অটোয়া, রবিবার ৪ জুন, ২০২৩
ভাঙা গড়ার উপাখ্যান - হামিরউদ্দিন মিদ্যা

    খাদু বিবির মাঝ উঠোনে ঝাঁকড়-ঝুমর কাগজী গাছের তলায় দাঁড়াল ছায়াটা। মেঘে খাওয়া চাঁদের আলোয় কালো মিশমিশে। দোতলা কোঠাবাড়ির নীচের ঘরের দরজাটা বন্ধ। উঁকি মেরে দেখল।খোলা থাকলে যে পথে এসেছে, সে পথেই সুর সুর করে ফিরে যেত। মোয়াজ্জিন কিছুক্ষণ আগে এশার আজান দিয়েছে। আকাশে তারা ফুটেছে দু-একটি।ধোঁয়ার জন্য চেয়ে দেখার জো নেই। টালির চালে, টিনের চালে, খড়ের চালে ধোঁয়াটা কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে অন্ধকারের সঙ্গে গা মিশিয়ে হেলান দিয়েছে। পাড়াটায় মানুষজন কম। নামাজীরা মসজিদে নামাজ পড়তে গেছে, ছেলে-ছোকরারা পুকুরপাড়ের ক্লাব ঘরে আড্ডা দিচ্ছে। এই সময়টি খুব শুনশান। ছায়াটা এই সময়টির জন্যেই অপেক্ষা করছিল।
     এবার ছায়াটা খানিক নড়ে উঠল। পাশের বাড়ির রান্নাশালের উনুনে আগুন জ্বলছে। কিছুক্ষণ আগেই ঘুঁটে দিয়ে আঁচ দিয়েছিল, ধোঁয়া কেটে এখন গনগনে লাল। পা টিপেটিপে রান্নাশালের দিকে এগিয়ে গেল। বাঁশের খুঁটিতে ভর দিয়ে দাঁড়ায়। চুপি-চুপি ডাকে, ভাবি-ই!
     চমকে উঠল মেয়েমানুষটা। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল, লিয়াকত তুই?
     লুঙির আঁচলে হাত ভরে একটা প্যাকেট বের করে। মেয়ে মানুষটার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, শুলুক পাহাড়ির হাট গেছিলাম। তুমার জন্য এনেছি। সিটিগোল্ড। পুরো একবছর... কথাটা শেষ করতে না দিয়েই খপ করে হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিল জিনিসটি। সামান্য হাসল।
     উয়ার জন্যে কি এনেছিস বে?
     সে কাল জানতে পারবে। জব্বর এখনও আসে নাই তো?
     না বে না, এখুনি কি আসবেক। উ এখন পিরের চায়ের দোকানে।
     তাইলে দেখবে নীচেটা।
     বুড়োটা নামাজ পড়তে গেল। উ দেখগা উপরতলায় ঘুমুচ্ছে। ঢেপসি মেয়েটা আজ টিভি দেখতেও আসেনি। তুই যা, আমি দেখে লিব।

     বুকটা ঢিপঢিপ করে উঠল। নারী শরীরের গন্ধটা স্পষ্ট টের পাচ্ছে। পিঁড়েটা নিরেট অন্ধকার। বুড়োর ঘরের ভেতর একটা হলুদ বালব জ্বলছে। বন্ধ দরজার নীচের ফাঁকটুকু দিয়ে তারই কিছুটা ছটা উঠোন ডিঙিয়ে কাগজি গাছটার একটা নুয়ে পড়া ডালে বাধা পেয়ে ঝুর-ঝুর করে ভেঙে পড়েছে। সিঁড়ির কাছে একবার থমকে দাঁড়াল। তারপর নিশ্চিন্তে উঠে গেল তরতর করে। উপরতলার মেঝেতে একটা ষাট ওয়ার্ডের বালব জ্বলছে। সেই আলোয় দেখল, খাদু উবু হয়ে শুয়ে আছে। পর পর দু'বার ডাকল। উঠল না। তিনবারের বেলা ঠেলা দিল। তাতেই কাজ হল। ধড়মড় করে উঠে পড়ল। খাদুর লিয়াকতকে দেখে বিশ্বাস হয়নি, ভেবেছে এখনও বুঝি খোয়াব দেখছে।
     তুমি! হাট থেকে চলে এইচ?
     এখুনি ঘুমিয়ে পড়লে যে?
     আজ মুড়ি ভেজে খুব আলাতন হয়ে গেছি। এই চোখটা একটু লেগেছিল...
     লুঙির আঁচলে হাত ভরে জিনিসটা বের করল লিয়াকত।
     এইটা পছন্দ হয় নাকি দেখ।
     ও বাব্বা! রূপোর তোড়া!
     হ্যাঁ, অনেক খুঁজে খুঁজে এই ডিজাইনের পেলাম।
     কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থাকল খাদু। লিয়াকত বলল, কি হল আবার?
     এমনি।
     এমনি লয়, কিছু একটা হয়িছে।
     শুনো একটা কথা বলি, তুমি আর রোজ আসো না। পাড়ার লোকে গুজুর-ফুসুর করে। সেদিন নিয়ামুলের বৌ পর্যন্ত তুমাকে দেখে ফেলেছে।
     লিয়াকত কথাটা আমল দিল না। তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়, ছাড়ো তো লোকের কথা। যে যা বলছে বলুক গো। মিয়া বিবি রাজি, তো কী করবে কাজি?
     খাদুবিবি তালাই থেকে উঠে পড়ল। ফট করে সুইচ টিপে ষাট ওয়ার্ডের বালবটা দপ করে নিভিয়ে দিল। সুযোগ বুঝে খড়ের চালায় জমাট বাঁধা অন্ধকার গলগল করে ঢুকে পড়ল জানালা দিয়ে।

