অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
রামধনু - তপনকান্তি মুখার্জি

তিনমাস সে ঠায় বসে ঘরে,কাজ নেই,
নেই জমানো পুঁজিও,আছে শুধু খিদে -
নিজের খিদে,বউয়ের খিদে, কচি ছেলেটার 
খিদে। দিনরাত শুধু খুটুর খুটুর। জিজ্ঞেস 
করলেই বলে, ‘খিদে দিয়ে একটা বাড়ি গড়ছি,
শেষ হলেই খিদে মিটে যাবে।‘
সেদিন সকালেই ছেলেটার খিদে মিটল
শ্মশান থেকে ফিরে পোড়া মুখ রক্তাক্ত করতে
সে মাটিতে মুখ ঘষল। রক্ত বেরল না।দুদিন 
পর বউয়ের খিদেও মিটল। এবার সে কাঁটা গাছের 
গায়ে মুখ ঘষল, রক্ত ঝরল না।
গত বুধবার প্রচন্ড মেঘ, মুহুর্মুহু বজ্রবিদ্যুৎ 
আর বৃষ্টি। ঝড়ের চাবুকে আর্তনাদ করছিল 
চরাচর। দুহাত দিয়ে সে বৃষ্টি ধরছিল, তারপর 
লুকানো সূর্যটাকে ধরতে সে আকাশের দিকে 
প্রচন্ড গতিতে লাফ দিল।শুনেছিল বৃষ্টি আর 
সূর্যকে একসাথে মেলাতে পারলে জীবনে 
রামধনু ওঠে। মাটিতে পড়ে এবার রক্ত বের 
হয়েছিল নাকমুখ দিয়ে।রামধনু নেমেছিল 
কি না কে জানে, মৃতদেহতো কোনো উত্তর দেয় না।

তপনকান্তি মুখার্জি। হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