অটোয়া, বুধবার ১৯ জুন, ২০২৪
‘আমার মুক্তিযুদ্ধ' গ্রন্থ পাঠে পাঠকের মন মুক্তির আদর্শে শানিত হবে — পাঠক উৎসবের আলোচনা সভায় বক্তারা

এম. খছরু চৌধুরী, মৌলভীবাজারঃ- কয়েক দিনের তীব্র তাপ দাহ! তারওপর মুক্তিযুদ্ধাদের অনুরোধে পাঠক উৎসবের ভ্যানু জেলা মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে। যেখানে এসি নেই, ফেন আছে কিন্তু বিদ্যুৎ কতক্ষণ থাকে? জেনারেটরও ফিট করার মতো টেকনিক্যাল সুবিধা মিলছে না — তীব্র গরম উপেক্ষা করে আমন্ত্রিত পাঠকেরা আসতে পারছেন কি না — এরকম নানাবিধ শংকা কাজ করেছিল আয়োজকদের মনে। সবকিছু তুচ্ছ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমন্ত্রিত গুণীজনেরা এসে গেলেন। শুরু হলো 'আমার মুক্তিযুদ্ধ' গ্রন্থ'র পাঠক উৎসব এর কার্যক্রম। 


প্রথমেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে রাজনগর সংগীত একাডেমি। তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার, নিউক্লিয়াস এর প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান দাদা ভাই'র মৃত্যুর খবর শুনে দাদা ভাই'র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। গ্রন্থের সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মহসীন বখত এর স্বাগতিক বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় 'আমার মুক্তিযুদ্ধ' নিয়ে পাঠক-গুণীজনের আলোচনা সভা। খছরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা অংশগ্রহণ করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. উর্মি বিনতে সালাম, প্রধান আলোচক অতিথি অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, বিশেষ আলোচক অতিথি অধ্যাপক ড. নাঈমা খানম, অধ্যাপক ড. সেলু বাছিত, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহমুদুর রহমান, প্রবীন রাজনীতিবিদ অপূর্ব কান্তি ধর, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন, জননেতা মিলন বখত, জেলা আইনজীবী সমিতি ও লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রমা কান্ত দাশ গুপ্ত, রাজনগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু, ডাঃ বিনেন্দু ভৌমিক, আহমদ সিরাজ, অবঃ অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সজল চক্রবর্তী, কবি সৌমিত্র দেব, মনু থিয়েটারের আ স ম ছালেহ সুহেল, রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ। এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ছড়াকার আব্দুল হামিদ মাহবুব, ডাঃ অঞ্জন ভৌমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম, রাজনগর সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ রজত গোস্বামী, মৌলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ, পংকজ দেব, জেলা মহিলা যুব লীগ এর সভাপতি পারভীন আক্তার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কৃষ্ঞা দেবী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আনোয়ার হোসেন দুলাল, রাজনগর উপজেলা জাসদ সম্পাদক মোস্তাক চৌধুরী, জেলা জাসদ নেতা হোসেন আহমদ রাজা, রাজনগর পুঁজা উদযাপন পরিষদ এর সভাপতি কবি অসিত দেব, সম্পাদক শ্রীপদ বৈদ্য, লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের আবুল কালাম আজাদ, কান্দর্প বিজয় চৌধুরী, বিপ্লব ধর, নুরুল ইসলাম ফয়ছল, শিক্ষক সুমন দেব, শিক্ষক বিজয় দেব, শনন এর বিজিত দেব, কবি জাবেদ ভূঁইয়া সহ শিক্ষক সাংবাদিক বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সম্মানিত পাঠকবৃন্দ। 

পাঠক উৎসবের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন—  আমার মুক্তিযুদ্ধ' গ্রন্থ পাঠে পাঠকের মন মুক্তির আদর্শে শানিত হবে; ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও প্রকৃত ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থ খানিতে, মুক্তিযুদ্ধ ও মহান স্বাধীনতা নিয়ে একজন মুক্তিযুদ্ধার আকাংখা এবং মুক্তির আদর্শ যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এটি ই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। যা থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে বাংলাদেশ। একজন জীবিত মুক্তিযুদ্ধা 'আব্দুল হান্নান'কে ভুল ক্রমে মৃত/শহীদ মুক্তিযুদ্ধার তালিকাভূক্ত করা হয়েছে — স্বাধীনতার এতবছর প'রে এসেও এটা যখন সংশোধন হয়না, তখন বুঝতে হয়লবে কত জঘন্য অবস্থায় আছি আমরা? কত নীচে নেমে গেছে আমাদের মানসিকতা? লেখকের আক্ষেপ কত যে সঠিক! এর থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শাহেদ বখত ময়নু'র 'আমার মুক্তিযুদ্ধ' গ্রন্থখানি আমাদেরকে সেই পথই দেখিয়ে দেয়, আমাদের চেতনা আরেকবার শানিত করে দেয়, বিবেক জাগ্রত করে দেয়। নানা সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও বলা, এ গ্রন্থখানি হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অনবদ্য দলিল। বইখানি নতুন প্রজন্মের পাঠকেরা বেশি করে পড়ুক — এই আমাদের প্রত্যাশা। 

(সংবাদ এবং ছবির জন্য আমরা এম. খছরু চৌধুরী, গুলজাহান রুমি এবং অন্যান্য আলোকচিত্র শিল্পীদের কাছে কৃতজ্ঞ।)