(দুই)

     জব্বর সেখকে গ্রামের মানুষ খ্যাপা বলেই জানে। পুরো খ্যাপা নয়, আধ খ্যাপা। মাঝে-সাঝে মাথাটা বিগড়ে যায়। নিজের জমি-জিরেত না থাকলেও খেটে-খুটে সংসারটা ঠিক চালিয়ে নেয়। আশমানে কালো মেঘ জমলে সেদিক পানে চেয়ে থাকে। খুশিতে চোখগুলো ঝলমল করে ওঠে। ঝমঝমিয়ে পানি ঢাললে গৃহস্থের গোয়ালঘরে বলদের মন টেকে না। তখন খালি হাম্বা হাম্বা করে ডাক পাড়ে।চাষীর কানে পৌঁছে দেয় বীজ বপনের মন্ত্র। জব্বর খ্যাপার তখন গ্রামে-ঘরে কদর বেড়ে যায়। লাঙল চালাবার জন্য ডাক পড়ে। পানিতে ভিজে ভিজেই লাঙলের বোঁটা ধরে গান ধরে। যে গানের সুর মিশে যায় পানি পড়ার শব্দের সঙ্গে,বাতাসে। মাটিকে উর্বর করে তোলে, শরীরের জোর দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তখন জব্বর খ্যাপা,খ্যাপা থাকে না। হয়ে উঠে আদিম মানুষ।

     আর পাঁচটা মানুষের মতোই জব্বর ভালো-ভালো কথা বলে। খালি মাথার গেঁদির ভেতর যে পোকাটা বাসা বেঁধেছে, সেটা নড়ে উঠলেই বিপদ! তখন আল-ফাল বকে, সবার সঙ্গে তর্কাতর্কি জুড়ে দেয়। সাইকেল চালাতে চালাতে আচমকা হ্যান্ডেল ছেড়ে 'ক্যালি' দেখায়। কখনো পুকুরপাড়ে বসে হেড়ে গলায় গান ধরে,দুঃখুর গান।

