পদ পেলে বনে মুস্তাক সাচ্ছা
কি চেয়েছিল পিতা মাতা, কেন প্রাণ হরন
চারিদিকে চোরের খনি বলেছেন বঙ্গ পিতা
নিরাপত্তায় ঢুকে গেছে শিবির, বুবুর জন্যে দোয়া
রাখে আল্লাহ মারে কে পুরানা বচন।

এত মোনাফেক, মীর জাফর, খন্দকারের দেশে
কিভাবে ঠিক থাকি, মাতাল না হয়ে।

মাতাল আমি, আকাশ পাতাল ভাবি
মদের টাকা ভুতে যোগায়, বধুর ক্ষুধা খালি।

আমি ত মুক্তির পোলা শহীদের ভাই
বড় বুবু হাসিনা, রাসেল আমার ভাই
চলো সবাই শেখ মুজিবের গীত গাই

রক্ত থেকে পাওয়া

তুমি কেমন পুরুষ দেখিনি বঙ্গ জনক
তুমি কেমন নারী জানিনি বঙ্গ মাতা
কেমন দুষ্ট জানা হলো না ছোট্ট রাসেল
সে নাকি সাইকেল চালাত বেশ, বুদ্ধি দ্বিপ্ত চোখ, রেগে মেগে গোমরা হওয়া মুখ
বাবা তার আদরের নাতীর নাম রাখলেন রাসেল
বাবা নাতির নাম রাখলেন আরজু মণি
এভাবেই প্রায় নাতী নাতনীর নাম করণ করলেন
এই ছিল আমার বাবার মুজিব স্মরণ

প্রতি শ্রাবণের জোৎস্না বিহিন কালো রাতে কেমন যেন আউলা হতেন, আমার বাবা
বাবার গোমরা মুখ, বিষন্ন, উদ্ভ্রান্ত মনে
উম্মাদের মতো বিড় বিড় করতেন শুধু
মাঝে মাঝে কোরান তেলাওয়াতে চিৎকার করতেন, গভির রাতে কাতরাতে কাতরাতে জিকির করতেন।
অভিসম্পাত দিতেন চিৎকার করতে করতে
আগস্টের প্রভাতে ফাতেহা দরুদ পড়তেন মা
ধবধবে ফর্সা মা, পড়তেন কালো শাড়ি
হালোয়া রুটি শিরনি সমেত মোনাজাত করতেন বাবা
ফাতেহা শরিফে কোন মোল্লা হুজুর দাওয়াত দেয়া হতো না
কেমন জানি ভয় করতেন বাবা

হরিণের চামড়ায় জায়নাম বিছাতেন
এরপর কি করুণ কান্নায় সুরেলা কন্ঠে
বাবা মোনাজাত করতেন

দেখা দেখি দু হাত জড়ো করে
মোনাজাতে অশ্রু ঝরাতাম আমরা

বাবা বলতেন,
আত্মঘাতী বাঙ্গাল শেখ সাহেব কে বুঝল না, এমন ঘাতকের দেশে স্বাভাবিক হই কি করে।
পিতা মুজিবের জীবিত কালে
কোন দিন আওয়ামীলীগ করেনি বাবা
পীরের সন্তান, অনুরাগী ছিলেন ভাসানির

৭৫’র জ্বালিয়ে দিলো রাগ অনুরাগ বেহাগ
গুরুর গুরোচন্ডালি প্রতারণায় বাবা হতবাক
হুজুরের নাম শুনলেই হতেন অগ্নি শর্মা।

উর্দি পড়া কালো চশমার শাসক জিয়া
অন্য অনেক জলে ভাসা ভাসানুসারি লোভ লাভের আশায় প্লট নিলো পাহাড়ের
তারা পাহাড়ের প্লটের টোপ গেলাতে চাইলো, গ্রাম সরকার আরো কতো কি।

লোভের বর্শি কাটা গেলানো গেলো না তাঁকে
সিদ্ধান্তে অটল পাহাড় সালেহ আহমদ
সেই তো আমার পিতা, মুজিবের অনুরক্ত
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত, মুজিবের ভক্ত

চশমা পরা মেজরের বর্শিগাথা নেতারা
উল্লাসে ছুটছে দমানোর নিমিত্তে
দমাতে হবে সালেহ আহমদ কে
হয়রানি মামলা হলো অগ্রজদের নামে
আমিও কি বাদ পড়েছি? ধারাবাহিক সেই নোংরা খেলার পুরাণা প্রতিশোধে?
মুজিবের চেতনা মাথা নত জানে না।

