অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
জাতীয় শোক দিবসে কানাডার অটোয়া এবং মন্ট্রিয়লে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন- আশ্রম সংবাদ

কানাডার অটোয়া এবং মন্ট্রিয়ল শহরে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হয়।  
১৫ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৮-০০ ঘটিকার সময়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কানাডা শাখা, অটোয়া ও মন্ট্রিয়ল আওয়ামী লীগ শাখা ও তাঁর অঙ্গসংঠনগুলো, অটোয়ায় অবস্থিত কানাডা জাতীয় সংসদ ভবনের এবং মন্ট্রিয়লের ‘পার্ক মেট্রো’র সামনে ‘মোমবাতি প্রজ্জ্বলন’ ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। 
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্যদের স্মরণে ‘মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও কানাডায় বসবাসকারী আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরের দাবীতে কানাডার রাজধানী অটোয়ার বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন, অটোয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর সেলিম শের, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইফুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোমা সাইফুদ্দীন, কুইবেক আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সি বশীর, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সুইট, কানাডা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইতরাদ জুবেরী সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুল গাফফারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মন্ট্রিয়লের ‘পার্ক মেট্রো’র সামনের সমাবেশে নেতৃত্ব দেন, আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়া, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুহিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহিয়া আহমদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উভয় সমাবেশে আগত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড বহন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কানাডাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত পাঠানোর দাবী জানান। উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালাতের রায়ের ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হলেও কানাডার আইনী কাঠামোর সুবিধা নিয়ে অবাধে বিচরণ করছে।

এছাড়া, অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য্যের সাথে দিনটি পালন করে। অটোয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের  মাননীয় রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সকালে ‘বাংলাদেশ হাউসে’ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে ‘জাতীয় শোক দিবসে’র অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এদিন বিকাল ৫-৩০ ঘটিকায় হাইকমিশনের মিলনায়তনে হাইকমিশনের প্রথম সচিব অপর্না পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। শুরুতেই  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট রাতে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। নিরবতা প্রদর্শনের পর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের পর উপস্থিত সুধীবৃন্দের অংশগ্রহণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং ১৫ আগষ্ট রাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কানাডায় নিযুক্ত হাইকমিশনার মিজানুর রহমানসহ উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বক্তাগণ তাঁদের বক্তব্যে বলেন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল চেতনাকে ধ্বংস করা এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক চক্র ১৫ আগষ্টের এই নির্মম হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে।

আলোচকগণ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর চেতনাকে নি:শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র এবং তাদের দোসররা। দীর্ঘ ক্রান্তিকাল পেরিয়ে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ’৭৫-এর ঘাতকদের বিচার সুনিশ্চিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির যে অভিশাপ ও কলঙ্কের কালিমা  ছিল তা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।

হাইকমিশনার মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বাংলাদেশের উন্নয়নে সফলতা এবং নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধশালী স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

কবির চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা।
আগস্ট ১৬, ২০১৯