     এই হেন জব্বর খ্যাপার বৌ খাদু বিবি জ্বলেপুড়ে মরে গেল। খ্যাপাটা যাই বলুক পুরুষ মানুষরা মানিয়ে -গুছিয়ে চলে। মজা মারে। কিন্তু কোনো বউ-ঝি কিংবা লোকের ডাগর বিটিছেলেকে কিছু বলে ফেললে সে তো মুখে কুলুপ এঁটে থাকে না। তখন সোজা গিয়ে খাদুকে কথা শোনায়।
     রাত্রে শুয়ে আছে দুজন। আচমকা খাদু বিবির ফুলটুশির কথাটা মনে পড়ে। এই,তুমি মহন্তর বউকে কী বলেছ?
     কী বলেছ নই, বল কী দেখেছ? বলে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসল জব্বর।
     আবার খ্যাপার মতো হাসে। যা বলছি তার সায় দাও।
     মহন্তর বউ ঘাটে নেমে ছপছপ করে যা পানি দুলাচ্ছিল, সে কি বলব তুকে। আমি বললাম, ও বউ মাছ ধরছ নাকি গো? বলা মাত্র তড়াক করে উঠে মুখ নামিয়ে চলে গেল। আবার খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসল জব্বর।
     তুমি এত খ্যাপা কেনে? নতুন বউকে এমন কথা কেউ বলে? লজ্জা-শরম করবে একটু। একটা কথা শুনে রাখো, তুমাকে আগেও বলেছি, আবারও বলছি, এরকম খ্যাপামি করলে সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যাব। তখন বুঝবে ঠেলা।
     জব্বরের ছাতি ফেটে যায় খাদুর কথা শুনে। তার দু-দুটো বউ তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই পক্ষের একটা মেয়ে আছে। নানার বাড়িতে থাকে। মামারা ভালো স্কুলে ভরতি করেছে। এই বউ আগের গুলোর মতো নয়। যতই খ্যাপামি করুক মানিয়ে গুছিয়ে চলে। জব্বর বুঝে গেছে যাবার হলে কোনদিন আগেই চলে যেত। তাই ইয়ার্কি মারে।
     তুই আর কুথায় যাবি? ছেলে-পুলের মা হয়ে গেছিস।
     জব্বরের কথা শুনে খাদু মুচকি-মুচকি হাসল। হাসলে আবার খালি দাঁত বেরিয়ে যায়। দাঁতগুলো দুধ সাদা। অন্ধকারেও জেল্লা দেয়,ঝকমক করে ওঠে।
     মাঝেমাঝে এই ঘর-সংসার  ছেড়ে যেদিকে দু-চোখ যায়, চলে যেতে মন চায় খাদু বিবির। এমন কথা বড় জা লইতন বিবিকে শোনায়। তা শুনে লইতন ফিকফিক করে হাসে। ওর হাসি দেখে খাদুর অঙ্গ জ্বলে যায়। ভেতরে-ভেতরে পুড়তে থাকে।
     হাসিটা বিদ্রূপের মতো ঠেকে। নিয়ামুলের বাপ জব্বরের মতো খ্যাপা নয়। গোরুর ব্যাবসা করে। নিয়ামুলেকেও হাতে-নাতে শিখাচ্ছে ব্যাবসাটা। তাছাড়া প্রতি শুক্রবার গোশ করে। একতলা ছাদ পিটিয়েছে। অবসর সময়ে দুই জায়ে ছাদে বসে গল্প করে।

     খাদুর কথা শুনে লইতনের হাসি পাওয়া স্বাভাবিক। তার মনে পড়ে যায় জব্বর খ্যাপার আগের বউ দুটোর কথা। সেই সুত্র কাজে লাগিয়ে বলে, এতদিনের ঘর-সংসার ছেড়ে কুথায় যাবি লা? ভাত দিবেক ভাতারে, রঙ্গ করবেক নাগরে। খ্যাপাটা কিছুই টের পাবেক নাই।  বলে খাদুর ফুলো-ফুলো গাল দুটো হাতে করে টেনে দেয় লইতন। আর ফিক ফিক করে হাসে। এই হাসির একটা আলাদা মহিমা আছে। সবাইকে জাদু করে দেয়। খাদুর গাল টানলে লজ্জা পায়।
     বলে, ছি! এমন হলে কুনদিন খ্যাপার ভাতে ধুলো দিয়ে চলে যেতাম। কত পুরুষ দেখলাম পেছুনে ছুঁকছুঁক করতে।
     লইতন বলে, তু আমার কথা বুঝতে লারলি না কী লা? ভাত দিবেক ভাতারে...
     আর বুঝতে হয় না, সব বুঝে গেছি।
     তাইলে রাজি হয়ে যা। ছেলেটা কতদিন ধরে ছুঁকছুঁক করছে বল তো? লিয়াকত কি খারাপ?
     খাদু মুখে কোনো কথা বলে না। চুপ করে থাকে।কিছুক্ষণ পর বলে,ভাবি-ই আমার ডর লাগে যে!
     ভয়ের কি আছে লা?এখনও তুর শরীর প্যাকাল মাছের মতো।টগবগ করে ফুটবি,তা না।যেন দাঁড়াশ সাপ!

(তিন)

     গায়ে চবচবে করে সরষের তেল মেখে, কোমরে গামছা জড়িয়ে বাঁশতলার পুকুরের পূবপাড়ের ঘাটটায় গা ধুতে এসে কতক্ষণ বসে থাকে লিয়াকত। শীতের দিন। পুকুরের পানিটা বড্ড ঠান্ডা। নামতে গায়ে কাঁটা দেয়। তাই নামার আগে রোদে বসে শরীরটাকে একটু তাতিয়ে নিচ্ছিল। গুল দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে সরষে বাড়ির পাশের মুয়ান ধারের সোঁতা জমিগুলোর দিকে ঘনঘন তাকায়। কিছুক্ষণ পর দেখা মিলে মানুষটির। লইতন ছাগলগুলোর দড়ি ধরে টানতে টানতে আসছে। আগেই যেতে দেখেছিল। তখন গা ধুচ্ছিল ছমির মোল্লা। তাই কিছু বলেনি। ছমির মোল্লাকে দেখে লইতন ঘোমটা টেনে নেয়। ছমির মোল্লা লিয়াকতকে বলে, মোছলমানের মেয়ের স্বভাব দেখদিনি। নাউজবিল্লা! নাউজবিল্লা!