পিতা মুজিব, তোমাকে দেখেছি হৃদয়ে
তোমাকে জেনেছি বাবার মুখ থেকে
সেই থেকে আমাদের উজানে পথচলা
সেই থেকে তোমার কথা বলা
সেই থেকেই মুজিববাদের পাঠ নেয়া
সেই থেকেই হাসু বুবুর কর্মী হওয়া
আমি আমরা
পরিবার থেকেই পেয়েছি মুজিবের চেতনা
পরিবার থেকে পেয়েছি সুবিধার বিপরিতে চলা
পরিবার থেকেই নিয়েছি মুজিবের চেতনা
হাসিনা রেহেনার প্রেরণায় আমাদের পথচলা।
দিয়েছি তো রক্ত, আমরা মুজিবের ভক্ত
শেখ মুজিবের চেতনা, শেখ হাসিনা প্রেরণা
মুজিবের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নাই
মুজিবের চেতনা, কোন বাঁধা মানে না।

বঙ্গপিতার লন্ঠন 

আদি পিতা এসে আঁধারে লন্ঠন জ্বালিয়েছে
ঘোর অমানিশায় যুগান্তরে মরুবুকে
এশিয়ার সর্ব প্রান্তরে...

আমাদের দেশ উপমহাদেশে
স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনে
জাতিপিতা মুজিবের উদ্যত তর্জনী দেখে
হিমালয় থেকে বহমান গঙ্গা-পদ্মা
স্বাধীন দেশে কালরাত পঁচাত্তরের পনর আগস্ট
রক্তের ধারায় নদীমাতৃক দেশটা লাল
বেদনার জ্বালা সহে অন্তরালে
টুঙ্গিপাড়ার লন্ঠন হাতে এগিয়ে আসেন
মৃত নয় অমৃত মুজিব কীর্তিমান পৌরুষে...
গণতন্ত্রে জনতাতন্ত্রের মহানায়ক জাতির জনক
বলে যায়- বাংলা আমার ভাষা, আমি বাঙালি
দেশ আমার স্বাধীন বাংলাদেশ।
(উৎসর্গ: শেখ হাসিনা)

পথিক

মিলিলে মিলাব না মিলিলে চুপ থাকবে না কেউ
রথি-মহারথির আশ
রস পেয়ে তস পেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা আগাছারা
রুদ্ধ হবে, পথ হারাবে পালাবার, আমাদের
মানবিক বৃক্ষি মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস
নিবে তখোন।

আবারো জড়ো হবে আনন্দ-প্রাণ, উড়াবেই
লাল সবুজের পতাকা, এসো মৌলিক স্বজন
নান্দনিক কলরবে মুজিবের চেতনায়।

জেগে আছি আপা

বেদনার মাস আগস্ট, প্রতিশোধের মাস আগস্ট
আপা আমরা জেগে আছি আমরা প্রস্তুত
পিতা হত্যার বিচার চেয়েছি এবার জেল হত্যা
একুশে আগস্ট, প্রতিশোধ নেবই নেব জনতা সহযোগে।

এখনো কাটেনি শংকা উদ্বেগ চারপাশে অন্ধকারের
প্রেতাত্মা নতুন আগাছা নতুন বিশ^ ব্যবস্থা তাইতো
সতর্ক থাকো আপা, পুরনো বিষদাঁতে নতুন শাখা,
সতর্ক থাকো আপা, আমরাও জেগে আছি অবিকল।

দেহখানা

কত সইতে পারে কতইবা জায়গা-জমি
দহনেরও একটি মাত্রা থাকে কেন সইবে
এ পোড়া মাটির অঙ্গার হবার সুযোগই পেল না
জন্মেই পোড়ে ছাই ৭১, ৭৫, ২১ আগষ্ট আরো কত কি?
দেহখানাও ওরকম,
৭১ এ ভুমিষ্ট হতেই ৭৫’র তারপর দেখে দেখেই জ্বলন
তবুও বিশ্বাস ভাঙেনি, তবে
কোথাও যেন আটকে আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল
তবুও আমি পথিক, হাটবো যতটুকু পারা যায়। 
দেহখানা বড় লোভী শুধু শুধু জীবন খুঁজেফিরে
অচিন পাখিটি নাছোড় নচ্ছার লটকে থাকে বেলাজ
কোথাও কোন জীবন দেখিনা, শুধু মায়া-মরিচিকা
অতঃপর স্বপ্ন- বেদনার আশাই কি?
আশায়ই কি বেঁচে-বর্তে থাকাই দুনিয়া-যাপন।
প্রতিক্ষা করেনা পথিক
আগাবেই আগোয়ান চোরাগুপ্তা পথ, রুখবেই
তৃণমুল নাবিক ঐক্যবদ্ধ আজ।

