অটোয়া, রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
কানাডাতে বিসিসিএস-এর “মহান বিজয় দিবস ২০১৯” উদযাপন -আশ্রম প্রতিনিধি

রন্টো, কানাডাতে ১৫ই ডিসেম্বর থেকে আমাদের বিজয়ের, গৌরবের ডিসেম্বর মাস উপলক্ষে চলছে “মহান বিজয় দিবস” উদযাপন প্রোগ্রাম। ২২ শে ডিসেম্বর "আমাদের বিজয়" -শিরোনামে একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, বিসিসিএস এর একজন ভলান্টিয়ার সায়িদা। 

চার পর্ব এর এই আয়োজনে “যুদ্ধ থেকে বিজয়” পর্বে  মুক্তিযোদ্ধা মি. মনা উনিশ 'শ একাত্তরে তার যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে সন্মানিত করে ছোট্ট সোনামনি ফাইজা। 

মৌ মধুবন্তী পরিচালিত দ্বিতীয় পর্বের শিরোনাম ছিল  "বিজয় ও প্রবাসী প্রজন্ম"--এতে মোট আটজন বাচ্চা অংশগ্রহণ করে।  মাত্র কুড়ি মিনিটের এই পর্বে  প্রথমে আদ্যাশ্রী সাহা দুটো  একক নাচ পরিবেশন করে। দলীয় নাচ করে রাইনা, ফাইজা, রাহমি। তারা পতাকা হাতে বিজয়ের শ্লোগান দিয়ে শেষ করে তাদের নাচ। মন জয় করে দর্শকদের। মঞ্চকে জয় করে নিয়েছে তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পায়ের মুদ্রায় ও তালে। 
ছোট্ট জাহারা ও আর্দ্রিতা দুইবোন আবৃত্তি করে একটি বিজয়ের ছড়া। ছড়াটি লিখেছে কবি মৌ মধুবন্তী।  তাদের সাবলীল উচ্চারন সবার মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে। 
নাচ আর ছড়ার পরে সালাম সালাম গান নিয়ে আসে সায়র। সবশেষে রেললাইনের সেই…  গানটি হারমোনিয়ামে গেয়ে শোনায় কমিউনিটির সবার পরিচিত মোহনা। তবলায় সংগত করে মামুন। 
গান  শেষে ক্ষুদে শিল্পীদের,  বিজয়ের শিল্পীদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন, শিক্ষাবিদ মি. মোজাম্মেল খান, সার্টিফিকেট তুলে দেন লেখক তাসরিনা শিখা, কেইন ক্যান্ডি তুলে দেয় মৌ মধুবন্তী, হোম মেইড বিজয় দিবস কুকি তুলে দেয়, নাজনিন হক। 
সায়িদা বারী ও বিসিসিএসের প্রেসিডেন্ট হাসিনা কাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দিত করে কবি ও আবৃত্তিকার মৌ মধুবন্তীকে।   

তৃতীয় পর্বের নাম  ছিল "জন্মেছি ৭১ এর দেশে"। এই পর্বের গ্রন্থনা, নির্দেশনা  ও কবিতা রচনা করে কবি মৌ মধুবন্তী এবং নতুন প্রজন্মের মাশায়েখ হাসান, তাসনিয়া আহমেদ, জনি হোসেন, তানজিম এ আল আমিন, আক্তার উজ জামান, অন্তু সরকার প্রণব, সিফাত আহমেদ।
আবৃত্তিতে  অংশ নেয় ছন্দা দেবনাথ, নাসিমা বাহার ও মৌ মধুবন্তী।  অনুষ্ঠান শুরু হয় ষোলটি মোমবাতির প্রজ্জ্বলন দিয়ে। এতে সহযোগিতা করে শারমীন শরীফ।

পনের মিনিটের এই পরিবেশনা ছিল বৈচিত্রে ভরা। কখনো বৃন্দ, কখনো দ্বৈতকন্ঠে,কখনো একক কন্ঠের আমেজে দর্শকদের মুগ্ধ   করে রেখেছে আবৃত্তিকারগণ। কবি মৌ মধুবন্তীর লেখা "নারী হোক বিজয়ের প্রতিপাদ্য" কবিতার শেষ লাইন ছিল, নারী ও পতাকা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। এইকথা উচ্চারণের সময় পতাকা হাতে  দৃপ্ত পায়ে মঞ্চে আসে মার্যিয়া হক। শেষ হয় আবৃত্তি পর্ব। আবৃত্তির সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজায় মামুন। ব্যানার লাগাতে সহযোগীতা করে বন্ধু নাজনীন হক। সকল আবৃত্তিকার ছিলেন যেন একেকটি সতেজ লাল সবুজে বিজয়ের পতাকা। 


চতুর্থ পর্বের  নাম ছিল গীতিনৃত্য আলেখ্য  '৭১। গ্রন্থনা কবি দেলোয়ার এলাহী। তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দিত করে সায়িদা বারী ও হাসিনা কাদের। এই পর্বের অংশগ্রহণে ছিল সুমন মালিক, চৈতন্য নাজমুল, মিলি, ছন্দা, মার্যিয়া ও তবলায় মামুন। এই পর্বে নাচ করে সীমা বড়ুয়া আর ডালিয়া। 
মোট দুইঘন্টার এই ছোট আয়োজনে উপস্থিত দর্শক সত্যি মুগ্ধচিত্তে উপভোগ করে বিজয় দিবসের আনন্দ। অনেক দর্শক ফোন করে এই আয়োজনের স্বার্থকতা নিয়ে প্রসংশা জানান। জন্মেছি ৭১ এর দেশে - পর্বে অনেক দর্শক আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখের জল ফেলেছেন। কেউ কেউ এই পর্বটি আবারো পরিবেশন করবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। 
ছবি তোলায় ছিল, নাশিদা চৌধুরী, রেজাউল করিম,  মিতা, মার্জিয়া হক ও নতুন প্রজন্মের অনেক ছেলে মেয়ে আর নাম না জানা কয়েকজন নতুন কয়েকজন। সবাইকে সাদর অভিনন্দন, ধন্যবাদ সার্বিক সহযোগিতার জন্য। 
ব্যাকগ্রাউন্ডের ডিজাইন করেছে সায়িদা  নিজে। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিল মামুন। 

অনেকেই ভলান্টিয়ার হয়ে কাজ  করেছে। তাদেরকে ধন্যবাদ। বিসিসিএসের কালচারাল গ্রুপের অন্যান্য লীডাররা আগামীতে আরো সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

টরন্টো, কানাডা।