অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
শেষ চিঠি - জাহিদ হাসান

     প্রিয়তমা
     বৃষ্টির পানিতে অকাল ঝরা  শিমুল ফুলের শুভেচ্ছা নিও, নিও বিনাশ ক্ষণে চাপাপড়া পাপড়ির উষ্ণ শ্বাসের স্পর্শ। তোমার চোখে দেখা আমার অস্তিত্বের বিকল্প ছোঁয়া তোমায় অবাক করেনি তো? গোলাপ দেইনি বলে তোমার অতিথির মতো। না না সেতো ডায়েরির ভাঁজে আজ শ্বাসরুদ্ধ। তুমিতো দেখনি তার সজিবতা, উপলব্ধিতে আসেনি তার সুবাস, তোমার গতিতে বাতাস হারিয়ে ফেলে তার আলিঙ্গন, মিশ্রিত সুবাস হারিয়ে ফেলে ঠিকানা।
     তোমার পরিচয় সময়ের মতোই চলমান, আমার স্থির প্রেম তাই আজ শ্বাসকষ্টের রোগী।
     প্রিয়তমা,
     তুমি জানোনা, উত্তপ্ত ইস্ত্রির নিচে চাপাপড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বিলীন হওয়া বিন্দু বিন্দু জলকণাগুলোর হৃদপিণ্ড আর স্বপ্ন বিনাশের যন্ত্রণা। জানোনা ডায়েরির ভাজে স্মৃতি বাহক পাপড়ির ধ্বংস আভাসে একাকিত্বের অনুভূতি। তুমি জানোনা স্রোতের বেগে জমাট মাটির বুক বিদীর্ণ হয়ে গহীনে বিলীনের সেকি নিদারুণ ব্যথা, বোঝো না ঝরা পালকের একাকিত্ব। 
     প্রিয়তমা, 
     পিপিলিকার আত্মীয়তা, পানির রূপসজ্জা আর প্রতি স্টেশনে থামা ট্রেনের অনুভূতি খুব প্রিয় বুঝি?
     কতো চলমান তোমার চাওয়া! 
     ওহ ভুলেই গিয়েছিলাম, কেমন আছো তুমি?
     না দেখার কত্তো দিন হয়ে গেলো, স্বরটাও অনেকটা পরিচয়হীন, হাসিটাও কেমন জানি বেঁকে যাওয়া পাপড়িতে আর দেখতে পাইনা, আঁকতে গেলেও প্রান্তহীন বহুছেদে গাথা বক্ররেখা হয়ে যায়।
     আচ্ছা.......আমাকে মনে পড়ে তোমার?
     জোড়া ফুল দেখলে এখনো কি তুমি-আমি কল্পনা করো? বৃষ্টি এলে রিমঝিম শব্দে আমার কথা শোনো? 
     প্রিয়তমা,,, আমিও বৃষ্টি চিনি, অনুভবে লোনা স্বাদ, বহমান ধারায় সৃষ্ট নদীর স্রোতে বহুরূপী খড়কুটো, নিত্য চলায় ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্ন প্রাসাদ।
     প্রিয়তমা,, কোনো অভিযোগ নেই তোমার প্রতি, ক্যানভাসে আঁকা আছে ছবি তবুতো শূন্য নয়, স্মৃতিরা বেশ উল্লাস করে পাহারা দেবে, এটাই কোথায় পেতাম বলো, ভালোবাসা যার শিমুল ফুল এর বেশি কি প্রাপ্য তার!
     বিরক্ত লাগছে? কত্তো কথা লিখে ফেললাম তাইনা? আচ্ছা ভালো থেকো তবে।
     ইতি
     ভূমিকম্পে নদীর গতিপথ বদলের প্রত্যক্ষদর্শী....আমি।

জাহিদ হাসান
গাইবান্ধা, বাংলাদেশ