ব্যর্থতাই আমার অহংকার

জরির চুমকি মোড়ানো লাল ফ্রক পড়া গ্লাসে
দু’প্যাগ হুইস্কি ঢেলেছি মাত্র
চুমুক দিতেই লাল পিঁপড়ে এসে ঠোঁট কামড়ে দিলো ঠোঁটে
তা নিয়ে হই হুল্লোড় রটে গেলো বারের টেবিলে
টিভি পর্দার রেসলিং খেলায় হুমকি ছুঁড়ে পেশি বহুল প্রমিলা
ফুলে ফেপে উঠে অধর যোগলে বরফের চ্যাক দেয় পার্ট টাইম আজব তরুণি
মধ্যরাতে বাড়ির কপাট খোলে না বধুটি
তবুও উষ্ণতা উপছে পড়ে মগজের করোটি

এখন আর মাঠ নেই ঘাট নেই
এপার্টমেন্ট আর ব্রিক ফিল্ডের দখলে
রাড়ি খালের তাড়ি নেই
হেমন্তের জ্যোৎস্নায় চাঁদ নেই
ল্যাম্পোষ্টের সোডিয়াম চাদোয়ায় ভুত নেই
দু প্যাগ হুইস্কির দাম নেই
তবুও মগজের কোষে কোষে স্যাডিস্ট অপশনটি কাজ করে
একবার স্টিমারের ছাদ থেকে সমুদ্রে ঝাপ দিতেই
সারেং ঝাপটে ধরে, এই হেমন্তের বিকালে
আসলে ব্যর্থতায় আমার অহংকার
বারের সিটকিনি টানা হচ্ছে
ম্যানেজার হিসাব কসছেন
তবুও আমার ঘোর আসেনি
ফুলে যাওয়া ঠোঁটের জ্বলন যায়নি।

রাজনীতি আসবেই গুপ্তধনের কাছে

বৃক্ষের যখন সৌর্যবীর্য থাকে পাতার পেলবতা বাড়ে
নদীতে জোয়ার থাকলে মাছেরা জানে না বিষযন্ত্রণা কী?
ফারাক্কাই জানে জল ও মাছের মর্ম, তখন শেওলাও আদরণীয়
জেলে বুঝে কাছিমের প্রয়োজনীয়তা সাগর জলে নুইন্যা তাড়াতে
পুঁজি যেখানে মুখ্য
বহুজাতিক মৎস্য শিকাজি জাহাজি ডেঁকে জল নয়-কাছিম-ই পণ্য।

রোগ লালন-পালন আয়বর্ধন বুঝে অসরকারি হাসপাতাল
ঔষুধ কারখানা পথ্যপণ্যায়ন বুঝে ঢেল
আমিও ক্ষয়ে যাওয়া বক্ষ ক্লোরোফিল গ্রহণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়
অক্সিজেন পুঁজি বিতরণের উপাদান নই

পঙ্গপালের আসে ভিড় করে বহু মুকছুদে
দুগ্ধ গাভী পোষণ খরচ বাড়িয়ে লাভ কী?
বাছুর লালনে কষ্ট বেশি
চেটেপুটে লুটেপুটে সুবিধার সময় বয়ে যায়
লুফে নাও স্বাদ তাড়াতাড়ি

আমি সেই সেগুন কাঠ, কাটলেও রক্ত ঝরে
পাতা ছিড়ে পণ্য মোড়কে কাজে লাগাও পঁচলেও জৈবসার
বঙ্গজনতা জানে আমি এন্টিকমাল,
সুদিনের সুখ পাখি-তোমরাই হাইব্রিড পঙ্গপাল।

মানিক বৈরাগী
আগস্ট ১৫, ২০১৯
বাংলাদেশ।