     ছমির মোল্লা গা ধুয়ে চলে গেলে লইতন আসে। লিয়াকত বলল, তুমি খেটে খেটে মরে গেলে ভাবি। তুমাদের কীসের এত অভাব বলদিনি? খামোকা ছাগল চাষ করো কেন?
     তুর বড়ভাই আমাকে কত বকে এই লিগে। কী করব বল। রাঁধা খাওয়া কাজ, সারাদিন চুপচাপ বসে থাকি। তাই দু-চারটে ছাগল পেলেছি।
     লিয়াকত দাঁত মাজতে মাজতে কথার মোড় ঘুরায়, সেটার কী খবর? বলেছ ওকে?
     তুর এত রস কেনে বে? ঘরে বউ থাকতে আবার ছুঁকছুঁকনি কীসের?
     জুম্বাতনের কথা আর বলো না দিনি। দিনকে দিন শুকিয়ে পাটকাঠি হয়ে যাচ্ছে। ড্যাডেং-ড্যাডেং করে বাপের ঘরে যাচ্ছে। আর কোমরে, হাতে, গলায় দু-চারটা করে মাদুলি ঝুলিয়ে চলে আসছে। উয়ার আর ছেলে-পুলে হবেক নাই, এই বলে দিলাম।
     এই কথা বলিস না বে, বলতে নাই। ডাক্তার-ফাক্তার দেখা। ভালো-মন্দ খাওয়া।
    কুথায় আর দেখাতে বাকি রেখেছি? আর ভালো-মন্দ বলছ তো? তুমরাই বলো, কুনু সপ্তায় বাদ দিই? মাছ-গোশ হাঁড়িতে লেগেই আছে।__একটু ঢোক গিলে বলে, সবই তো বুঝো ভাবি, টাইমপাশ...
     লইতন  কী তা আর বোঝে না। বলে,ঠিক আছে লে,চিন্তা করিস না। আমি ঠিক লাগিই দিব। তারপর আচমকা পাশের অশ্বত্থ গাছটার ঝুলন্ত ডালটার দিকে তাকিয়ে চোখ গুলো চকচক করে উঠে লইতনের। বলল, দে না বে ডাল দুটো ভেঙে। ছাগলগুলোকে দিব।
     ছাগলগুলো সকাল থেকে গোঁজে বাঁধা ছিল মাঠে। এখন মাঠে-মাঠে সরষে। খোলামেলা ছেড়ে দিলে এর তার খেতে গিয়ে মুখ দেবে। ধুরন্ধর চাষীরা আলের ধারে ধারে ইউরিয়া মুড়ি দিয়ে রেখেছে। এই কিছুদিন আগে গাবান পাড়ার আঙুরানীর পাইশে রঙা ধাড়ি ছাগলটা খেয়েছিল। পেটফুলে ঢোল হয়ে মরে গেল। কিছুতেই বাঁচানো গেল না। আগে ছিল বীরসিংহপুরে খোঁয়াড়। গরু-ছাগলে অনিষ্ট করলে চাষী ধরে খোঁয়াড়ে দিয়ে আসত। তার জন্য কিছু টাকা পেত। খোঁয়াড় মালিক যার পশু তার কাছে সুদে-আসলে তুলে নিত। সেইসব যুগ-জামানা চলে গেছে।
     লিয়াকতের কথাটা লইতনের মাথায় ঘুর-ঘুর করে। মন জোগানোর জন্য ছোড়া এটা-সেটা দিয়ে যাচ্ছে। সময়টাকে কাজে না লাগালে পুরো লশ। নিজের মনেই মুচকি-মুচকি হাসল লইতন। কাঠি করে খুব আনন্দ পাওয়া যায়। জব্বরের আগের দুটো বৌ হেনানি  ও লুৎফানির কথা মনে পড়ে। যদিও হেনানিকে কাঠি করতে হয় নি। ও নিজেই চলে গেছিল মামাতো ভাই এর সঙ্গে।

(চার)

