অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
করোনার থাবা - ঝন্টু চন্দ্র ওঝা

দুর্যোগ এসেছে নেমে ঘরে-ঘরে 
মহা বিপর্যয় চলছে বিশ্বময়
করোনার ভয়ে সন্ত্রস্ত মানুষ
সর্বত্র কম্পমান।

চিকিৎসক মহলে চলছে 
বিরামহীন কৃচ্ছ্রতপ
রোগীর জীবন বাঁচাতে চলছে 
প্রাণপণ সংগ্রাম।

কিন্তু করোনা মানে না কানুন
মানে না বাধা 
চেনে না আপন-পর,
প্রতি ক্ষণে শুধু কেড়ে নিতে জানে
অগণিত মানুষের প্রাণ।

হাহাকার আর করুণ বিলাপ 
চৌদিকে গর্জমান;
শুধু শ্রুতিতে আসে
কোভিড- নাইনটিন, স্যানিটাইজার,
লকডাউন ইত্যাদি কিছু অপ্রত্যাশিত নাম।

ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের লেলিহান নিনাদে
কাঁপিছে ত্রাসে সমগ্র মেদিনী,
গৃহমধ্যে অবরুদ্ধ জীবন
বছরব্যাপী কার ভালো লাগে?

অন্তরীণ কুটিরে অপচায়িত হয় 
বহু মূল্যবান সময়
আত্মম্ভরিতার গর্বেপ্সু মনোবৃত্তি নিয়ে
অদেখা করোনা ছোবল মারে 
মানব শরীরে,
টানা হ্যাচড়া করে নিয়ে যায় 
এক নিমিষে, মৃত্যুর দ্বারে;
তার আগে ঠাঁই হয় কোয়ারেন্টাইনে 
দীর্ঘ দিন একা এক ঘরে।

লকডাউন হয়ে যায় অলি গলি সব
ব্যস্ত রাস্তা পড়ে থাকে সুনসান
ঘাতিনি ভাইরাসের ছোবলে 
ঝরে যায় কত তাজা প্রাণ
ঝরা পল্লবের মতো অকালে।

ডাক্তার, মন্ত্রী, অভিনেতা, খেলোয়াড়
সবার জীবন আজ বিপন্ন, বিদলিত
কোয়ারেন্টাইনে দীর্ঘ দিন থেকে
কেউ ফেরে আপন ঘরে, আর
কেউ যোগ হয় লাশের বিস্তীর্ণ বহরে।

আজ এই মহা দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশ
দুশ্চিন্তিত মানুষ,
কবে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে পৃথিবী 
জানে না কেউ সবিশেষ।

তবুও সরকার ত্রাণের বিনিময়ে 
বাঁচাতে চায় প্রাণ
কিন্তু ত্রাণের বহর চলে যায় 
অসাধু চক্রের দুর্ভেদ্য
গোপন আস্তানায়;
অসহায় দারিদ্র ক্লিষ্ট মানুষ 
কেবলই নিরুপায়।

এভাবে যুগে যুগে
অসাধু চক্র কেড়ে নেয় 
নিরন্ন মানুষের অন্ন,
কেড়ে নেয় স্বস্তি
কেড়ে নেয় হাসি
কেড়ে নেয় ঘুম।

চক্রান্তকারীরা রাতারাতি হয়
আরও বিত্তশালী, 
কিন্তু গরীবের দল
ক্রমাগত নিঃস্ব হয়ে যায়।

অথচ সম্বলহীন দরিদ্র মানুষের
বিন্দু বিন্দু অশ্রুবারি বর্ষণ
কেউ দেখে না। 
ওদের তীব্র ক্ষুধার জ্বালা
কেউ বোঝে না। কেউ না।

ঝন্টু চন্দ্র ওঝা
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
ঢাকা, বাংলাদেশ।