অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
বন্ধুর জন্যে কাঁদে - আবদুল হাসিব

জো বন্ধুর জন্য একটি দেশ কাঁদে, 
একটি পতাকা কাঁদে, 
কাঁদে নদীজল বায়ূ-মেঘ গুল্ম-লতা ফল,
আর কাঁদে নিপীড়িত মানুষের দল।

প্রজন্মরা প্রশ্ন রাখে-
হৃদয়ের এত কাছের বন্ধু যে ছিল
কোথায়, কেমন করে কখন হারালে তারে?
কোনো শক্তি কি আর উত্তরটাকে গোপন রাখতে পারে!

উনিশ’শ পচাত্তর’ এর 
পনরই আগষ্ট! কলঙ্কময়ী রাতের শেষ প্রহর।
মানব ইতিহাসের জগন্যতম রক্ত পিপাষু
চেঙ্গিস হলাকু খাঁন রাওফরমান আলী
নিয়াজী আর টিক্কা খাঁনের উত্তর সূরীরা-
মোয়াজ্জিনের কন্ঠে নিঃসৃত আযান নিঃশেষ হওয়ার আগে
পশ্চিমের অস্তচাঁদ ডুবে যাবারও আগে
পূর্বাশায় রবি রঙ মাখারও আগে
অরণ্যের পাখি কন্ঠে গান ধরারও আগে
বন্ধুর বাড়ির বকুলরা দল মেলারও আগে
পায়রা গুলো ভোরের হাওয়ায় ডানা মেলারও আগে
বাঙ্গালীর স্বপ্ন ,চিন্তা-চেতনাকে,  
গণ-মানুষের ভালবাসার প্রদীপ্ত শিখাটিকে,
স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালিকে,
নির্মল ইতিহাসের বিমল বন্ধুকে
হিরোসীমাসম সপরিবারে নিশ্চিন্ন করে দিল 
ঐ উত্তর সূরীরা! ঐ আলবদর রাজাকাররা!

অতঃপর, এখনো আশ্চর্য
সূর্যের মত নক্ষত্র পুঞ্জের মত পূর্ণ চন্দ্রের মত
লক্ষ কোটি মানুষের চোখের তারারন্দ্রে আজও 
আপুষহীন উর্ধ্বমুখী তর্জনী আর
ভরাট কন্ঠে বজ্রনিনাদ অনিরুদ্ধ বাণী, -
“এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
আজও বাংলার আকাশে-বাতাসে
জীবন্ত উচ্চারিত এবং সমোজ্জ্বল উদ্ভাসিত।

আজও বন্ধুর জন্যে একটি দেশ কাঁদে
একটি পতাকা কাঁদে, 
লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ কাঁদে
কাঁদবে অনন্ত কাল,
যতকাল থাকবে শরীরে আমাদের 
বাঙ্গালীর রক্ত বহমান।

আবদুল হাসিব 
কবি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার
মন্ট্রিয়ল, কানাডা