অটোয়া, সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯
যৌক্তিক আন্দোলন ছিনতাই, হুজুগে গজব - নয়ন চক্রবর্ত্তী

চাপাতি নিয়ে ছাত্র আন্দোলন হয় কিনা জানি না, পেছনের দরজা দিয়ে ছাত্র আন্দোলন হয় কিনা তাও জানি না, শুধু জানি অশ্লীল প্ল্যাকার্ড দিয়ে কোনদিন জনসমর্থিত আন্দোলন হয়নি, হুম বলছিলাম সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন নিয়ে অবাক করা ঘটনা নিয়ে। প্রথম দুদিন আন্দোলনের গতিপথ সরকারকে তার সিস্টেমের গলদ সম্বন্ধে বুঝিয়ে দিছে, সরকারও ভুল গুলো ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে বলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে সকল দাবী গুলোর বাস্তবায়নের জন্য স্ব স্ব দপ্তর গুলোকে নির্দেশ দিয়ে নিজে তদারকি করেছে। নৌ মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে,  ছাত্রদের গায়ে যেন পুলিশ প্রশাসন হাত না তুলে তার জন্য কঠোর হুশিয়ারি দিছে। পুরো দেশটার আইন প্রয়োগের অবস্থা যে এত খারাপ হয়েছে তা ভালো ভাবে বুঝছে প্রশাসন।  আন্দোলনটা প্রথমে যেভাবে চলেছে তা জনগনের সমর্থন ছিল কিন্তু আন্দোলনটা দীর্ঘমেয়াদী করে তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হলো। জনগন স্কুল ইউনিফর্ম দেখলে গালি দিচ্ছে! কেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে স্কুল ড্রেস বিক্রির হিড়িক বেড়েছে???? এসবের জবাব দিতে পারবে না, জামাতিরা যে নাশকতার জন্য উসকানি দিছে ছাত্রদের তাতো এখন প্রকাশ্য। শিবিরের বাঁশেরকেল্লার পোস্ট গুলো তাই বহন করে। আমীর খসরুর অডিও ফাঁস হয়েছে কি বলেছে তা পুরো দেশ শুনছে, অভিনেত্রীর অভিনয় ফেবু লাইভে গুজব আর মুখে ওড়না দেয়া মহিলা আর কিছু লোকের মিসরীয় গুজরাটের ছবি পোস্টের জয়জয়কার,  যা পূর্ব পরিকল্পনার গুরুত্ববহন করে।  এই গুজবে কি সরকার পতনে নেমেছিল সেই পক্ষটি???? তারা ভেবেছিল স্কুল কলেজের ছাত্রদের কাঁধে বন্দুক রেখে গুলি করবে। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল। শ্রমিক মালিক মিলে যে গণপরিবহন সহ পন্যপরিবহন বন্ধ রাখছে তার দায়টা কার, এসবের উত্তর কিন্তু কেউ দিবে না। সুশীলরা কি রাস্তায় নেমে এসবের সমাধান করেছে! কিচ্ছু করেনি তাল দিয়েছে শুধু। সকল কিছু আলোচনার পরও কারা রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করছে এসব বের করা দরকার। রাস্তায় নেমে প্রতিদিন যদি সংস্কার করতে হয় তাহলে আইন নিজের কাঁধেই উঠবে,কারণ বুকে হাত দিয়ে সন্তানদের এই আন্দোলনে নিজেদের ঘুষখোরী চরিত্র ঢাকা যায় না। ছাত্র পুলিশ সাংবাদিক সম্পর্ক নষ্ট করে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশটাকে ২০১৩-২০১৪ সালের মতো ভয়াবহতা সৃষ্টির পায়ঁতারা করেছিল। যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথ তো কেঁপেছে কিন্তু রাজপথে সংগ্রামের ইতিহাস নষ্ট করাটা ও একটা ফন্দি।বারবার একেকটি আন্দোলে গুজব সৃষ্টিকারীরাই আসল চক্রান্তকারী!  হঠাৎ গভীররাতে রগকাটা গুজব,জিগাতলায় লাশ, ধর্ষণের গুজব এসব তো শাপলা চত্বরের  হেফাজতি থিয়োরী।
ম্যাসেঞ্জারে পারসনালি গুজবের মেসেজ যারা দেয় তাদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। 

পিতামাতারা গুজবকে যদি সত্য বলে চালাতে থাকেন তাহলে সন্তানও আপনার মতো মিথ্যাবাদী হয়ে গুজবে গজবে পড়বে। রাজনৈতিক দূরদর্শীতা সবার না থাকলে ও জনসমর্থিত দূরদর্শীতা থাকা প্রয়োজন,  না হয় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ তৈরীর কারখানা না হয়ে রোবট তৈরীর কারখানা হয়ে যাবে।

নারীদের সবসময় যদি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে প্রগতিশীল রাজনীতি ও নষ্ট হবে। যারা ভিডিও এডিটিং জানে এবং যারা সামান্যতম মোবাইল ক্যামেরাও চালাতে জানে তারাও ওয়াকিবহাল যে,  কিভাবে একটি একটি ক্লিক জোড়া লাগিয়ে ফুটেজ বানায়,গাজীপুর  বর জিগাতলা যে এক নয় তা অনেকে এসব ভিডিওতে দেখে বুঝতে পেরেছেন। যে কোন আন্দোলনে পক্ষগুলো দৃশ্যমান, যখন তৃতীয়পক্ষ চলে আসে তখন তারতম্য বুঝা যায়। সাধু সাবধান। নতুনের জয়গান সর্বদা সাদা,কিন্তু সামান্য কলঙ্ক সবকিছুই কালো হয়ে সর্বনাশ হয়।আজ ছাত্র সম্বন্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া চারদিকে,সাংবাদিকদের উপর হামলা, সব কিছুর ইস্যু একটা। গুজব,গজব,  আর হাসি সবকিছু সব জায়গায় মানায় না।

নয়ন চক্রবর্ত্তী
ভিডিও জার্নালিস্ট
এটিএন নিউজ, 
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।