অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
পৃথিবীর যত অভিমান - সালেহ মওসুফ

মি পৃথিবী বলছি করুণ স্বরে
কান পেতে শোন সুসভ্য মানবজাতি
আজ আমি ভীষণ অসুস্থ
বলতে পারো মুমূর্ষু
আমার দেহ আজ ক্ষত বিক্ষত।
কোটি কোটি বছর ধরে কত পশুপাখি
প্রাণী, বৃক্ষলতা গড়েছে বসতবাড়ি
ভালোবেসে আমার কোলে সযতনে
সবাইকে দিয়েছি ঠাঁই।
ইতিহাস খুলে দেখো জুরাসিক যুগে
আমার জমিনে বাস ছিলো ডাইনোসরের
দাপিয়ে বেড়াতো ওরা বীর বিক্রমে, অথচ
দেখো আজ কোথাও নেই তাদের পদচিহ্ন!!
কত সুন্দর আমার এই অপরূপ প্রকৃতি
সুনীল আকাশ, নক্ষত্রের রাত, চাঁদতারা
পাহাড়ের নির্জনতা, নৈসর্গিক ঝর্ণা
নীলকান্তের রাগিণীর লহরি।
পাপড়ি মেলে মিটিয়ে যায় মনের ক্ষুধা
গোলাপ, বকুল ,বেলী,, অর হাসনা হেনা
বাহারি ফল ধরে গাছে তোমাদের জন্য
রবির তাপ দেহে মেখে
বিশুদ্ধ বায়ে নিয়ে নিঃশ্বাস
এই জমিনে টিকে থাকার পেয়েছিলে আশ্বাস।
আরো কত প্রাণীকুল তোমাদের পাশাপাশি
ছিলো যাদের বসবাস , অনেকেই হয়েছে সাফ
তোমাদের নিষ্ঠুরতায় হে আদমের সন্তান
হোমোসেপিয়ানস কখনো কি ভেবে দেখেছো?
আজ যদি বলি কি দেবে জবাব হে
বুদ্ধিদীপ্ত মানব জাতি?
কেন কেটেছো আমার বুকে দাড়িয়ে থাকা
সুনদর পাহাড়গুলো? কখনো কি শুননি
ওদের বুকের কান্না?
যে বৃক্ষ তোমাদের দেয় ছায়া আর
বেঁচে থাকার রসদ অক্সিজেন
এত নির্দয় হয়ে করেছো নিধন তাদেরে নির্বিচারে।
কার্বন ধোয়া আসমানে ছড়িয়ে
টনে টনে বিষাক্ত রাসায়নিক ঢেলে
আমার মাটিতে, ভরা নদীর জলে
আমার ফুসফুসে ধরিয়েছো পচন
আর শিখিয়েছো সর্বহারাদেরে শিল্পের বচন।
তবুও হওনি শান্ত হওনি ক্ষান্ত
আমার দেহে জ্বালিয়ে দিলে দোজখের আগুন
ভেঙ্গে দিয়ে ওজোনের স্তর
আমায় করে দিলে অশান্ত।
পারমাণবিক বোমায় করেছো ধ্বংস
হিরোশিমা নাগাশাকি ,আরো কত নগরী
ধর্মের নামে নিজেরাই করেছো খুনখারাবি
তোমারাই আবার আশরাফুল মাখলুকাত?
জেনে রেখো আমি শুধু তোমাদের নয়
আমি কাঠবিড়ালীর, ডলফিনের, হরিণের
প্রকৃতি প্রেমিক দার্শনিকের, বিজ্ঞানীদের
কবিদের, খেটে খাওয়া শ্রমিকের
ভালোবাসা আর প্রেমে ভরা সুরের পাখীদের।
অনুজীব করোনা তোমাদেরই অনাসৃষ্টি
তোমরা আজ ঘরে বন্দি
আর আমি কাঁদি ক্যানসারের তীব্র ব্যথায়।
আমি সুস্থ থাকলে তোমরা থাকবে ভালো
এই কথাটি বুঝিতে যদি পারো
তবেই বর্ষিত হবে সৃষ্টিতে আনন্দের বৃষ্টি।

সালেহ মওসুফ। যুক্তরাজ্য