     জুম্বাতন বিবি সেখ পাড়ার ইয়াসিন খুড়োর মুদির দোকান গেলে লইতন বিবি দেখতে পেয়ে ছাদের উপর থেকে হাত ইশারা করে ডাকে, কই লা লিয়াকতের বউ, তুর সাথে কথা আছে। আসার সময় একবার দেখা করে যাবি।
     খাদু  ঘরে থাকেনি। তার ফাঁকা সংসার। সকাল-সকাল রান্না সেরে পুকুরে গা ধুতে গেছিল। সেই ফাঁকেই লইতন জুম্বাতনকে কথাটা শোনায়।
     এমন একটা ভয় চোরা নদীর মতো বয়ে যেত জুম্বাতনের শিরায় শিরায়। আজ শুনে চমকে উঠে। হায়! হায়!  বলে কপাল চাপড়াতে থাকে। লইতন বলে, আর কপাল চাপড়িয়ে লাভ আছে? শুন এক কাজ কর। তুই যদি বিশ্বাস না করিস, আজ সাঁঝের বেলায় আমার ঘরে চলে আসবি। তুকে ঠিক দেখিয়ে দিব। দরকার হলে ক্লাবের কয়েকটা ছেলেকে খবর দিবি। পিটিয়ে ছাল ছাড়িয়ে দিবেক লিয়াকতের।
     জুম্বাতনের চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি ঝরে। তার পাটকাঠির মতো চেহারা, ছেলের চিন্তায় দিনকে দিন শুকিয়ে আমসি হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে দামোদর পেরিয়ে ফকির ডাঙার পীরের দরগা তলায় গেছিল। বাপের গ্রামের সামসুরা চাচির মেয়ের নাকি ওখানে দেখিয়েই ছেলে হয়েছিল। বুড়ো পীর হেসে বলেছিল, আর তুর চিন্তা নাই মা। এবার তুদের ঘর ভরবে।  তাহলে সেই বুড়ো পীরের কথা মিথ্যা হয়ে যাবে? জুম্বাতন আর ভাবতে পারে না কিছু। ভেতরে ভেতরে পুড়ে খাক হয়ে যায়। লইতনকে বলে, তুমার দুটি পায়ে পড়ি ভাবি। কাউকে কিছু জানাও না। সব দোষ আমার। আমি যদি বাঁজা না হতাম... কথা শেষ না হতেই আবার চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি চলে এল।
     সন্ধেবেলায়  জুম্বাতনকে দেখে নিয়ামুলের বউ বলল, আজ কী মনে করে গো চাচি? সাঁঝের বেলায় কুনুদিন তো আস না?
     লইতন বলল,কেনে? আসতে পারে না? শাশুড়ির কথায় চুপ করে যায় নিয়ামুলের বউ। মনের ভেতর বুড়বুড়ি দেওয়া প্রশ্ন গুলো দুই-দুই-এ চার করতে বেশি দেরি হয় না।
     লইতন ঘরের দোরগোড়ায় বসে বসে উঠোন দিকে ঘনঘন তাকায়। একসময় জুম্বাতনকে ইশারা করে দেয়। টিভিঘর থেকে সুর-সুর করে বেরিয়ে আসে জুম্বাতন। সবাই সিরিয়ালে মগ্ন। অন্ধকার উঠোনে দাঁড়ায়। ঝাঁকড়-ঝুমর কাগজি গাছটার ডালপালার বহর দেখে তার আচমকা ডর লাগে। তখন মনে মনে সুরা ইয়াসিন আওড়ায়। কোঠাবাড়ির উপরতলার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে  থাকে যতক্ষণ  আলো জ্বলে। তারপর আচমকা দপ করে আলোটা নিভে গেলে বুকে সাহস পায়। পায়ে-পায়ে এগিয়ে গিয়ে সিঁড়ির দরজাটা বন্ধ করে শিকল লাগিয়ে দেয়।
     লইতন কাগজি গাছের আড়ালে গা ঢাকা নিয়ে কান পেতে থাকে। মুচকি মুচকি হাসে।
     দরজা বন্ধ করার শব্দ পেয়ে আবার উপরতলার আলোটা জ্বলে উঠে। আলোর ছটাটা সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে-গড়িয়ে নেমে দরজার নীচের ফাঁকটুকু দিয়ে গলে গিয়ে জুম্বাতনের পায়ের পাতার উপর পড়লে বুকটা ঢিপঢিপ করে উঠে। ইতিমধ্যেই দু-জনের গুজুর-ফুসুর কানে আসে। জুম্বাতন বুঝতে পারে না এবার কী করবে। ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে দরজায় ধাক্কা দেয়। জুম্বাতন বোবার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। শেষমেশ দরজাটা খুলে দেয়। খাদু  দরজা খুলে দেখে লিয়াকতের বউ জুম্বাতন দাঁড়িয়ে আছে। থরথর করে কাঁপতে থাকে ওকে দেখে। জুম্বাতন বলে, উ কই?
     উ বলতে? কেউ নাই তো।
     কেউ নাই? বারো ভাতারি সর আমার ছামু থেকে। আচমকা খাদুকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে মাটির সিঁড়ি বেয়ে তড়তড় করে উঠে পড়ে। জুম্বাতন দেখে, সতিই কেউ নেই। কয়েকটা মাটির হাঁড়ি-কুড়ি বিড়ের উপর থাক-থাক সাজানো। মেঝের এককোণ জুড়ে কাঠের টুলের উপর কাঁথা -বালিশের চূড়া। আর একটা তালাই লম্বাকরে গুড়িয়ে রাখা আছে। সেদিকে তাকিয়ে জুম্বাতনের কেমন যেন সন্দেহ হয়। তারপর আচমকা তালায়টা নড়ে উঠলে জুম্বাতন বলে, ঘরকে আয়, তুর মরা বার করছি।
     তালাই-এর ভেতর থেকে লিয়াকত বেরিয়ে পড়ে। জুম্বাতনকে দেখে দাঁত ক্যালায়। তারপর হঠাৎ ছুটে গিয়ে জুম্বাতনের একটা হাত সপাটে ধরে ফেলে, ফটাস করে চড় মারে গালে।
     খুব তুর সন্দেহ হয়েছে লাই? দাঁড়া এবার মজা দেখতে পাবি।
     জুম্বাতন কেঁদে কেঁদে ঘর চলে যায়। লইতন তখন কাগজি গাছের আড়াল থেকে সরে পড়ে। ফিকফিক করে হাসে। হাসলে খাদুর মতো দাঁত বেরিয়ে যায় না। অন্ধকারে দাঁতগুলো জেল্লা দেয় না। পান-দক্তা খেয়ে খেয়ে লাল বোম হয়ে গেছে।

