নুরুল ইসলাম বাবুলের কিছু কবিতা
দুঃখগুলো আমারই থাকুক
কিছু মেঘ উড়ে যায়। আমার স্বপ্নগুলো উড়ে যায় সেই মেঘের সাথে। আষাঢ়-শ্রাবণ
বর্ষাকাল। অথচ আমার উঠোন ডুবে থাকে বছরের তিন ভাগের একভাগ সময় ধরে।
মেঘগুলো ঠিক মাথার উপর দিয়ে সোজা চলে যায় উত্তরে। আমি চেয়ে চেয়ে দেখি।
তোমার উঠোনে তখন তুমুল বৃষ্টি...। আমি কেবল মেঘগুলো উড়ে যেতে দেখি।
তবে তাই হোক। দুঃখগুলো আমারই থাকুক। তুমি কিনে নিয়ে যাও তুমুল আরাম।
দিন-রাত তোমার পায়ে সুখগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরুক। আমি না হয় মেঘগুলো উড়ে
যেতেই দেখব।
এসো তবে প্রার্থনা করি
কিছু প্রেম আলো হয়ে জ্বলে ওঠে
কিছু প্রেম হয়ে যায় অন্ধকার;
আলো ও অন্ধকার মিশে-মিশে কিছু প্রেম
এক আকাশ মেঘ হয়ে ঢেকে দেয়
সূর্যের কিরণ...
অন্ধকার কাম্য নয় কখনোই
এসো তবে প্রার্থনা করি-
পৃথিবীর সব আলো আমাদের হোক।
তোমার জন্য প্রার্থনা
আকাশের তাবৎ মেঘ জমে আছে তোমার চুলে
আমি হেঁটে এসে ক্লান্ত পথিক দাঁড়াতে চেয়েছি
তোমার মেঘের ছায়ায়...
দিনে দিনে বড় হওয়া দুঃখগুলো
আমারই সাথে পায়ে পায়ে
চলে এসেছে তোমার ঘরের দরজায়...
অথচ তুমি এক আকাশ মেঘ উড়াতে উড়াতে
হাওয়ায় মিলিয়ে গেছো
আর আমি চাতক পাখির মতো
বৃষ্টি অথবা তোমার জন্য প্রার্থনা করছি।
কিছুই চিনি না আমি
দূরের আকাশ দূরে থাক
সন্মুখের আলো-ছায়া-রোদ-বৃষ্টি
লতাপাতা ঘাসফুল
কিছুই চিনি না আমি,
তোমার দুচোখে কখন জেগে ওঠে বিশ্বাস
অথবা কখন গড়ে তোল অবিশ্বাসের দেয়াল,
কখন তোমার মুখের হাসিতে থাকে পরম প্রশ্রয়
অথবা কখন অবজ্ঞার ছাপ
কিছুই চিনি না আমি..
তোমার চোখের জল
আনন্দ না বেদনার
কিছুই চিনি না আমি, কিছুই চিনি না।
অংশীদার
হঠাৎ চিনে ফেললে কবির দুঃখ
ফালাফালা হয়ে যায় আলো-ছায়া রোদ-বৃষ্টি
ছুটোছুটি করে পালিয়ে যায় কিছু আয়ু
কবির দুঃস্বপ্নের মতোই...
তবু পৃথিবীর অরণ্যে আমরা
কবির দুঃখ চিনি আর ভাগাভাগি করি।
নুরুল ইসলাম বাবুল। পাবনা, বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
22-05-2020
-
-