অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
সুপ্রভাত - স্বরূপ ভট্টাচার্য

১.
শীতের রাতে, আমার সাথে ঘুমের গোলযোগ
মুখের পরে মুখ দেখেছি, তাই মুদেনি চোখ
তোমরা যখন ঘুমের ভেলায় ভাসছ স্বপ্ন দেখে
আমার মাথার কষ্ট গুলো সহ্য করতে শেখে
তোমার জন্য সুখ বানিয়ে কাটিয়ে দিলাম রাত
ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো, ‘সুপ্রভাত’...

২.
ঘুম আসেনা চোখে আমার, পার করে দিই রাত
সকাল থেকে সন্ধ্যা, আবার রাতের পরে রাত
ঘুম গিয়েছে ঘুমের দেশে, দিনের আলো পড়লো এসে
চোখ দুটিতে আলোর যাদু ছুঁলো অকস্মাৎ
ঘুমে আমার মন বসেনা, পথ চেনেনা রাত
তোমরা যারা ঘুমিয়ে থাকো, ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন আঁকো
তারা আমার হাতের মাঝে রেখো আলোর হাত
ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো -‘সুপ্রভাত’...

.
ঘুমের দেখা পায় না দু’চোখ আঁধার রাঙা রাতে
বন্ধু আমার আলো কেবল, থাকি আলোর সাথে
রাত পোহালে আসবে আলো, আমরা সবাই জানি
ঘুমের দেশে যাইনা আমি, আলোতে হার মানি।
আলো আমার হাতের মুটোয়, রাত নিয়েছে কেড়ে
রাতকে আমার ভয় লাগে তাই ঘুম দিয়েছি ছেড়ে
ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে তোমরা যারা মরো
আমার কাছে আলো আছে, আমার হাতটা ধরো।
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন আঁকি, থাকি আলোর সাথে
আলোয় ভরা এই পৃথিবী দেবো তোমার হাতে
তোমরা যারা ঘুমের দেশে, গুম করেছো রাত
ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো-‘সুপ্রভাত’

৪.
শীতের রাতে ঘুমকে দিলাম ছুটি
আমার ঘরে আলোয় লুটোপুটি
তোমার জন্য অন্যলোকে ছুটি..
ঘুমের মতো ঘুমকে দিলেম টুটি
আসবে সেদিন, যেদিন আলোর খোঁজে
তোমার চোখও আসবেনা আর বুঁজে
অন্ধকারেও আলোর দেখা হবে
আসবে সেদিন তোমার কাছে কবে!
ঘুমিয়ে থাকা ঘুমের অন্ধকারে
ডাকবে আলো তোমায় বারে বারে
সেদিন ঘুমে ডাকবেনা আর ঘুমিয়ে যাওয়া রাত
আলোয় ভরা, আলোর হাত ছানিতে
ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো- ‘সুপ্রভাত’.. 

৫.
ভেবেছিলাম ঘুমের বাড়ি যাব
ঘুমের ভেতর স্বপ্ন খুঁজে পাব
কিন্তু ঘুমে হলোনা আর যাওয়া
তাইতো করি আলোর পানে ধাওয়া
আলো আমায় ভরিয়ে দিলো গানে
গানের সুরটি ছড়িয়ে গেলো প্রানে
প্রানে কেবল ঘুমের অভিমানে
আলোর ধারা মিলিয়ে গেলো গানে
হয়তো তারে যায়না কেবল বোঝা
ঘুমের নেশায় আলোর পরশ খোঁজা
আলোর পথে রক্ত রাঙা চোখে
রাজপথে আর চলন্ত ফেইসবুকে
ঘুমের দেশেও আলোর জন্যে ঘোরা
রাতের পাখির শহর জুড়ে ওড়া
রাতের মাঝেও আলোয় ভরা রাত
ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো- ‘সুপ্রভাত’..

৬.
অনেক দিনের আগে, রাতকে আমি পর করেছি আলোর অনুরাগে
ঘুমের নেশায় ঘুম কেটেছে, আশার ভাষায় রাত জেগেছে
ছোট কালের আলোর খেলায়, ভাসিয়ে দিতাম স্বপ্ন ভেলায়
সেই সকালে ঘুমিয়ে যেতাম, সুর্য ওঠার আগে।
শীতের রাতে খেজুর রসের পিঠা, যখন সবার লাগতো বড় মিঠা
তখন রাতে গানের আসর থেকে, বলতো আলো আমায় ডেকে ডেকে
আয়রে তোরা আমার কাছে আয়, একই সুরে আমরাও গান গাই
সেই গানেরই সুরের পখটি দেখে, বিছানাতে ঘুমকে ঘুমে রেখে
হারিয়ে যেতাম আলোর পাখি হয়ে, আলোর ঘুঙুর বেঁধে ছিলাম পা’য়
নন্দু দিদির বানানো সেই পিঠা, লাগতো আমার ঘুমের চেয়েও মিঠা।
সেকাল গেছে অনেক কালের আগে, সন্ধ্যা তারা সকাল হয়ে জাগে
বন্ধু নামের সেই মানুষের ভাগে, ঘুমকে দিতাম ঘুমন্ত সেই রাগে
তারও পরে ঘরের বাইরে যাওয়া, লাগতোনা আর রাতের কালো হাওয়া
সেদিন থেকে রঙের ঘোরে রাতের ঘুমে হলোনা আর যাওয়া।
এখন অনেক বাধায় পড়ে আছি, ঘুমের বদল খুঁজি কেবল থালায় ভরা ভাত
ওরা এখন আমার আলো, আলোর দলে ডেকে নিয়ে ধরলো আমার হাত
তাইতো আমি শীতের রাতের ঘুমকে দিলাম বাদ
তোমরা যারা ঘুমিয়ে আছো, ঘুম ভাঙলে বন্ধুটাকে বলো,-‘সুপ্রভাত..’

স্বরূপ ভট্টাচার্য । চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