     রাত্রে লিয়াকত ঘরে ঢুকেনি। ক্লাব ঘরেই শুয়েছিল। ভোরের দিকে ঘুম ভেঙে যায়। ঘরে গিয়ে দরজা খুলে দেখে জুম্বাতন ঘুমচ্ছে। তখন ব্যাগ-পত্তর গোছাতে আরম্ভ করে। ঘরের ভেতর খুঁট-খাট শব্দ শুনে জুম্বাতন জেগে গেলে দেখে, তার মানুষটি কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তখন জুম্বাতন ওর পিছু নেয়। বলে,কুথায় যাচ্ছ? লিয়াকত একটাও কথা বলে না। তখন আরও সন্দেহ বেড়ে যায়। সকালের ঝুঁঝকি আলো তখনও ফুঁটেনি। জুম্বাতন আর যায় না, থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। পুব আকাশের তারাটির পানে চেয়ে থাকে কতক্ষণ। বুঝতে পারে তার মানুষটি আর তার কাছে ফিরবে না। কাপড়ের খুঁটেয় চোখ মুছে।
     প্রায় একমাস হয়ে গেল লিয়াকতের খবর নেই। শুধু এটুকু জানা গেছে কেরালায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। টাকাকড়ি কিছুই পাঠায়নি। জুম্বাতন অথৈজলে পড়ে যায়। ঘরের চাল গেছে ফুরিয়ে, হাতে নেই কানাকড়ি। কী করবে? কোথায় যাবে? কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। বাপ-মা কোনদিন আগে ইন্তেকাল করেছে। বেঁচে আছে ভাইরা। একদিন চলেও গেল ভাইদের কাছে। ভাইরা জনমজুর। অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। জুম্বাতনকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আবার এই গ্রামে দিয়ে যায়। মনে সাহস জোগায়, আমরা থাকতে তুর এত চিন্তা কীসের? খুঁটি গেড়ে বসে থাক। তারপর দেখছি লিয়াকতে কত মরদ হইচে।
     খুঁটি হয়ে স্বামীর ভিটেমাটি আগলে রাখলেও বিভিন্ন ঝড়-ঝাপটায় তা নড়ে উঠল। কেননা ইতিমধ্যে জুম্বাতনকে পেট চালাবার জন্য বিভিন্ন অবলম্বন ধরতে হল। বিলে-বাতানে পেঁছে নিয়ে শাক তুলা, লোকের ঘরে মুড়ি ভেজে দেওয়া, ঘরদোর ছুঁই দিয়ে দেওয়া। এমনকি রমজান মাসে 'ফেতরা ' পর্যন্ত চাইতে হল।
     মোছলমানের মেয়ে রানী হয়ে ছিল গো। কী লল্লাট দেখদিনি!  এটাই হয়ে উঠল গ্রামের আলোচনার মুখ্য বিষয়।

(পাঁচ)

