অটোয়া, মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
ইউরোপের পথে পথে (ষোলো) – দীপিকা ঘোষ

    ফ্রান্সের পঞ্চম জনবহুল শহর নিস পেছনে ফেলে ইউরো রেলে ২৫০ কিলোমিটার বেগে আমরা এবার ইটালির দিকে ধাবমান। মগজ জুড়ে গত কয়েক দিনের স্মৃতি, ঘটনার স্রোত ছায়াছবির মতো নেচে বেড়াচ্ছে একের পরে এক। বিশেষত সাগর সৈকতে দেখা গতকালের দৃশ্যটা প্রশ্নের ভিড় তুলেছে মনের কোণে। ভূমধ্যসাগরের নীল জলে তখন বিশাল অগ্নিগোলকের মতো রাঙা সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে মহাসমারোহে। বর্ণময় নুড়িপাথরের গায়ে  দিনশেষের ক্লান্ত রোদের অফুরন্ত পরশ। বসে বসে খানিকটা কথা হচ্ছিলো একজন তরুণী মায়ের সঙ্গে। তার সঙ্গে তিনটি ছোট্ট শিশু দেখে নিজেই এগিয়েছিলাম আগ্রহভরে। সবিনয়ে জানতে চেয়েছিলাম তাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস পারি কিনা। সম্মতি পেয়ে বলেছিলাম-
     আমরা প্রথমবার ঘুরতে এসেছি এখানে তাই জানা নেই। তুমি কি জানো সাগর জলে লাল ফ্লাগ কেন উড়িয়ে রেখেছে ওভাবে? ওখানে কি হাঙরের আক্রমণ হয়?
     খুব হয়! এখানকার শ্যালো জলেও হাঙর ঘুরে বেড়ায়। আর সেগুলো খুবই মারাত্মক ধরনের!
     ওঃ সেই জন্যই! এরা বুঝি তোমার মেয়ে? দারুণ কিউট দেখতে কিন্তু! কী নাম ওদের?
     মেয়েটির মুখে এতক্ষণে ঈষৎ হাসির আভাস দেখা দিলো। প্রসন্ন চেহারা নিয়ে বললো-
     কার্মেলা, ক্যাসাণ্ড্রা আর ক্যারোলা।
     বাঃ! খুব সুন্দর নাম রেখছো তো!
     ধন্যবাদ! অন্যরাও তাই বলে! তবে আমি নই, নামগুলো ওদের বাবা রেখেছে!
     খানিক পরেই চোখে পড়েছিল দূরে দাঁড়িয়ে শুচি হাত তুলে ইঙ্গিতে ডাকছে। কাছে যেতেই ব্যাকুল অভিযোগ ধ্বনিত হলো-
     তুমি কি ওদের চেনো? কেন তাহলে কথা বলতে গিয়েছিলে? তুমিই বলো মেসো, মামণির কি এসব করা উচিৎ? তোমার তো অজানা নয়, এসব ওদের কালচার নয়?
     তুই চুপ কর তো! তাতে কী হয়েছে? দেখে ভালো লাগলো, তাই বললাম! তোদের এই যুগের ছেলেমেয়েদের সবকিছুতেই দেখছি মেপে চলার একটা বাজে অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে! যন্ত্র হয়ে যাচ্ছিস সব!
     কিন্তু তুমি কি জানো যে, এখানকার মানুষ বিশ্বাস করে, রোমারা ওদের বাচ্চা চুরি করে টাকা ইনকামের জন্য? আর তার জন্য কাউকে দেখলেই কথা বলতে চায়? কণিষ্ক দুই চোখে শংকার ছায়া ছড়িয়ে সতর্ক সঙ্কেতে জিজ্ঞেস করলো।
     কিন্তু আমি তো আর রোমা সম্প্রদায়ের কেউ নই রে বাবা! তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, আচার আচরণ সবই তো আলাদা! তাহলে এসব কথা কেন ভাবছিস তুই?
     ওঃ মামণি, তুমি এখনো পৃথিবীর কিছুই জানো না দেখছি! ভেরি স্ট্রেঞ্জ! অবশ্য তোমার মতো দু’একজন মানুষ পৃথিবীতে এখনো আছে! রেয়ার অবশ্য! তাদের সংখ্যা, ওয়ান ইন এ মিলিয়ন!
