অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দ্বীপ সরকার এর একগুচ্ছ কবিতা

গোখরা
তখনও জীবিত ছিলাম-
যতক্ষণ লেজটা কিঞ্চিত অবশিষ্ট ছিলো,
আমি এই রকমই একটি প্রগতিশীল সাপ।

আমি খুব সাদাসিধে- ভীষণ পরিপাটি,
জড়তা ভাঙ্গা স্বভাবে হাঁটি,
ঈশ্বর ছায়া ভুলে আমার পথে আসে।
আমিও ক্রমশঃ এঁকেবেঁকে সামাজিক হই।

জিজ্ঞাসা
ঝোপ ঝার থেকে বেরিয়ে পড়তেই অজগড়টি মারা গেলো
জানা গেলোনা তার বংশবৃদ্ধির ট্রাডিশনাল কোনো কিছু।

কতিপয় আত্মার ভেতর থেকে লাফিয়ে পড়লো বিড়াল- একেবারে সমুখে
দুধ দেখে ইতস্তত ঝোঁক সেদিকেই 
অথচ বিড়ালটিকেও চেনা হলোনা 
এভাবে অনেক কিছুই জানিনা-  চিনিনা,
কে কাকে? কাকে কে?  শুধু বিড়ম্বনার দিকেই ছুটছি,
শুধু প্রশ্নের দিকেই ধাবিত হচ্ছি

সহস্র জিজ্ঞাসার জিঞ্জির ছিঁড়ে কিছু উত্তর আসেঃ
মৃত্যুর দিকে যেতে যেতে বুড়ো হবো একদিন।

আজরাইল
কুস্তি খেলতে খেলতে মারা গেলে
মনে হবে গুতা খেয়ে মারা গেছি
কিন্তু ঘুমের ভেতর মারা গেলে
মনে হবে আজরাইল বেটার এই কাম।

ইদানিং রাত আর মানুষ
ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে একটা উটকো রাত আর আমি শুয়ে আছি
রাতটা আমাকে ঝাপটে ধরে আছে
আমিও অন্ধকারাচ্ছন্নতাকে চেটে খাচ্ছি জিবের কিনারে রেখে 
মেঝের ভেতর ভেজা ভেজা তন্দ্রাচ্ছন্ন মাটি
আমি ক্রমাগত গহীনের ভেতর ঢুকে যাচ্ছি

সারাংশের তলানীতে পড়ে কাতরাচ্ছি
মৃতদেহের মতো নরম -  মহাকালের সমান 
অথচ কেউ কেউ ভেবেছিলো আমি জীবিত-

আমি আর স্যাঁতসেঁতে রাত
কতোবার একাকার হয়েছি, সঙ্গম করেছি,
ন্যাকামি করেছি আঁধারের কিনারে চুমু রেখে 

ইদানিং রাত আর মানুষ -  মানুষ হয়ে ওঠার প্রত্যয়ে 
জোসনা পেলে -  জোসনায় গোসল করে ।

গয়নাকুড়ি, গোহাইল
শাজাহানপুর,বগুড়া