অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী’র কবিতা

অভ্র কাঁদছো কেন 
ভ্র! আজি এতো করে কাঁদছো  কেন
কি হল তোমার?
কতটা বছর গত হল তোমার এমন কান্না শুনিনি,
সেই কবে কেঁদেছিলে শেষবারের মতন
আবার সেই কান্না তোমার, সেই আগের মতোই গর্জন।
এমন কী হল যে, তোমায় এমন করে কাঁদতে হবে!
কে কী বললো তোমায় বলো দেখি অভ্র!
তোমার নীল আঁচলের ছায়াতলেই
তো আমাদের বসবাস,
এ বাঁধন ছিড়ে গেলে যাবো কোথায় বলো।
বলে দিলুম! এ মায়াবী বন্ধন ছেড়ে যাবার
কোন ইচ্ছে নেই আমার।
তবুও এভাবে ইচ্ছে করে ঠেলে দিতে চাইছো কেন?
কী হল, কেনইবা আজ এত অশান্ত  হয়ে ওঠলে
কিছুতেই থামছেনা তোমার কান্না,
জানতে পারি কার জন্য কাঁদছো তুমি,
কিই বা তোমার কষ্ট!
অভ্র আমাদের নিয়েই তো তোমার বসবাস।
আমরাই তোমার সুখে-দুঃখের সাথী,
তবে আজ এতটা অভিমানী কেন তুমি!
আমি আর পারছিনা তোমায় নিয়ে,
এদিকে তোমার হাকডাক আর ঘনঘন গর্জনে
সবাই ভীতসন্ত্রন্ত হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।
তোমার কান্নায় ভেসে আসা থই থই জলের শব্দে
রাতে ঘুমন্ত শিশুরাও আঁতকে উঠছে।
আমি আর কত শান্তনা দিতে পারি বল!
তুমি কাঁদো চেরাপুঞ্জির পাদদেশে
ওই নির্জন কালো পাহাড়ে বসে
সেই কান্নার জল গড়িয়ে এসে পড়ে সমতলে
তখন  সবাই কাঁদে, আমিও কাঁদি নীরবে।
এমনিতেই মহামারী করোনায় ক্লান্তশ্রান্ত এপারের মানুষ
কত দিন হলো ঘরবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটছে।
এ যেন মহা দুঃসহ জীবন যাত্রা, বড়ো কষ্টে যাচ্ছে দিন
প্রতিনিয়ত প্রাণহানি, লঞ্চডুবিতে হচ্ছে সলিল সমাধি।
তার মধ্যে তোমার কান্নায় জলবন্দি এখন মানুষ
আহা! কী যেন এক নাকাল অবস্থা!
মানুষের অসহ্য দুঃখ কষ্টে
ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছি আমি নিজেই।
আর পারছিনে, কান্না এবার থামাও তোমার,
বাঁচতে দাও এ জনপদের  মানুষদের।
জানো তো! তুমি হাসলে আমি হাসি,
হাসে সবাই মিলে,
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি হাজার দিন-রাতের।

দুর্যোগ_দূর্ভোগে_মানুষ
ঠাৎ যেন অশান্ত হয়ে ওঠেছে পৃথিবী
মহামারী, দুর্যোগ, দূর্ভোগ
কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা।
করোনায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি, 
ভয়াবহ বন্যায় থমকে গেছে
আমার দেশের সবকিছুই।
ক্রান্তিলগ্নে ক্লান্তিহীন ছুটে চলা মানুষগুলো
হয়েছে আজ ঘরবন্দি,
কর্মহীনরা ক্ষুধার তাড়নায়
নীরবে কতইনা অশ্রু ঝড়াতে দেখেছি।
হায় কী নিদারুণ কষ্ঠ মানুষের!
চারিদিকে ঘরবন্দি-জলবন্দীদের
আর্তনাদ-আহাজারি,
কানপেতে শুনেছি অনেকের উনুনে বসেনি হাড়ি।
এ যেন দুঃসহ এক কঠিন অবস্থা
ভালো নেই শহর, গঞ্জ গ্রামবাসী।
এক মুঠো ভাতের জন্য কত জনে
কত দিকবেদিক ছুটোছুটি করেছে,
মহামারীতে মরতে চায়!
তবুও দেবেনা কেউ ক্ষুধার রাজ্যে পাড়ি।
তবে কী দুরীভূত হবে, এই ক্রান্তিকাল!
কবে শান্ত হবে পৃথিবী
বলো হে ধরাধমের মালিক।

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী। সুনামগঞ্জ