     জব্বর খ্যাপা একদিন রাতের অন্ধকারে শুয়ে খাদুকে আদর করতে গেলে আচমকা হাতটা সড়াৎ করে সরিয়ে নেয়।
     বউ তুর প্যাটটা এত ফুলো কেনে? খাদু বিবি মুচকি মুচকি হাসল।
     বলল, ডিংলে ধরেছে। তারপর জব্বর খ্যাপার দিকে পাশ ফিরে চেয়ে দেখে চোখ গুলো পিট পিট করছে।
     তখন আসল কথাটা বলেই ফেলে, আমাকে কাল বাপের ঘরে দিয়ে আসবে। জব্বর খ্যাপা তড়াক করে উঠে পড়ে।
     এই চাষের সময় বাপের ঘর যাবি। আমাকে রেঁধে দিবেক কে?
     তুমার লইতন ভাবির কাছে রাঁধাটা শিখে লিবে। এবার থেকে তো তুমাকেই...আবার ফিকফিক করে হাসে খাদু। জব্বর ভয় পেয়ে যায়। খাদুকে পরি পাওয়া মানুষের মতো লাগে তার। সে ঠিক করে কাল মৌলভী সাহেবের কাছ থেকে পানিপড়া এনে খাওয়াবে।
     খাদুর বাপের গ্রাম নদীপাড়ে। নদী বলতে দামোদর। এপারে বাঁকুড়া, ওপাড়ে বর্ধমান জেলা। এপারের অনেকের কুটুম্ব আছে নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে। জুম্বাতন সেই মারফতেই খবর নিত।  অবশেষে যেটা ভয় করছিল, সেটাই শুনতে হল একদিন। লিয়াকত নাকি খাদুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। রোজ ওদের ফোনে প্রেমালাপ চলে। এমনকি খাদুর বাপ-মায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা হয়। ঘনিষ্ট সম্পর্ক। তা শুনে জুম্বাতন গাল পাড়ে, যেমন বারো ভাতারি মেয়ে, তেমন তার বাপ-মা।
     জব্বর একদিন গাঁয়ের দু-চারজনকে সঙ্গে নিয়ে খাদুকে আনতে গেলে খাদু আসে না। খাদুর মা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আমার বেটি জব্বরের ভাত খাবেক নাই। আমরা ছাড়-বিড় করে লিব।
     তা শুনে জব্বরের ছাতি ফেটে যায়। ধীরে ধীরে মাথাটা আরও বিগড়ে যায়। জব্বরের বুড়ো বাপ ছেলেকে কোথাও দেখাতে কসুর করে না। ঔষুধ খেয়েও কাজ হয় না, পুরোপুরি খেপে যায়। লইতনের কাছেই কোনোদিন খেয়ে নেয়। সব দিন ঘরে ফেরে না। এ-গ্রামে ও-গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। তা দেখে লইতনের মুখের হাসিটা মিলিয়ে যায়। আড়ালে চোখের পানি ফেলে। জব্বরের এমন পরিণতি হবে এটা আশা করেনি। বুঝতে পারে বেহস্থে তার ঠাঁই কোনদিনও হবে না। সারাজীবন দোজখের আগুনেই পুড়ে মরতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে কম ছিনিমিনি খেলেনি সে। কাঠি করে কী পাওয়া যায়? মজা? পরের ভাতে ধুলো দিয়ে, সংসার তছনছ করে সুখ? নিজেরটা যদি ভেঙে যায়, পারবে সহ্য করতে? ভেতরে-ভেতরে পুড়ে খাক হয়ে যায় লইতন।