     রোমা মানে ‘জিপসি সম্প্রদায়’। আগে মনে করা হতো এরা ঈজিপ্ট(মিশর)থেকে আগত যাযাবর সম্প্রদায়। সেই জন্যই নামকরণ করা হয়েছিল ‘জিপসি’। কিন্তু আধুনিককালে এদের জেনিটিক এবং ভাষাগত বিশ্লেষণ প্রমাণ করেছে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোমারা ইউরোপের নানা দেশে, এমনকি আমেরিকাতেও মাইগ্র্যান্ট হয়ে এসেছিল যাযাবরবৃত্তির উৎসাহে। নিজেদের সম্পর্কে কোনো লিখিত রের্কডপত্র না থাকায় পৃথিবীর কোনো জায়গাতেই রোমাদের স্বদেশভূমি কিংবা জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের জঞ্জাল মনে করে। সরকার থেকে মাঝে মাঝেই দেশের মাটি থেকে উৎপাটনের চেষ্টা চালানো হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এরা ঘৃণিত! লোকপ্রচলিত বিশ্বাস, চৌর্যবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরণের খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত ওরা! বড় নোংরা! অশালীন! অবাঞ্ছিত! ওরা তাই খারাপ অর্থে রহস্যময় তাদের কাছে! অবশ্য কেউ কেউ তাদের মধ্যে আর্টিস্টিক এবং রোমান্টিক দিকের অনুসন্ধানও খুঁজে পায়। এমনকি রোমা চরিত্রের বোহেমিয়ান ভাবটিও তাদের নজর এড়াতে পারে না।
     ধুসর রঙা নুড়িপাথরের অরণ্যে, মাঝে মাঝেই উঁকি মারছে লাল, সবুজ, নীল, হলুদ, গোলাপিসহ মিশ্ররঙের অজস্র সুমসৃন পাথর। তাদের জন্মবৃত্তান্তের রহস্য নির্ণয়ের চেষ্টায় অন্য মনে অনেকটা এগিয়েছিলাম নিচের দিকে। হঠাৎ অপ্রত্যাশিত এক বাস্তবতায় দৃষ্টি আটকাতেই থেমে গেলো পদক্ষেপ। একজোড়া নরনারী সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে সানবাথ নিচ্ছে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়ে। মন ধাক্কা খেয়ে প্রশ্ন তুললো-
     এই বিচ কি নিউডদের জন্য? তাহলে সাইনবোর্ড কেন রাখা হয়নি? আর যদি সাধারণ পাবলিকের হয়ে থাকে? তাহলে কী সাহসে এরা পড়ে আছে এমনভাবে?
     শুচিরও নজরে এসেছিল। তাড়াতাড়ি দূরে সরে যেতে যেতে বললো-
     ওদিকে চলো। ওদের প্রাইভেসি নষ্ট করো না!
     ভারি তো প্রাইভেসি! মানুষজন চরে বেড়াচ্ছে চারদিকে...!
     ঠিকই বলেছো, আমারও মনে হয় না এটা ফ্রি বিচ! জানি না কেন ওরা..! যাকগে চলো, ওদিকে একটা বিরাট মল রয়েছে দেখে আসি।
     ইউরোপ, আমেরিকার সব দেশেই নিউড সানবাথের দৃশ্য স্বাভাবিক। তবে তার জন্য নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানকার সনা, সুইমিং পুল, পার্ক, বিচে মানুষ ন্যাংটো হয়ে ঘাম ঝরায়। সাঁতার কাটে। সূর্যস্নান করে দীর্ঘ সময় ধরে। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-বন্ধুর সামনেও সেখানে কখনো ভেদাভেদ নিরূপিত হয় না। এদেশের সংস্কৃতিতে একে নাকি বলা হয় -‘ফ্রি বডি কালচার’। ফ্রান্সের সবখানে উলঙ্গ ভাস্কর্য মূর্তি বিস্তর দেখেছি। শিল্প সৌন্দর্যের অনন্য মহিমা নিয়ে তারা আবির্ভূত হয়েছে প্রতিবার। মনের মুগ্ধ চোখ বার বারই জানিয়ে দিয়েছে-
     শিল্পের সৌন্দর্য সদা উন্মুক্তই থাকে! বাইরের আবরণ দিয়ে আবৃত করতে গেলে সৌন্দর্যের সীমাহীনতাকে খণ্ডিত করা হয়!
     অথচ সেই মনই দ্বিধান্বিত হয়েছে সাগর সৈকতে দুটি জীবন্ত উলঙ্গ মূর্তি দেখে। আর তখন থেকেই প্রশ্ন জেগে উঠেছে মনে-
     মানুষের চেতনায় শিল্প, সৌন্দর্যের অবস্থান কোন জায়গায় স্থান করে থাকে? সামাজিক সংস্কারের প্রতিফলন তাতে ঘটে কি? ঘটলে শিল্পভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়?
     দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইটালির ভৌগলিক সীমা নির্ধারিত হয়েছে তিনদিকে সাগর পরিবৃত হয়ে। এর উত্তরে রয়েছে আলপ্স পর্বতমালা পরিবেষ্টিত দক্ষিণ ফ্রান্স। দক্ষিণে আইয়োনিয়ান সাগর। পূর্বে আড্রিয়্যাটিক এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর। দেশটির ৪০% জায়গা দখল করে আছে পাহাড় ও ছোট ছোট উপত্যকার অবস্থান। ফ্রান্সের থেকে এর আলাদা বৈশিষ্ট্য সাধারণ দৃষ্টিতেও স্পষ্ট করে ধরা দেয়। যেমন যুক্তরাজ্যের বাইরে এসে  ফ্রান্সের স্বকীয় সত্তা নজর কেড়েছিল, তেমনি ইটালির ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যসহ অন্য পারিপার্শ্বিকতা তার আলাদা অস্তিত্ব নিয়েই সুস্পষ্ট স্বকীয়তা ঘোষণা করলো।
     ট্রেনের ছুটন্ত জানালা থেকে চোখে পড়লো ফ্রান্সের চেয়ে এখানকার প্রকৃতির রূপে পেলবতার অভাব। যদিও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা কম থাকায় আকাশ একটু বেশি উন্মুক্ত। গ্রাম পরিবেশের নিবিড়তাও চারপাশে বেশি। অবারিত প্রান্তর জুড়ে সবুজ ভুট্টার ক্ষেত ভারতবর্ষের দিগন্ত প্রসারিত ফসলের মাঠের কথা মনে করিয়ে দেয়। মাইলের পর মাইল জুড়ে আঙুরলতার ঝাড়। আরও দূরে সর্ষের মতো উজ্জ্বল হলুদ ফুলে আদিগন্ত উদ্ভাসিত। কিন্তু তারপরেও এখানকার আবহাওয়ায় যেন গ্রীষ্মমণ্ডলের বেশি মন মেজাজ বিকশিত। শুষ্কতার কেমন এক বৈরাগ্য ছড়ানো।

     এখানকার ট্রেনের ভেতরটা অন্যরকম। দরজা থেকে তিন চারটে সিঁড়ি পেরিয়ে ওপরে কম্পার্টমেন্টের দু পাশে চেয়ার সাজানো। শুচির ঢাউস সাইজ স্যুটকেস ট্রেনের দুরন্ত ছুটোছুটিতে থেকে থেকেই গড়িয়ে যাচ্ছে। সামলে রাখা দায়। সামনের আসনের তরুণ দম্পতি সরাসরি তাকিয়ে কসরৎ দেখছে আমাদের।
     কিছু সময় পেরুতে তরুণী ব্রিটিশ উচ্চারণে বললো-
     ওটাকে সিটের পাশে উল্টে রাখো। যাতে চাকাগুলো ফ্লোরের ছোঁয়া না পায়। পেলেই আবার গড়িয়ে চলবে।   
     উপদেশ শুনে কাজ হলো। শুচি কৃতজ্ঞতায় হেসে ব্রিটিশ উচ্চারণে জানালো-
     অনেক ধন্যবাদ! ব্যাপারটা এতক্ষণে বোঝা গেলো!
     মিলানের কাছাকাছি এখন ট্রেন। টিকেট চেকার সামনে এসে দাঁড়ালেন। চেকিং শেষ করে হেসে বললেন-
     তোমাদের প্রত্যেককে পঞ্চাশ ইউরো করে ফাইন করা হয়েছিল নিসে! এই ভুলটা প্রথমবার অনেকেরই হয়!
     ঘোষও হাসলো-
     হ্যাঁ আমরাও প্রথমবার। সেজন্যই কার্ডে লিখে রাখতে ভুলে গিয়েছিলাম! 
