অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
প্রান্তিক আলোয় – ফরিদ তালুকদার

যারা চলে গেলো তারা কি নিষ্ঠুর খুব..?
প্রিয় মুখ গুলো একে একে  যারা…
টিএসসির আড্ডায় রুদ্রদা, পাশে বসা শিমুল,  এক বিকেলের রোদ…
চলে গেলো সবাই…!
জুলফিকার পড়ে গেলো বাথরুমে হঠাৎ, উঠে দাঁড়ালো না আর…!
হ্যাপি আর মুনির,  ঘুমের মধ্যেই… 
কিছুটা ওভারডোজ…!
তাজুল, নিপু…? 
হয়তো নিতে পারে নি দূর্বিসহ জীবনের চাপ!
এমন আরও অনেকেই…

হৃদয়কে ভেঙে দিয়ে, 
ভালোবাসার যে মানুষগুলো এভাবে অসময়ে…
ওরা কি নিষ্ঠুর সবাই…?
নাকি খুব বেশী অভিমান রেখে…??
আমরা যে এখনো জীবনের খেয়ায়…
নূর মাঝির বৈঠাটা খয়ে খয়ে প্রায়…

প্রসূনের জন্যে এখন আর আমার কোন প্রার্থনা নেই 
নেই কোন প্রণব উচ্চারণ সান্ধ্য আহ্নিকে
রাতের খোলা চোখে একটুকরো কালো মেঘ
হঠাৎ ধুয়ে দিয়ে যায় স্মৃতির পলেস্তারা
কতো পথ এখনো খোঁজে পথের ঠিকানা 
কতো পথ এখনো হারিয়ে যায় পথিকের অন্বেষণে…

হাকিম ভাই এর চায়ের কেটলিতে কে এখন আগুন ধরায়...?
হাই ভাইয়ের দোকানটা এখন আর নেই ওখানে
হাই ভাই কি এখনো…?
জানি না…!
মধুর ক্যান্টিনের চেয়ার গুলোতে নিশ্চয়ই 
প্রতিদিন নূতন বিতর্ক ওঠে রাজনীতির 
দিন বদলায়…
আদর্শিক ভাবনা গুলো  খুব বেশী বেমানান এখন
ভোগবাদী বৈশ্বিক ধ্যান ধারণার পাশে…! 

রোকেয়া হলের সামনে  জারুল গাছটা,
তিন নেতার মাজারের উল্টো পাশের চম্বল,  
একাডেমির বট…
হয়তোবা বেঁচে আছে এখনো প্রৌঢ়ত্বের নিঃশ্বাসে…!

খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায় বাদামী বিকেলেরা সব…
জীর্ণতা তবু রং ঢালে  নূতন দিনের পাতায়
নিষ্ফলা মাঠে…
হোসেন আলীর গাভী এখনো চিত্র হয় “মহেশের” 
শরৎ বাবুর চিতার ভস্মগুলো হয়তো 
অনেকটা পথ পারি দিয়েছে ও জন্মের তরীতে…
অথচ আমরা  এখনো…!?

বৈরাগ্য বাসা বাঁধে দখিনের বাঁশের ঝাড়ে 
তার কঞ্চিতে এখনো বসে আনমনা দোয়েল, 
শীষ দিয়ে যায় নিঃসঙ্গ প্রহরে…
নিদাঘ দুপুরের নিঃশ্বাসে দাগ কেটে যায় সে বিরহ…!

ক্ষয়িষ্ণু বেতের ঝাড়ে এক গুচ্ছ ফুল এখনো
ঘোমটা  খুলে  ডাকলে আয় আয়…
আমি হারিয়ে যাই বিস্মৃতির এক অতল গহ্বরে…!

ফরিদ তালুকদার। টরন্টো, কানাডা 
উৎসর্গঃ যারা নেই এবং যারা আছে সব বন্ধুদের