     লিয়াকত হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে গাঁয়ে ফিরলে ক্লাবের ছেলেরা খুব উত্তেজিত হয়ে যায়। মারধোর করতে গেলে লিয়াকত চোখ ঘুরিয়ে রুখে দাঁড়ায়, গায়ে হাত দিন্না বলেদিচ্চি, ভালো হবেক নাই কিন্তু। কেউ আর মারতে সাহস পায় না। ছমির মোল্লা বুজুর্গ মানুষ। রোজদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। শেষ বয়েসে জীবনটাকে পুরোপুরি ধর্মের দিকে সঁপে দিয়েছে। সেই ছমির মোল্লা একটা কথাতেই ঝামেলাটা মিটিয়ে দেয়। লিয়াকতকে বলে, তুই একবার আমার ঘরে আয় বাপ, কথা আছে।
     এই মানুষটার মুখের উপর কথা বলার মতো গ্রামে কোনো বীর জন্মায়নি। লিয়াকত সোজা ঘরে গিয়ে দেখে, জুম্বাতন বিবি ঘরে নেই। দরজাটায় শিকল তুলে দিয়ে গেছে। তার রাগও হয় না, কাউকে কিছু জিজ্ঞেসও করে না। নিজেই দরজা খুলে ব্যাগটা রাখে। কল টিপে পানি খায়। তারপর লুঙিটা পরে নেয়। কোমরে গামছা জড়িয়ে সোজা ছমির মোল্লার বাড়ির দিকে রওনা হয়।
     ছমির মোল্লার বাড়ি গিয়ে চমকে উঠে লিয়াকত। দেখে জুম্বাতন মাথা নীচু করে বসে আছে ছমির মোল্লার পাশে। লিয়াকতকে দেখেও মুখ তুলে না, সাড়াও দেয় না। গ্যাট হয়ে বসে থাকে। ছমির মোল্লা বেতের মোড়াটা এগিয়ে দিয়ে বলে, আয় বাপ বস।  তারপর আসল কথাটা পাড়ে।
     কী জুড়েছিস বল তো বাপ? এগুলো কী ভালো দেখাচ্ছে?
     লিয়াকত একটা কথারও জবাব দেয় না। মাথা চুলকোয়। এই মানুষটাকে একটু মান্য করেই চলে। কিছুক্ষণ পর মুখ খুলে।
     আমি তো বাঁজা বলে তাল্লাক দিয়ে দিইনি।
     জুম্বাতন মুখ তুলে লিয়াকতকে দেখল এবার। ছমির মোল্লা আরো নরম হয়ে বলে, দেখ বাপ। বিয়ে করে সেই মেয়েকে যদি দিলে কষ্ট দিস, পেটে কষ্ট দিস, আর সেই মেয়ে যদি মাটিতে চোখের পানি ফেলে; তাইলে সেই পুরুষ দোজখবাসীহয়ে যায়। তার শাস্তি চরম। একটু ঢোক গিলে বলে, তুই কী চাস বাপ? এই মেয়েটাকে কী ভাত দিবি নাই?
     লিয়াকত ফাঁদে পড়া পাখির মতো ডানা ঝাপটায়।
    আমি কি সে কথা বলেছি?
     তবে? ওহ্ বুঝে গেছি। তা বাপ আমার ওই মেয়েটাকে যদি আনতে চাস, তাইলে লিকে করে লে। মুসলিম শরিয়তে দুটো বিয়ে করা কোনো গোনাহ'র কাজ নয়। যদি দু-জনকেই ভাত-কাপড় দিতে পারিস, সমান ভালো বাসিস।
     জুম্বাতনের চোখে পানি, ও উঠে পড়ে। তখন ছমির মোল্লার বিবি নুরেসা হাতটা টেনে বসিয়ে দেয়, দেখ মা, ভেবে দেখ, তুর ভালোর জন্যেই বলছে, এই ভাবে জানে কষ্ট পাওয়ার থেকে...
     ছমির মোল্লা বলে, যদি একসঙ্গে থাকতে নারাজ হস ওই মেয়েটাকে একটা আলাদা ঘর করে দিবে।
     বেশ কিছুদিন পর লিয়াকত খাদুকে বিয়ে করে ঘরে তোলে। সঙ্গে একটা ফুটফুটে বাচ্চা ছেলে। লিয়াকত বেশির ভাগ রাত খাদু বিবির ঘরেই শুতে যায়। সেই রাতগুলো জুম্বাতন জেগে জেগে কাটিয়ে দেয়। মাঝ রাত্রে পরি পাওয়া মানুষের মতো খিলখিল করে হাসতে হাসতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকে। বুড়োপীর ঘর ভরিয়েছে, কিন্তু কোল ভরায়নি। একদিন জুম্বাতন  সারা শরীরের সমস্ত মাদুলি খুলে ফেলে। সব গুলোকে এক সঙ্গে গিঁট দিয়ে বাঁধে। তারপর বাঁশতলার পুকুরে চলে যায়। একটুও ডর করে না। মাদুলীর তোড়াটাকে ধরে বঁ করে পানিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। তবুও খেদ মিটে না তার। থু থু করে জলে থুতু ফেলে, আর খিলখিল  হাসে।

হামিরউদ্দিন মিদ্যা । পশ্চিমবঙ্গ

পরিচিতিঃ হামিরউদ্দিন মিদ্যা'র জন্ম ১৪ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে,পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর এক প্রত্যন্ত গ্রামে।লেখালেখির ভূতটি মাথায় চেপেছে ২০১৬ সালে।সেই থেকেই বিভিন্ন নামী-অনামী পত্রপত্রিকায় নিয়মিত গল্প লিখে যাচ্ছেন।২০১৮ সালে লেখালেখির জন্য পেয়েছেন 'প্রতিশ্রুতিমান গল্পকার সম্মান'।২০১৯ সালে কলকাতা বইমেলায় সৃষ্টিসুখ প্রকাশনা থেকে ১২টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম গল্পগ্রন্থ 'আজরাইলের ডাক'
Email :  [email protected]