     অনলাইনে গ্লোবাল ইউরো রেলের পাস কেনা হয়েছিল তিন মাস আগে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ইউরোপের মধ্যে দূরের যাত্রায় প্লেনে নয় গ্লোবাল ইউরো রেলে যাতায়াত করা হবে। তবে জানা ছিল না, প্লেনে যেমন বোর্ডিং পাসের দরকার, এখানেও তেমনি প্রতিবার আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ফি দিয়ে (অনলাইনেও করা যায়) সিট নির্দিষ্টকরণের প্রয়োজন পড়ে। যেটা কিনা মেট্রোতে দরকার হয় না। প্রতি ভ্রমণের পর টিকেট কার্ডে তাই দিনক্ষণ, জায়গা সম্পর্কে লিখে রাখতে হয়। যাতে একই টিকেট বার বার ব্যবহার করার সুযোগ না থাকে। এই নিয়ম অবশ্য সম্প্রতি প্রচলিত হয়েছে হয় জঙ্গি দমনের কৌশলগত কারণে, নয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন জনস্বার্থে অর্থ রোজগারের উৎস হিসেবে।
     ইউরোপে এখনও অবধি যতটা ঘুরে বেড়িয়েছি সবখানেই দেখছি মাটির ওপরে এবং নিচে ট্রেন চলতে থাকায় বার বার আলো আঁধারের আলিঙ্গন খেলা চলে। একদিকে ওপরে প্রখর সূর্যের আলোর ব্যাপ্তি। অন্যদিকে মাটির নিচে নীলাভ বৈদ্যুতিক আলোয় পূর্ণিমার প্রসারিত লাবণ্য। প্রচুর দেয়াল লিখনও সর্বত্রই চোখে পড়ছে। ফ্রান্সে তো সবখানেই দেখেছি। মেট্রোতে চড়ার সময় স্টেশনের দেয়ালে দেয়ালে। মাটির নিচে অন্ধকারময়  পাথুরে মাটির গায়ে। এমনকি শপিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনগুলোও বিভিন্ন বিল্ডিং-এর গায়েই সেঁটে রাখা হয়েছে।
     শুচি কয়েক ঘন্টায় বেশ কয়েকবার আসন ছেড়ে উঠলো-
     উঃ ভীষণ বোর লাগছে! যাই দেখে আসি লাঞ্চের কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা!
     তাহলে চলো, আমিও তোমার সঙ্গে যাই দিদিভাই!
     তোরা এত বোর্ড হচ্ছিস কেন? চারপাশে কত রকমের সুন্দর দৃশ্য, বাড়ি ঘর, জনজীবনের ব্যস্ততা দেখতে দেখতে চলেছিস, এসব ভালো লাগছে না?
     এসব কোনো দেখার জিনিষ হলো মামণি? এর মধ্যে এক্সাইটিং কিছু আছে?
     এসব জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া চলে না। তাই চুপ করে রইলাম। পাশের সহযাত্রিনীর কিশোর ছেলে সামনের ঝুলন্ত ডেস্কের ওপর ল্যাপটপ খুলে নিয়ে নিমগ্ন হয়ে বসেছে। জননী ডুবে আছে গভীর নিদ্রায়। তার সোনালি চুলে, সোনা মুখে, সোনা রোদ্দুর ছড়িয়ে পড়ে আলোকিত করেছে তাকে।
     দেখতে দেখতে চোখ বলছে-
     আহা! রোমান্টিকতার অতল পরশ কী প্রশান্তি নিয়েই ফুটেছে!
     রোমান ইতিহাসের কেন্দ্রভূমি মেট্রোপলিটন শহর রোমে চমৎকার হোটেল, অ্যাপার্টমেন্টের অভাব নেই। ক্যাব নিয়ে সেন্ট পিটার অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছুতে বিকেল গড়িয়ে গেলো। চমৎকার সব বিল্ডিংগুলোকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়ার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা এখানে। গেট খুললেই রাজপথ। এখানেও প্রাচীন সব বৃক্ষরাজি। অবাক প্রশান্তি ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চারপাশে। চেনা গাছের পাশাপাশি অনেক অচেনা গাছ। অনুভব ছুঁয়ে যাওয়া শান্ত পরিবেশ। গত শতাব্দীর স্থাপত্যশিল্পের সব চিহ্নই যেন বহন করছে এই শহর।
     দোতলায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা। চারটে বেড। প্রয়োজনীয় সব ধরনের আসবাবপত্র। রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজ, ওভেন, মাইক্রোওয়েভ, কুকটপ, ডিশওয়াশার সবকিছু দিয়েই ছিমছাম সাজানো রয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট। কদিনের অশ্রান্ত ভ্রমণে সবাই ক্লান্ত। ইচ্ছে ছিল গ্রোসারি সেরে রান্না করে খাওয়ার। তার আগেই কণিষ্ক বললো-
     মেসো, এখানে ইণ্ডিয়ান আর চাইনিজ রেস্টুর‌্যান্ট প্রচুর রয়েছে! কী খেতে চাও বলো?
     পিজ্জা, পাস্তা, ম্যাকডোনাল্ড, সি ফুড, ফ্রেঞ্চ ফুড প্রচুর তো খাওয়া হলো, এবার তাহলে ভারতীয় খাবারই আজ খাওয়া যাক!
     আমিও তাই ভাবছিলাম! তাহলে ডিনারের জন্য অর্ডার দিই? বলে দিই সাতটার দিকে পৌঁছে দিয়ে যেতে? ওরা বললেই পৌঁছে দেবে।
     শাওয়ারে যেতে যেতে কানে এলো, শুচি বলছে-
     পাপান, শুধু মাংসের অর্ডার দিয়ো না! মেসো কিন্তু মাছ খায়!  ... (চলবে)

     দীপিকা ঘোষ । ওহাইয়ো, আমেরিকা